kalerkantho


ব্যাংকার আর পিটি স্যার যখন মুখোমুখি

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ব্যাংকার আর পিটি স্যার যখন মুখোমুখি

প্রথম জীবনে সারি ছিলেন ইতালির একটি ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগে। আর মরিনহো ছিলেন লিসবনের পাশের একটি শহরের মাধ্যমিক স্কুলে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক। দুজনের কেউ ছিলেন না পেশাদার ফুটবলার, অথচ দুজনেই এখন শীর্ষ ফুটবল দলের কোচ।

বেতনের অঙ্কটা আকর্ষণীয় হলেও ব্যাংকের চাকরিতে বৈচিত্র্য নেই। বছরজুড়ে সেই একই কাজ, অন্যের টাকার হিসাব কষে যাওয়া! স্কুলে পড়ানোটা তাঁর চেয়ে কিছুটা আনন্দময়। প্রতিবছর ক্লাসে আসে অনেক নতুন মুখ, তাদের বড় হয়ে উঠতে দেখা। তবে শ্রেণিশিক্ষকদের নিয়ে অনেক প্রিয় স্মৃতি থাকলেও পিটি স্যার বা ড্রিল স্যারকে নিয়ে আনন্দময় অভিজ্ঞতা খুব কমই থাকার কথা। কারণ পিটি-ড্রিল মানেই তো কঠিন সব শারীরিক কসরত আর শাস্তি। এ রকম দুটি পেশা থেকে শীর্ষ ফুটবল কোচ? যাত্রাটা অভাবনীয়। কিন্তু মুরিসিও সারি আর হোসে মরিনহোর গল্পটা এমনই। প্রথম জীবনে সারি ছিলেন ইতালির একটি ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগে। আর মরিনহো ছিলেন লিসবনের পাশের একটি শহরের মাধ্যমিক স্কুলে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক। দুজনের কেউ ছিলেন না পেশাদার ফুটবলার, অথচ দুজনেই এখন শীর্ষ ফুটবল দলের কোচ, নামের পাশে ঈর্ষণীয় মাত্রার সাফল্য এবং চোখ কপালে তোলা বেতন। কাজের জন্য এখনো লন্ডন, জুরিখ আর লুক্সেমবার্গে যেতে হয় সারিকে, তবে সেটা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের কাজে নয় বরং ফুটবল দল নিয়ে! আর মরিনহোর শারীরিক শিক্ষার ক্লাসে ছাত্রদের তালিকায় আছে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারের নামও! আজ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মুখোমুখি হবে তাঁদের দল, চেলসি আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বিশ্বের সেরা সব ফুটবলারের ঠিকানা এই দুই ক্লাবে। তাঁরা হয়তো ভেবে অবাকই হবেন, কখনো পেশাদার ফুটবলে না খেলা, সাবেক দুই ব্যাংকার আর পিটি স্যারের কথামতোই খেলতে হচ্ছে তাঁদের!

ইস্পাত কারখানায় নির্মাণ শ্রমিক, ব্যাংকের চাকুরে; দুটি কাজই করেছেন সারি। ভাগ্য পরখ করেছিলেন ফুটবলেও। কিন্তু উতরাতে পারেননি তোরিনো আর ফিওরেন্তিনার ট্রায়াল। দিনে ব্যাংকের চাকরি, বিকেলে খেলা; এভাবেই অপেশাদার ক্লাবের সঙ্গে জুড়ে ছিলেন সারি। কোচিং পেশায় নাম লিখিয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সে। এখন ৬০ চলছে। এরই মধ্যে ইতালির পেশাদার ফুটবলে সেরা কোচের চারটি পুরস্কার হাতে তুলেছেন সারি। সিরি ‘এ’র বর্ষসেরা কোচ, সিরি ‘এ’র নিচের লিগের সেরা কোচ, ইতালির সংবাদপত্রের চোখে সেরা কোচ ও পেশাদার ফুটবলাদের ভোটে সেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন সারি। যে দলগুলো তাঁকে ট্রায়ালেই নেয়নি, তাদের চেয়েও ভালো দলের কোচ হয়েছেন। চেলসি তাঁকে বেতন দিচ্ছে বছরে ছয় মিলিয়ন পাউন্ড। ব্যাংকের চাকরিতেই আটকে থাকলে এখন কত বেতন হতো সারির?

মরিনহোর গল্পটা তো আরো মজার। সুকুমার রায়ের ‘ছিল বেড়াল, হয়ে গেল রুমাল’-এর মতোই ছিলেন দোভাষী, হয়ে গেলেন কোচ! তাঁর বাবা ফিলিক্স ফুটবলার ছিলেন, মরিনহো সে পথে কিছুদূর গিয়ে বুঝেছেন এটা তাঁর কম্ম নয়। কোচিং ডিগ্রি নেওয়ার আগে তিনি স্কুলে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ছিলেন। জানা গেছে ভালো, কঠোর তবে পরিশ্রমী এবং মেয়ে মহলে বিশেষ জনপ্রিয় ছিলেন মরিনহো! স্থানীয় দলের কোচ, ফুটবল স্কাউট হিসেবে দিন কাটছিল তাঁর, একসময় হয়ে গেলেন স্পোর্টিং লিসবনে যোগ দেওয়া ববি রবসনের দোভাষী। এর পরের গল্পটা তো সবারই জানা!

আজ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে সাবেক সেই পিটি স্যার আর ব্যাংকারই মুখোমুখি। যে জায়গাটা আবার মরিনহোর সাবেক ঠিকানাও। ব্যাংকারে হিসেবি মাথা, তাইতো চেলসি আছে লিগ টেবিলের দুইয়ে। অন্যদিকে পিটি স্যারের তর্জন-গর্জনে ত্যক্তবিরক্ত ক্লাসের (পড়ুন ক্লাবের) ভালো ছাত্ররা (ফুটবলার)। মেইল অনলাইন



মন্তব্য