kalerkantho


বেলফোর্টের নাটকীয় গোলে সেমিতে আবাহনী

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বেলফোর্টের নাটকীয় গোলে সেমিতে আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাঠে লড়াই হয়েছে সমান-সমান। কেউ কারো চেয়ে কম যায় না, জিততে পারত যে কেউ। ম্যাচ শেষের মিনিটখানেক আগে বেলফোর্টের টোকা আরামবাগের জালে জড়িয়ে গেলে দারুণ ক্লাইমেক্সে শেষে হয় ম্যাচ। আবাহনী ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠে গেলে ‘অ্যান্টি-ক্লাইমেক্স’ শুরু হয় আরামবাগের হাতে রেফারি প্রহারে!

সুন্দর ম্যাচটি আর সর্বাঙ্গসুন্দর থাকেনি। ম্যাচ শেষের মিনিটখানেক আগে খাওয়া গোলটি মেনে নিতে পারেনি আরামবাগ। রেফারি সুজিত ব্যানার্জি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাগআউট থেকে তিন সাপোর্টিং স্টাফ ও এক কর্মকর্তা গিয়ে পিটিয়েছে রেফারিদের। বিশেষ করে লাইন্সম্যান হারুনুর রশিদকে কিল-লাথি মেরেছে। মাথায় ছুড়ে মেরেছে আইস-বক্স। বিস্ময়কর হলো, পুলিশের সামনে ঘটেছে এই ঘটনা। রেফারিকে পিটিয়ে ওই কর্মকর্তাসহ তিন সাপোর্টিং স্টাফ (হলুদের ওপর কালো স্ট্রাইপ) বীরদর্পে হেঁটে ফিরে গেছেন আরামবাগ ডাগআউটে! পুলিশ কাউকে টোকাটিও দেয়নি, গ্রেপ্তারও করেনি। মার খাওয়াই যেন রেফারির নিয়তি।

স্বাধীনতা কাপে সর্বশেষ দেখায় আবাহনীকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আরামবাগ উঠেছিল সেমিফাইনালে। সুবাদে তাদের ভেতর একটা আত্মবিশ্বাস দানা বেঁধেছিল। ম্যাচেও সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ৮ মিনিটে আবাহনীর জালে বল পাঠিয়ে তারা এগিয়ে যায়। বাঁ-দিক থেকে নাইজেরিয়ান চিনেডো ম্যাথুর লবটি বক্সের ওপরে বুকে নামিয়ে পল এমিল ঠেলে দেন সামনে। সামনে আবাহনীর তিনজন প্রহরা দিলেও শাহরিয়ার বাপ্পীর কোনাকুনি শট জালে পৌঁছে যায় সবাইকে ফাঁকি দিয়ে। শুরুতেই পিছিয়ে পড়া চ্যাম্পিয়নরা ৩০ মিনিটে ম্যাচে ফেরে বেলফোর্টের দুর্দান্ত মুভে। এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড বক্সে তিনজনকে পরাস্ত করে শট নিলে ফিরিয়ে দেন আরামবাগ গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম। ফিরতি বলে নাইজেরিয়ান সানডের হেডও ফেরে এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে। তাতেও শেষরক্ষা হয়নি, সানডেরই পরের শটটি খেলায় ফিরিয়ে আনে আবাহনীকে।

ফেরাটাও মিনিট তিনেকের বেশি স্থায়ী হয়নি। বাপ্পীকে ফাউল করে গোলরক্ষক শহীদুল আলম আবার আবাহনীর গোল হজমের পথ সুগম করে দেন! উজবেক ডিফেন্ডার বোবোজোনভের পেনাল্টি গোলে দ্বিতীয়বারের মতো লিড নেয় আরামবাগ। সেটাও প্রথমার্ধ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি। ৪৪ মিনিটে সোহেল রানার ডান পায়ের দুর্দান্ত এক শটে ম্যাচ সমতায় ফিরিয়ে টেনশন ঝেড়ে আবাহনী যায় বিরতিতে। ফেরার পরও দুপক্ষের সমান তোপ বজায় থাকে ম্যাচে। ৬৩ মিনিটে রায়হানের লম্বা থ্রো-ইন আরামবাগ রক্ষণে বিপদ ছড়িয়ে গেলেও ম্যাচের স্কোরলাইনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নির্ধারিত সময় শেষে যেন অতিরিক্ত সময়ের দিকেই পা বাড়িয়ে দিয়েছে ম্যাচ। না। তার আগেই ইনজুরি টাইমে নাবিব নেওয়াজের ফ্রি-কিকে ক্লাইমেক্সের জন্ম। কিকটি তপুর মাথা ছুঁয়ে যাওয়ার পর বেলফোর্টের মহামূল্য টোকায় আবাহনী পৌঁছে যায় ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে। এই গোলের মাধ্যমেই হাইতিয়ান খুলেছেন ঢাকা মাঠে গোলের খাতা।



মন্তব্য