kalerkantho


ভুলতে চাচ্ছেন আরিফুল ভুলতে চাচ্ছে বাংলাদেশও

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভুলতে চাচ্ছেন আরিফুল ভুলতে চাচ্ছে বাংলাদেশও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিলেট টেস্টের দুই ইনিংসে তিনি করেছেন অপরাজিত ৪১ ও ৩৮ রান। এমন বিশেষ কিছু নয় যদিও, তবু টেস্ট অভিষেকে আরিফুল হকের ওই ইনিংস দুটির গুরুত্ব আসলে রান দিয়ে বোঝানো যাবে না কিছুতেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে অল আউট বাংলাদেশের লজ্জাবনত মুখটা আরো রাঙা হতো যদি আরিফুল সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংস না খেলতেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও যখন দল ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে ব্যর্থ, তখনো টেল এন্ডারদের নিয়ে নিঃসঙ্গ লড়াই চালিয়ে গেছেন আরিফুল। চার টেস্টের টানা অষ্টম ইনিংসে দুই শর কমে অল আউট বাংলাদেশের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ রান।

অভিষেকেই সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা বড় এক পরীক্ষায় বসিয়ে দিয়েছিল আরিফুলকে। সে পরীক্ষা তাঁর মধ্যে দিয়েছে এই আত্মোপলব্ধির জন্মও, ‘প্রথম টেস্ট আমার জন্য ভালোই গিয়েছে। আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বোলাররা বাজে বল দেবে না। সেটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যেটা বোঝা দরকার ছিল, তা আমি বুঝতে পেরেছি। এই পর্যায়ে খেললে চিন্তা-ভাবনায় যে পরিবর্তনটা আসে, সেটি আমার মধ্যে এসেছে।’

এসেছে বলেই উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকার একটুখানি কৃতিত্বের তৃপ্তিতেই নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চান না। তাই যা করার করেছেন ভেবে সিলেট টেস্টের ব্যাটিংটা ভুলে যেতে চান সবার আগে, ‘এখনো ওরকম কিছু করিনি। আমার চিন্তা বড় কিছু করার। চাই নিজের শতভাগ না পারলেও যেন ৯০ ভাগ দিতে পারি। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকব। নিজের কাজটা কিভাবে ভালো করা যায়, সেই চেষ্টা করে যাব। সামনে কিভাবে ভালো করা যায়, সেটিই মূল ভাবনা। সিলেটে যে রান করেছি, সে ব্যাপারটি ভুলে যাচ্ছি।’

আরিফুল তবু কিছু রান করেছেন এবং করেও সে কথা ভুলে যেতে চাচ্ছেন। কিন্তু যাঁরা রান করেননি, তাঁরা? তাঁদের তো সিলেট টেস্টের কথা আরো বেশি ভুলে যাওয়ার তাগিদ থাকার কথা। আরিফুলের কথায় মনে হলো, পুরো বাংলাদেশ দলই এখন সিলেট ভুলে মিরপুরে ডুবে যেতে চাইছে, ‘আমরা যদি শেষ ম্যাচটি নিয়ে চিন্তা করি, তাহলে আমরা মানসিকভাবে আরো বাজে অবস্থায় থাকব। তো আমরা ওটা নিয়ে চিন্তাই করব না। ম্যাচ এবং বল টু বল ফোকাস করব।’ মিরপুরে জিতে সিরিজ বাঁচানোর চেষ্টাও সফল হবে বলে বিশ্বাস তাঁর। সে জন্য এই শর্তটিও জুড়ে দিচ্ছেন তিনি, ‘দল হিসেবে যদি আমরা ইতিবাচক খেলা খেলতে পারি, তাহলে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ম্যাচ জেতা কঠিন হবে না।’ জিতে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে একাদশে অবধারিত পরিবর্তনের ইঙ্গিতও তো মিলল আরিফুলের কথায়, ‘কোনো চাপ নেই আমাদের। কারণ আমাদের মূল বোলার মুস্তাফিজ খেলেনি। ও ফিরলে আমরা জিততে পারব। ইতিবাচক আছি আমরা। জীবন-মরণ ম্যাচে যেভাবেই হোক আমরা জিতব।’

জীবন-মরণ ম্যাচে নিশ্চয়ই সবার এই চাওয়াও থাকবে, আবার যেন টেল এন্ডারদের নিয়ে মান বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় নামতে না হয় আরিফুলকে। দলের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা মিরপুরে নিজেদের ফিরে পেলে দলের বড় সংগ্রহ গড়া নিয়েও থাকবে না কোনো অনিশ্চয়তা। তবু নিজের পালায় টেস্ট দলে জায়গা পাকা করার জন্যই ব্যাটিং করতে চান আরিফুল, ‘আমার স্বপ্ন ছিল টেস্ট খেলার। আমি চাই দীর্ঘদিন টেস্ট খেলতে বা জাতীয় দলে থাকতে। সব ফরম্যাটেই খেলার ইচ্ছে আছে। আমার চাওয়া হলো যে ফরম্যাটে যেভাবে দরকার, সেভাবেই খেলব।’

সিলেটেও খেলেছেন সেভাবেই। পরিস্থিতির দাবি মেটানো ব্যাটিং করেছেন সাধ্যমতো। তবু সামনে তাকানোর চিন্তায় সেই টেস্টের কথা ভুলে থাকছেন আরিফুল। ভুলে থাকতে চাইছে বাংলাদেশও। মিরপুর টেস্টের আগে দল হিসেবে আপাতত এই জায়গাটিতেই একজোট হতে চাইছে পুরো বাংলাদেশ শিবির!



মন্তব্য