kalerkantho


নতুন করে পুরনো লড়াই

অজুহাত দেবেন না মাশরাফি

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



অজুহাত দেবেন না মাশরাফি

এশিয়া কাপে দলের ওপর দিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা গেছে। এক এক ম্যাচে এক একজন করে অসুস্থ হচ্ছিল। দুজন তো দল থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। এখন আমরা জানি ওই দুজন খেলবে না। রুবেল হাসপাতালে ছিল, ম্যাচের দিন সকালে ওর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চেষ্টা থাকবে, সেরা দলটাই গড়া।

 

প্রত্যাশা

অনেক দিন পর ঘরের মাঠে খেলতে নামছি। সবাই আত্মবিশ্বাসী। সাকিব তামিম থাকবে না, এটা আগে থেকেই সবাই জানে। সেভাবেই সবাই প্রস্তুতি নিয়েছে, কোচরাও সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য যা যা দরকার করেছেন। কাল (আজ) খেলা, সবাই যেটা চাচ্ছে, সেটা যেন করতে পারি।

 

দলীয় সমন্বয়

এশিয়া কাপে দলের ওপর দিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা গেছে। এক এক ম্যাচে এক একজন করে অসুস্থ হচ্ছিল। দুজন তো দল থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। এখন আমরা জানি ওই দুজন খেলবে না। রুবেল হাসপাতালে ছিল, ম্যাচের দিন সকালে ওর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চেষ্টা থাকবে, সেরা দলটাই গড়া। আর যেকোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য কিছু নতুন  খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া হয়েছে। সামনে বিশ্বকাপকে চিন্তা করে। তাদের দেখে নেওয়ার এটাই সুযোগ। সেটাও মাথায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ম্যাচ জেতাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

উইকেট প্রসঙ্গে

মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা খুবই কঠিন, আমরা সবাই জানি। মিরপুরের উইকেট ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন আচরণ শুরু করে। আগে থেকে বলা খুবই কঠিন। সাধারণত ২৫০-৬০ রান হলে ম্যাচ ভালো হয়, আগে ব্যাট করা দলের জেতার সুযোগ বেশি থাকে। শুরুতেই যে বল নিচু হবে বা বাঁক খাবে, এমন আশা অবশ্যই করছি না। ভালো উইকেটে খেলতে চেয়েছি, এখন ভালো উইকেট হলেই হয়। কিন্তু মিরপুরের উইকেট তো, আগে থেকে অনুমান করা একটু কঠিন।

 

বোলিং কম্বিনেশন

গত তিন-চার বছরে ৯৯ শতাংশ সময় তিনজন ফাস্ট বোলারকে ব্যাক আপ করেছি, যেকোনো অবস্থায় ও যেকোনো উইকেটে। আমরা পেস বোলিংকে সব সময় প্রাধান্য দিয়েছি। আর আমাদের পেস বোলিং বিভাগ ভালো করছেও। খারাপও করেছে, কিন্তু ভালোর সংখ্যাটা বেশি এবং ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স অনেক আছে। সেই সূত্রটাই ধরে রাখব। একই সঙ্গে উপমহাদেশ ও মিরপুরের উইকেটে স্পিনের বড় ভূমিকা থাকে। আমরা স্পিন দিয়ে তাদের এর আগে অনেক সময় অল আউট করেছি। এটা অবশ্যই আমাদের মাথায় আছে এবং থাকবে। পেস বোলারদের ফ্ল্যাট উইকেট, সিমিং উইকেট সব জায়গায় আমরা সুযোগ দিয়েছি, সেটাই দিয়ে যেতে চাই। 

 

চোট সমস্যা

আমি শুধুই ওয়ানডে খেলি তাই আমাকে ওভাবেই মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হয়। টুকটাক সমস্যা হলেও খেলি। কারণ আমি তো সবগুলো সংস্করণে খেলি না। পরের সিরিজের চিন্তা করলেও সব সময়ই ‘এই সিরিজটা খেলা গুরুত্বপূর্ণ’ এভাবে ভাবতে হয়। অন্যদের ক্ষেত্রে যেটা হয়, তারা সব সংস্করণে খেলে। কেউ যদি দলে না থাকে সে চার দিনের ম্যাচেও খেলতে পারবে। সেটা আমার ক্ষেত্রে হয় না। আমাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর অনুশীলনের ওপর নির্ভর করতে হয়। আল্লাহর রহমতে ভালোর দিকে আছি। মুশফিকও ভালো বোধ করছে।

 

ঘরের সুবিধা

এটা কিন্তু আমরাও বিশ্বাস করি মিরপুরের উইকেট নিয়ে কিছু অনুমান করা কঠিন। হঠাত্ করেই আচরণ বদলে ফেলে। হঠাত্ করে টার্ন বা বল নিচু হয়ে আসছে। তখন কিন্তু যারা ব্যাটিং করছে তাদেরও মানসিকতায় পরিবর্তন করতে হচ্ছে। বাইরে যারা থাকে তাদেরও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন করতে হয়। অপ্রত্যাশিত হলেও আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কারণ বেশির ভাগ সিনিয়র ক্রিকেটারই প্রায় ১০ বছর ধরে এই উইকেটে খেলছে। তাই এই জায়গায় অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও যারা খেলছে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আপনি যদি দেখেন এক ক্ষেত্রে সুবিধাও থাকে। আচরণ যখন বদলাতে থাকে তখন প্রতিপক্ষের জন্য একটু কঠিন হয়। আমরা যখন ২০১৫ থেকে জেতা শুরু করেছি, তখন থেকে আমার বিশ্বাস এই মাঠে আমাদের রেকর্ড ভালো। আমার মনে হয় এই উইকেটে আমরা নিজেদের বেশ মানিয়ে নিয়েছি। চট্টগ্রামে সাধারণত যেটা হয়; ব্যাটিং উইকেট হয়, ভালো উইকেট হয়। মিরপুরের উইকেটটা একেবারে ওই রকম না। একটা ইনিংসের পরে অন্য রকম আচরণ শুরু করে। এ জন্য বলছিলাম অনুমান করা কঠিন। তবে আমি নিশ্চিত এত দিন খেলার পরে এমন কোনো অজুহাত না দেওয়াই উচিত।

 

মুখোমুখি

ম্যাচ : ৬৯

বাংলাদেশের জয় : ৪১

জিম্বাবুয়ের জয় : ২৮

দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর

বাংলাদেশ : ৩২০/৮, বুলাওয়ে ২০০৯

জিম্বাবুয়ে ৩২৩/৭, বুলাওয়ে ২০০৯

দলীয় সর্বনিম্ন

বাংলাদেশ ৯২, নাইরোবি ১৯৯৭

জিম্বাবুয়ে : ৪৪, চট্টগ্রাম ২০০৯

বড় ব্যবধানে জয়

বাংলাদেশ : ১৪৫ রানে এবং ৯ উইকেটে

জিম্বাবুয়ে : ১৯২ রানে এবং ৮ উইকেটে

ব্যক্তিগত রান

বাংলাদেশ : ১৪০৪, সাকিব আল হাসান

জিম্বাবুয়ে : ১২২২, ব্রেন্ডন টেলর

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর

বাংলাদেশ : ১৫৪ তামিম ইকবাল

জিম্বাবুয়ে : ১৯৪* চার্লস কভেন্ট্রি

এক সিরিজের সর্বোচ্চ রান

বাংলাদেশ : ৩০০ তামিম ইকবাল

জিম্বাবুয়ে : ২৯৬ চার্লস কভেন্ট্রি

মোট উইকেট

বাংলাদেশ : ৭৪টি, সাকিব আল হাসান

জিম্বাবুয়ে : ৩৫টি, রেমন্ড প্রাইস

সেরা বোলিং

বাংলাদেশ : ৫/২৯, আব্দুর রাজ্জাক

জিম্বাবুয়ে : ৬/২০ ব্রায়ান স্ট্র্যাং

এক সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট

বাংলাদেশ : ১৫টি, আব্দুর রাজ্জাক

জিম্বাবুয়ে : ১১টি, ব্রায়ন ভিটোরি



মন্তব্য