kalerkantho


ডাগআউটে বিস্ফোরণ

রোমাঞ্চের ম্যাচ উত্তেজনায় শেষ

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



রোমাঞ্চের ম্যাচ উত্তেজনায় শেষ

ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটের গোলে বুক ভাঙল হোসে মরিনহোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। ৯৬ মিনিটে রস বার্কলের গোলে রোমাঞ্চকর ২-২ ড্রতে মাঠ ছাড়ল চেলসি-ম্যানইউ। এর পরই মরিনহোর তেতো অভিজ্ঞতা।

 

মধুর জয় থেকে ছিলেন কয়েক সেকেন্ড দূরে। সেই সময়টাই এলো না আর। ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটের গোলে বুক ভাঙল হোসে মরিনহোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। ৯৬ মিনিটে রস বার্কলের গোলে রোমাঞ্চকর ২-২ ড্রতে মাঠ ছাড়ল চেলসি-ম্যানইউ। এর পরই মরিনহোর তেতো অভিজ্ঞতা। সমতা ফেরানোর পর অতি উত্তেজনায় চেলসির দ্বিতীয় সহকারী কোচ মার্কো ল্যানি চলে এসেছিলেন ম্যানইউর ডাগআউটে। মরিনহোর সামনেই শূন্যে পাঞ্চ ছুড়ে করছিলেন উদ্‌যাপন। তিনি নিজেদের সীমানায় ফেরার সময়ই উত্তেজনায় চেয়ার ছেড়ে তাড়া করেন মরিনহো! নিরাপত্তারক্ষীরা থামান তাঁকে। এরপর দ্বন্দ্বে জড়ান বেঞ্চ আর মাঠের খেলোয়াড়রাও। রোমাঞ্চের ম্যাচটা শেষ হয় উত্তেজনায়।

দুদফায় চেলসির ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন মরিনহো। জিতেছেন তিন তিনটি প্রিমিয়ার লিগ। অথচ ২০১৬ সালে ম্যানইউর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন তিনবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এসে জেতা হয়নি তাঁর। গতকালের আগে এ মাঠে গোলই পায়নি ম্যানইউ! গতকাল পিছিয়ে পড়ে অ্যান্থনি মার্সিয়ালের জোড়া গোলে ৯৫তম মিনিট পর্যন্ত ছিল ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে। মনে হচ্ছিল এত দিনে দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ছে। কিন্তু রস বার্কলের গোলে মাঠ ছাড়তে হলো ড্র নিয়ে। ম্যাচ শেষে বেশি আলোচনায় অবশ্য মার্কো ল্যানির দিকে মরিনহোর তেড়ে যাওয়াটাই। তবে ল্যানি ক্ষমা চাওয়ায় শান্তির পতাকা ওড়ালেন ম্যানইউ বস, ‘মরিসিও সারির সহকারী ও। গোলের পর ভীষণ অভদ্র আচরণ করেছে তবে সারি সামলেছে ব্যাপারটা। ম্যাচের পর দুজনই ক্ষমা চায় আমার কাছে। আমি ক্ষমা করেছি, ঘটনার শেষ সেখানেই। আমি ওর নাম পর্যন্ত জানি না, জানতেও চাই না। সব ঠিক হয়ে গেছে।’ সারি নিজেও বিব্রত ব্যাপারটা নিয়ে। এটা বেশি দূর না গড়ানোয় খুশি তিনি, ‘কী ঘটেছে দেখিনি আমি। বুঝতে পেরেছি ঘটনার উল্টো দিকে (আমরাই দায়ী) ছিলাম। কথা বলেছি মরিনহোর সঙ্গে। কোচিং স্টাফের একজনের সঙ্গেও কথা বলেছি। ব্যাপারটা বেশি খারাপের দিকে না গড়ানোটা স্বস্তির।’

শেষের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা বাদ দিলে রোমাঞ্চের বারুদে ভরপুর ছিল ম্যাচটি। আন্তোনিও রুদিগারের ২১ মিনিটের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল চেলসি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্য ভেদ করেন তিনি। এই মৌসুমে লিগে কর্নার থেকে চার চারটি গোল হজম করল ম্যানইউ। বিরতির আগে আর গোল পায়নি কোনো দল। ৫৫ মিনিটে সমতা ফেরান অ্যান্থনি মার্সিয়াল। অ্যাশলি ইয়াংয়ের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে গোল ফরাসি এই তরুণের। ৭৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও তাঁর। হুয়ান মাতা ও মার্কাস রাশফোর্ডের বল আদান-প্রদান থেকে তৈরি হয়েছিল এই গোলের সুযোগ। রাশফোর্ডের পাস থেকে বক্সের মাথা থেকে নেওয়া শটে লক্ষ্যভেদ তাঁর। আন্দের হেরেরা গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ৮০ মিনিটে। গোলরক্ষক কেপার দুরন্ত সেভে সেই যাত্রা রক্ষা চেলসির। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে মার্সিয়ালকে তুলে নেন মরিনহো। আর অপেক্ষা করছিলেন মধুর শেষ বাঁশির। সেটাই তেতো হয়ে যায় রস বার্কলের গোলে। পোস্টে লেগে বল ফেরার পর রুদিগেরের হেড রুখেছিলেন দে গেয়া। কিন্তু ফিরতি বলে বার্কলের পাঞ্চে কিছু করার ছিল না এই স্প্যানিয়ার্ডের।

৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছিল চেলসি।  তবে গতকালই বার্নলিকে ৫-০ গোলে হারিয়ে এক নম্বরে উঠে আসে ম্যানচেস্টার সিটি। ৯ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ২৩। সমান ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানইউ এখন আট নম্বরে। ম্যাচ শেষে হোসে মরিনহোর হতাশা, ‘দারুণ একটা ম্যাচ যার ফল শুধু অন্যায্য। এটাই ফুটবল। আমরা শ্রেয়তর দল ছিলাম এমনকি বিরতির আগে পিছিয়ে থাকার সময়ও। ট্যাকটিক্যালি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের ছিল। শুধু ফলটা গেছে আমাদের বিপক্ষে।’ চেলসি ম্যানেজার মরিসিও সারিও খুশি নন এমন ফলে, ‘শরীরনির্ভর ম্যাচ ছিল এটা, আর শক্তির খেলায় ম্যানইউ সব সময় ভালো। আমরা জিততে পারতাম ম্যাচটি।’ বিবিসি



মন্তব্য