kalerkantho


দুটো মাঠ আমিই এনে দিয়েছি হকিকে

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



দুটো মাঠ আমিই এনে দিয়েছি হকিকে

ছবি : লুৎফর রহমান

ছিলেন আক্ষরিক অর্থেই জমিদারপুত্র। কে জানে সে কারণেই কিনা, রাগটা একটু বেশিই মাহমুদুর রহমান মুমিনের। তবে সে রাগের অনেকটা জুড়েই জেদ। পশ্চিম পাকিস্তানিদের পক্ষপাতের প্রতিবাদ করেছেন তিনি প্রবল জেদে। মাঠ থেকে সংগঠক জীবনের কোথাও ছাড় দেননি। দেননি বলেই এ দেশে হকির উত্থানপর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর। নোমান মোহাম্মদকে সেসব দিনের গল্প শুনিয়েছেনও

প্রশ্ন : অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী পাকিস্তানের বিপক্ষে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান দলের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ওই ম্যাচটি দিয়ে সাক্ষাৎকারটি শুরু করতে চাই। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরের সে ম্যাচে আপনি খেলোয়াড় ছিলেন না। কিন্তু বাঙালিদের নিয়ে দল তৈরিতে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন বলে জানি। এ গল্পটি যদি একটু বলেন?

মাহমুদুর রহমান মুমিন : আমি পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হই ১৯৭০ সালে। সভায় পাঞ্জাবি-পাঠান-সিন্ধি-বেলুচের মধ্যে আমিই একমাত্র বাংলাদেশি; আমাকে ওরা ঠাট্টা করে বলত, ‘কাবাব মে হাড্ডি’। ইস্ট পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের হকি সেক্রেটারিও তখন আমি। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর উপকূলে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় হয়। অনেক লোক মারা যান তাতে। তাদের সাহায্যার্থে এই হকির প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয় ডিসেম্বরের শেষ দিকে। পাকিস্তান দল মাত্রই এশিয়ান গেমস হকিতে স্বর্ণপদক জিতে ফিরছে ব্যাংকক থেকে। ফেরার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে খেলবে ম্যাচটি। এ নিয়েই বেধে যায় গ্যাঞ্জাম।

প্রশ্ন : কী গ্যাঞ্জাম?

মুমিন : একদিকে পাকিস্তানের মূল দল। মূল দলের বাইরেও তো খেলোয়াড় থাকবে। ওরা খেলবে অন্য দলে, সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের চার-পাঁচজন। এই ছিল এখানকার গভর্নর আহসান, ইপিএসএফের হকি কমিটির চেয়ারম্যান কর্নেল আকরামের প্রস্তাব। আমি এর প্রতিবাদ করি। বলি, ‘এটা হতে পারে না। পাকিস্তান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন, এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। কিন্তু প্রদর্শনী ম্যাচ খেললে ওদের বিপক্ষে ‘খালেজ’ পূর্ব পাকিস্তান দলই খেলবে।

প্রশ্ন : খালেজ মানে?

মুমিন : খালেজ মানে পিউর। মানে পুরোপুরি পূর্ব পাকিস্তানিদের নিয়ে গড়া দল। নইলে এ খেলা হবে না। ওরা বলে, এই পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললে তো অনেক গোলে হেরে ইজ্জত বরবাদ হয়ে যাবে। আমি বলি, আমাদের সুযোগ দিয়ে দেখুন। অনেক তর্ক-বিতর্কের পর রাজি করাতে পারি। সে খেলায় আমরা সমানে সমানে লড়াই করে মাত্র এক গোলে হেরে যাই। আমি আর আলমগীর মোহাম্মদ আদেল ছিলাম ওই খেলার আম্পায়ার। দ্বিতীয়ার্ধে আলমগীর ওদের একটি ভুল শর্ট কর্নার দেয়। তা থেকেই গোল খাই। নইলে তো অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী পাকিস্তান দলের সঙ্গে ড্র প্রায় করেই ফেলেছিলাম!

প্রশ্ন : পূর্ব পাকিস্তানের সেই দলে কারা কারা খেলেছিলেন?

মুমিন : গোলরক্ষক মাজেদ, রাইট ব্যাক শামসুর বারী, লেফট ব্যাক সাব্বির ইউসুফ, রাইট হাফ মহসিন, সেন্টার হাফ সাদেক, লেফট হাফ ইব্রাহিম সাবের, রাইট আউট প্রতাপ, রাইট ইন এহতেশাম, সেন্টার ফরোয়ার্ড সোনা মিয়া, লেফট ইন রুস্তম, লেফট আউট কায়েস। খেলার পর শেরাটনে কর্নেল আকরাম আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘তুমি আমাকে মাফ করে দিও। তোমার ছেলেরা এত তেজ নিয়ে খেলবে, আমি ভাবতেই পারিনি।’ এরপর জাপানের বিপক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচেও শুধু পূর্ব পাকিস্তানের ছেলেদের নিয়ে তৈরি দল খেলিয়েছি।

প্রশ্ন : স্বাধীন বাংলাদেশের হকি সংগঠনেও আপনার ভূমিকা অগ্রগণ্য। সে গল্প শুনব। তার আগে আপনার শৈশব-কৈশোর আর খেলোয়াড়ি জীবন থেকে একটু ঘুরে আসতে চাই।

মুমিন : আমার জন্ম ১৯৩৬ সালের ২১ মার্চ মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। আমাদের জমিদার পরিবার। বাবা আবদুল গাফফার চৌধুরী কলু মিয়া; মা ওয়াসিমা চৌধুরী। আমরা তিন ভাই, এক বোন। আমি তিন নম্বর। আমার তিন বছর বয়সে মা মারা যান। আমাকে ঢাকায় বড় ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সাত বছর বয়সে।

প্রশ্ন : খেলাধুলায় আগ্রহ কি ছোটবেলা থেকেই?

মুমিন : হ্যাঁ। ফুটবল-হকি দুটোই খেলতাম। ফুটবলে আমার বড় ভাই আতাউর রহমান চৌধুরী এবং ছোট চাচা আবদুল লতিফ চৌধুরী আসাম রাজ্যের ফুলব্যাক হিসেবে খেলেছেন। আমি নিজে ছিলাম আরমানিটোলা স্কুলের অধিনায়ক। বাসা থেকে খেলার ব্যাপারে উৎসাহই দেওয়া হতো সব সময়।

প্রশ্ন : ফুটবল না হকি, কোনটি দিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে আপনার খেলা শুরু?

মুমিন : ফুটবল। থাকতাম বেচারাম দেউড়িতে। ওখানকার বিখ্যাত ক্লাব মাহুতটুলী দ্বিতীয় বিভাগে নেমে গেল। আমাকে ধরে নিয়ে ওই ক্লাবে খেলানো শুরু। খেলতাম ডিফেন্সে। রাইট হাফ, লেফট হাফ, সেন্টার হাফ—যখন যে জায়গায় প্রয়োজন। এই মাহুতটুলীর হয়ে সিগন্যাল উইংয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি মনে আছে। ডিফেন্সে আমি একা ‘পিটিয়ে’ দল রেখে দিলাম; ওদের কোনো গোল করতে দিলাম না। ওই খেলা দেখতে এসেছিল ভিক্টোরিয়া-ওয়ালারা। ওরা আমার খেলা দেখে বলল, ‘আরে, এ ছোকরা কোথাকার!’ আর ছাড়ল না। পরের বছরই ভিক্টোরিয়ায় খেলায় আমাকে।

প্রশ্ন : আপনার বয়স তখন?

মুমিন : মাত্র ম্যাট্রিক দিয়েছি। ১৯৫৪ সালের কথা। ওই বছরই পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের হয়ে আন্ত স্কুল প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য পেশোয়ার যাই। ট্রেনে তিন রাত যাত্রা শেষে পৌঁছাই সেখানে। নেভির কাছে এক গোলে হেরে যাই আমরা। যা-ই হোক, ওই পেশোয়ার থেকে হকি খেলে ফেরার পরই ভিক্টোরিয়ার হয়ে ঢাকায় প্রথম বিভাগে ফুটবল খেলা শুরু।

প্রশ্ন : আর প্রথম বিভাগ হকি?

মুমিন : ভিক্টোরিয়ার হয়েই। ওরা বলল, হকি খেলবে? আমার তো আর কোনো আপত্তি থাকার কথা না। খেললাম। এখানেও হাফ লাইনে খেলতাম।

প্রশ্ন : টাকা-পয়সা কেমন পেতেন?

মুমিন : (হাসি) টাকা-পয়সা পাব কেন!

প্রশ্ন : ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলছেন, হকি খেলছেন—তাঁরা পারিশ্রমিক দেবেন না?

মুমিন : (হাসি) বুঝতে পেরেছি। আমি একটা কথা বলি, ধ্যান করে শুনুন। ওই ১৯৫৩-৫৪ সাল থেকে খেলা শুরু করেছি। খেলেছি স্বাধীনতাযুদ্ধের আগ পর্যন্ত। ফুটবলটা অবশ্য ছেড়ে দিই ১৯৫৭ সালেই, সেটি আরেক গল্প। যা বলছিলাম, এই দীর্ঘ সময়ে ক্লাবের খেলার পাশাপাশি প্রচুর খেপও তো খেলতে যেতাম। কিন্তু সব মিলিয়ে আমি টাকা নিয়েছি কত জানেন? মাত্র দুই শ টাকা। একবার ঈদের আগে ভিক্টোরিয়া ক্লাব থেকে এক শ টাকা দিল। আরেকবার চাঁদপুরে খেপ খেলে এক শ।

প্রশ্ন : অন্য সময় টাকা নেননি কেন?

মুমিন : আমাদের সময়ে সেভাবে টাকা নেওয়ার রেওয়াজ ছিল না। কর্মকর্তারা জমি বেচে, স্ত্রীর অলংকার বেচে ক্লাব চালান; তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিই কিভাবে! আর আমার তো প্রয়োজন ছিল না, যাঁদের প্রয়োজন তাঁরা নিত। আরেকটি ব্যাপার আছে। আমার গায়ে জমিদারি রক্ত। কেউ টাকা দিয়ে বলবে, ‘টাকা দিয়েছি, খারাপ খেললি কেন?’—এটা সহ্য করব না। সে কারণে ক্লাব তো বটেই, খেপ খেলতে গেলেও টাকা নিইনি। সবাই যে আদর করেছেন, সেটাই পারিশ্রমিক।

প্রশ্ন : অল্প কিছু সময় খেলেই ফুটবল ছেড়ে দিয়েছেন। কেন?

মুমিন : হকিটা সিরিয়াসলি নেব বলে।

প্রশ্ন : হকির প্রতি ভালোবাসাটা বেশি ছিল তাহলে?

মুমিন : তা ছিল। পাশাপাশি আরেকটি ব্যাপারও ছিল। হকি মাঠে মারোয়াড়িরা আমাদের খুব তুচ্ছ করত। বলত, ‘তুম লোক ভাত-মাছলি খাতি হো সালে, কেয়া হকি খেলোগে?’ মানে, আমরা বাঙালিরা মাছ-ভাত খাই বলে শরীরে তাকদ নাই, হকি খেলতে পারব না। ১৯৫৭ সালে লাহোরে হকি ক্যাম্প করতে গিয়ে ওই কথা শুনে রাগ হয় খুব। ওদের চ্যালেঞ্জটা নিই। নেব না কেন? আমার ওস্তাদ খাজা ইউসুফ রেজা, তাঁকে কলকাতার লোকেরা বলত ‘ঢাকা কা মলমল’। ইউপি’র যেমন ধ্যানচাঁদ, ঢাকার তেমনি খাজা ইউসুফ রেজা। হকির শিল্পী তিনি, সে কারণেই ‘মলমল’ কাপড়ের নামে নাম। তো আমার মনে হয়, ওস্তাদ যদি পারেন, তাহলে আমিও পারব। মাড়োয়াড়ি ব্যাটাদের দেখিয়ে দেব। সে কারণেই লাহোরের ক্যাম্প থেকে ফিরে ফুটবল ছেড়ে হকিতে মনোযোগ দিই পুরোপুরি। এ ছাড়া ফুটবল ছাড়ার আরো একটি কারণও ছিল।

প্রশ্ন : কী কারণ?

মুমিন : ফুটবলের খেপ খেলার জন্য জ্বালাতন করত বড্ড। এই চাঁদপুর নিয়ে যায়, এই কেরানিগঞ্জ নিয়ে যায় নৌকায় করে। আরে বাবা, আমি সাঁতার জানি না। পানির ওপর দিয়ে যেতে তাই ভয় লাগে। ফুটবল বাদ দিয়ে দিলাম তো এই ঝামেলাও শেষ।

প্রশ্ন : ফুটবলে আপনার সময়ের সেরা খেলোয়াড় মনে হয়েছে কাকে?

মুমিন : আমার স্কুলের আনোয়ার নামে একজন ছিলেন, আমার এক বছর সিনিয়র। আজাদ স্পোর্টিংয়ে খেলতেন। তাঁর মতো সেন্টার ফরোয়ার্ড আমি দেখিনি।

প্রশ্ন : হকির সেরা?

মুমিন : অনেকেই আছে। সাদেক, এহতেশাম, বশীর—অনেকে।

প্রশ্ন : আপনি তো হকিতে পূর্ব পাকিস্তান দলে খেলেছেন নিয়মিত?

মুমিন : হ্যাঁ। ১৯৬১, ’৬৩ ও ’৬৫ সালে তিনবার পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের অধিনায়কও ছিলাম। বশীরের নাম শুনেছেন? ও আমার হাতে গড়া। প্রতাপের নাম শুনেছেন? ও আমার হাতে গড়া। এখন ওরা সেটি বলুক বা না বলুক, কিছু যায়-আসে না।

প্রশ্ন : ভিক্টোরিয়ার পর কোন ক্লাবে খেলেন?

মুমিন : ওয়ান্ডারার্সে গেলাম ১৯৬০ সালে। ভিক্টোরিয়ার সালামের সঙ্গে গ্যাঞ্জাম হলো। ওর বোধহয় মনে হলো, মুমিন বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের মহসিন ভাই বললেন, ‘তুই তাহলে আমার ক্লাবে আয়’। ওদিকে ওয়ারী ক্লাবের হাশেম ভাইও খাপ পেতে ছিলেন, আমাকে কবে ধরবেন। ওই বছর আমি ওয়ান্ডারার্সেই গেলাম। এক বছর সেখানে খেলে সেই যে ওয়ারীতে ঢুকি, এখনো সেই ক্লাবের সঙ্গেই আছি। ১০ বছর ওই ক্লাবের সেক্রেটারিও ছিলাম।

প্রশ্ন : আপনার খেলার ধরন কেমন ছিল?

মুমিন : একটা ব্যাপার হলো, আমি খুব স্টাইলিশ ছিলাম। তখন তো চামড়ার ফুটবলে খেলা হতো, হেড করলে মাথা ঝিমঝিম করে উঠত। আমার আবার চুলের খুব শখ। মাথায় মেয়েদের মতো নেট পেঁচিয়ে ফুটবল খেলতাম। হকিতেও তাই। আর খেলার ধরন কেমন ছিল, তা তখনকার দর্শকরা বলবে। একটা কথা শুধু বলি, আমাকে মেরে কেউ চলে যাবে, সেটি ছিল অসম্ভব। ফুটবলে, হকিতেও। ফুটবলে ভিক্টোরিয়ার হয়ে প্রথম যে ম্যাচ খেলি বিজি প্রেসের বিপক্ষে, সে গল্পটি বলি। প্রতিপক্ষ দলে তখন চুন্না রশীদ, নবী চৌধুরীরা। আমি খেলা শুরু করি রাইট হাফে। ওদের লেফট আউটে মল্লিক বলে একটি ছেলে ছিল, ভীষণ গতি। আমাকে একবার গতি দিয়ে পেরিয়ে গেল। পরেরবারই ‘খটাশ’ করে মেরে দিলাম ওর পায়ে। আর ভয়ে আমার সামনে আসে না। রাজ্জাক নামে আরেক আউট ছিল। ওকেও কনুইয়ের গুঁতো মেরে ঠাণ্ডা করে দিই। আর হকিতে যে সালামের দুটো দাঁত ফেলে দিলাম, সে গল্প সবাই জানে।

প্রশ্ন : আমরা তো জানি না। একটু যদি বলেন?

মুমিন : সালামের সাথে গণ্ডগোলের পর ভিক্টোরিয়া ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসার কথা তো বলেছি। এরপর হকি মাঠে আমরা মুখোমুখি দুই দলে। আমি তখন সম্ভবত ওয়ান্ডারার্সে না, ভিক্টোরিয়ায়। ও ঝুঁকে বল নিয়ে আমার সামনে দিয়ে এগুতে লাগল আর আমি ‘স্যাৎ’ করে স্টিক উঁচিয়ে দিলাম লাগিয়ে। মাঠেই সামনের দুটো দাঁত পড়ে গেল সালামের। সত্যি আমি খুব রাফ খেলোয়াড় ছিলাম। মেজাজটাও ছিল চড়া।

প্রশ্ন : আমি কি একটু দূরে সরে বসব? হঠাৎ কোনো প্রশ্নে রেগে ঘুষি মেরে দাঁত ফেলে দেন যদি!

মুমিন : (হাসি) অসম্ভব কিছু না। বয়স ৮২ বছর হয়ে গেছে, তবে এখনো অসম্ভব কিছু না।

প্রশ্ন : খেলোয়াড় থেকে সংগঠক হলেন কিভাবে?

মুমিন : সেটি খেলোয়াড় থাকা অবস্থাতেই। ঢাকা কলেজের অ্যাথলেটিকস সেক্রেটারি হওয়াই সম্ভবত আমার সাংগঠনিক পথচলার শুরু। অ্যাথলেট নুরুন্নবী আমাকে চ্যালেঞ্জ করে বসল। ব্যস, করলাম নির্বাচন। তাতে পাস করি আমি। তখন ঢাকা কলেজের অ্যাথলেটিকস সেক্রেটারি কিন্তু বিরাট ব্যাপার।

প্রশ্ন : আর ইস্ট পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশন মানে ইপিএসএফের হকি কমিটির সেক্রেটারি হলেন কিভাবে?

মুমিন : ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের এসএম তৌফিক ভাইয়ের নাম মনে আছে? কলকাতা মোহামেডানের অধিনায়ক ছিলেন। ইপিআইএর কার্গো সুপারিনডেনডেন্ট তখন। ইপিএসএফের হকি সেক্রেটারিও। উনি আমার মধ্যে কী দেখেছেন, জানি না। সাংগঠনিক কোনো কাজ হলেই আমাকে ডাকতেন। ব্রিগেডিয়ার শাহেদ দাদ খান ছিলেন ইপিএসএফের চেয়ারম্যান। উনি তৌফিক ভাইকে ডেকে বলেন, ‘হকিতে তো সময় দিতে পারছ না। তোমার বদলে অন্য কাউকে দাও।’ উনি আমার নাম প্রস্তাব করেন। ‘মিস্টার ঢাকা’ বডিবিল্ডার জহির এসে আমাকে খবর দেয়, শাহেদ দাদ খান ডাকছেন। গেলাম। উনি আমাকে হকি সেক্রেটারি করে দিলেন।

প্রশ্ন : স্বাধীন বাংলাদেশে হকি ফেডারেশনের প্রথম সেক্রেটারি আপনি। এই ফেডারেশন তৈরির ইতিহাস যদি একটু বলেন...

মুমিন : আমি তখন সত্যি ভেবেছি, আর খেলাধুলার সঙ্গে থাকব না। কিন্তু ১৯৭২ সালের শুরুর দিকেই আমাকে খবর পাঠানো হলো স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য। ওখানে মন্ত্রী ইউসুফ আলী আছেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রথম সচিব কাজী আনিস রয়েছেন। আরো অনেকে। আমাকে বললেন, ‘তুমি ইপিএসএফের সর্বশেষ কমিটির হকি সেক্রেটারি ছিলে। এখন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন তৈরি হবে। এর জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্ব তোমাকে নিতে হবে।’ আমি বলি, ‘আমাকে যে সেক্রেটারি বানাচ্ছেন, হকি চালানোর ফান্ড কি আছে?’ যে ফান্ড ছিল, তা-ও আমার এনে দেওয়া।

প্রশ্ন : সেটি কেমন?

মুমিন : ১৯৭০ সালে পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের সভায় যোগ দিতে রাওয়ালপিন্ডি যাই। সভা শেষে পাকিস্তান স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ডের সেক্রেটারি ব্রিগেডিয়ার রোডাম আমাকে বলেন, ‘তোমাদের ইস্ট পাকিস্তানের স্পোর্টস ফেডারেশনের একটি চেক আছে, যাবার সময় নিয়ে যেয়ো।’ সেই চেকটি ছিল তিন লাখ ৬৫ হাজার টাকার। ঢাকায় ফিরে তা জমা দিয়ে দিই। স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের যাত্রা শুরুর সময় এই টাকাটাই ছিল সম্বল। তা দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশে খেলাধুলার শুরু।

প্রশ্ন : জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে একেবারে শুরুতে কতটি ফেডারেশন ছিল?

মুমিন : পাঁচটি। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, অ্যাথলেটিকস, ভলিবল। ফুটবলের সেক্রেটারি হাশেম ভাই, হকিতে আমি, অ্যাথলেটিকসে শহীদুল ইসলাম, ভলিবলে খবির, ক্রিকেটে পল্টু।

প্রশ্ন : স্বাধীন বাংলাদেশে হকিতে প্রথম কোন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন?

মুমিন : শহীদ স্মৃতি টুর্নামেন্ট। এরপর স্বাধীনতা দিবস টুর্নামেন্ট। এই দুটো টুর্নামেন্ট দিয়ে বাংলাদেশের হকির পথচলা শুরু। এরপর টার্গেট নিলাম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এনএসসির সেক্রেটারি কাজী আনিসকে বললাম, আমাকে কিছু হকির গিয়ার্স দিতে। ও ৩০০ হকি স্টিক, বল ১০০ আর গোলকিপার প্যাড দিল। আমি হকি ফেডারেশনের অ্যাফিলিয়েশন নেওয়ার জন্য বিভিন্ন জেলায় জেলায় লেখা শুরু করলাম। জানালাম, অ্যাফিলিয়েশন নিলে হকি গিয়ার্স দেওয়া হবে। এভাবেই ১২টি দল নিয়ে প্রথম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করি কুমিল্লায়।

প্রশ্ন : ঢাকায় নয় কেন?

মুমিন : ঢাকায় আয়োজন করার মতো টাকা কোথায়? কুমিল্লায় আয়োজনের পেছনে সেই অর্থপ্রাপ্তিই কারণ। মোহামেডান ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মইনুল ইসলামকে হকি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট বানালাম। ওনার বাড়ি কুমিল্লায়। সেখানে দলগুলোর থাকা-খাওয়া আর সার্বিক আয়োজনের টাকা দেন উনি। সে কারণেই কুমিল্লায় প্রথম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ করি। আর ঢাকায় প্রথম লিগ করি ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে।

প্রশ্ন : আপনার সময়ই তো প্রথম জাতীয় দল তৈরি হয়। সে গল্পটি যদি একটু বলেন?

মুমিন : অফিশিয়ালি আমাদের প্রথম জাতীয় দল ১৯৭৮ সালে ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে। কিন্তু এর আগেই ‘ঢাকা একাদশ’ নাম নিয়ে আমরা দিল্লিতে টুর্নামেন্ট খেলে এসেছি। স্বয়ং শেখ মুজিব আমাকে ডেকে ওখানে দল পাঠাতে বলেন। সে গল্পটি বলি আগে?

প্রশ্ন : প্লিজ...

মুমিন : হকি খেলোয়াড় মহসিন ছিল শেখ সাহেবের বডিগার্ড। ও একদিন আমাকে সাদুর বাসায় গিয়ে ধরল। বলল, এক্ষুনি যেতে হবে, শেখ সাহেব ডেকেছেন। ওর সঙ্গে বেইলি রোডে ভাইস প্রেসিডেন্ট হাউসে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, জেনারেল ওসমানীও আছেন। শেখ সাহেব আমাকে প্রথম কথাই বলেন, ‘তোর নাম মুমিন নাকি? তোর কথা শুনেছি।’ সমবয়সী কাউকে ‘তুই’ করে বললে যে আপন হয়ে যায়, তাঁর কাছেই শিখেছি। উনি বললেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমাকে ফোন দিয়েছেন। দিল্লিতে নেহরু কাপ হকি হবে। ওখানে বাংলাদেশের দল চান। তুই একটা দল তৈরি করে চলে যা। ওরা কলকাতায় ট্রেন রিজার্ভ করে বসে আছে।’ তাঁকে বলি, ‘এত দ্রুত আমি কিভাবে কী করব?’ শেখ সাহেব বলেন, ‘আমি কিছু শুনতে চাই না। তুই ব্যবস্থা কর। তোর কথা যা শুনেছি, তাতে তুই এটা পারবি।’ এরপর আমি যাকে পাই, তাকেই বলি—চলো দিল্লি। সাদেক, সাবের, সাব্বির ইউসুফ এমন সবাইকে নিয়ে একটি দল তৈরি করে নেহরু কাপ খেলতে যাই। এটিই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় দল; তবে আমি ‘বাংলাদেশ’ নামটি দিইনি। নাম দিই ‘ঢাকা একাদশ’।

প্রশ্ন : কেন?

মুমিন : স্বাধীনতাযুদ্ধের পর ভারতের মুসলমানদের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা ছিল না। ওরা যদি বাংলাদেশকে নিয়ে বিদ্রুপ করে, সে জন্য ঢাকা একাদশ নাম নিয়ে খেলতে যাই। ওই নকআউট টুর্নামেন্টে দিল্লি অডিট ইলেভেনের কাছে এক গোলে হেরে অবশ্য বাদ পড়ি প্রথম ম্যাচের পরই। আর আগেই তো বললাম, অফিশিয়ালি বললে ১৯৭৮ এশিয়ান গেমসের দলটি হকির প্রথম জাতীয় দল। সে দলের ম্যানেজার ছিলাম আমি। এ ছাড়া আমার সময়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বে খেলে মালয়েশিয়ায় ১৯৭৭ সালে। ’৭৮ সালে শ্রীলঙ্কা আসে বাংলাদেশ সফরে। ঢাকায় দুটো ম্যাচ খেলে ওরা; আরো দুটি ময়মনসিংহ ও ফরিদপুরে।

প্রশ্ন : আপনার হাতে গড়া হকি ফেডারেশন থেকে চলে গেলেন কেন?

মুমিন : অনেক কিছু আছে, যা আর বলতে চাই না। রাজনৈতিক ব্যাপার আছে। হকি ফেডারেশনের ভেতরকার কিছু ঘটনা, এনএসসির সঙ্গে কিছু মনোমালিন্য—অনেক কিছু মিলিয়েই আমি আর থাকিনি।

প্রশ্ন : কিন্তু ১৯৮৫ সালে হকির এশিয়া কাপ আয়োজনের সময় তো ঠিকই আবার আপনার ডাক পড়ে!

মুমিন : অনেক ঘটনাই জানেন দেখছি। হকি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট তখন ব্রিগেডিয়ার মতিন, নাইনথ ডিভিশনের জিওসি। উনি আমাকে একদিন ডেকে বলেন, ‘দাদা, আপনাকে তো দায়িত্ব নিতে হয়। নইলে আয়োজনটা বাংলাদেশ থেকে জাপানে চলে যাবে। দেশের ইজ্জতের ব্যাপার। আর্মি ইন্টেলিজেন্স থেকে খবর নিয়ে জেনেছি আপনিই একমাত্র পারবেন, এ আয়োজন করতে।’ তাঁর অনুরোধে রাজি হই। আমি ছিলাম সেবার সেক্রেটারি জেনারেল অব দ্য টুর্নামেন্ট। আয়োজন করতে টাকা তো লাগবে কিন্তু কোনো টাকা নেই। ওয়ারী ক্লাবের বন্ধু জামিলের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে কাজ শুরু করি। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদকে করি কমিটির চেয়ারম্যান। কারণ ইন্ডাস্ট্রিগুলো তাঁর হাতে থাকায় টাকা-পয়সা পেতে সুবিধা হবে।

প্রশ্ন : হকির জন্য আলাদা মাঠ, আলাদা স্টেডিয়াম তৈরিতে আপনার অবদানের কথা শুনেছি...

মুমিন : অবদান কী, ওই দুটো মাঠ আমিই এনে দিয়েছি হকিকে। আগে হকি খেলা হতো ঢাকা স্টেডিয়ামের ভেতরে ইনার স্টেডিয়ামে। এরপর জেনারেল এরশাদকে দিয়ে আউটার স্টেডিয়ামে হকির জন্য মাঠ নিই। এরশাদের সঙ্গে খাতির কিভাবে হয়, বলি। ১৯৭৬ সালে জাতীয় যুব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল হবে ফরিদপুরে। সেখানে প্রধান অতিথি করার জন্য যাই জেনারেল মঞ্জুরের কাছে। ওকে চিনেছেন তো, এরশাদের সময় মেরে ফেলা হয় যাঁকে। সেই মঞ্জুর আমার আরমানিটোলা স্কুলের বন্ধু। দুজনই ছিলাম খুব দুষ্টু। স্যার প্রায়ই নিল ডাউন করিয়ে রাখতেন। মঞ্জুরের নাম ছিল পণ্ডিত, আমি সেকেন্ড পণ্ডিত। প্রধান অতিথি করার জন্য সেই মঞ্জুরের কাছে যাই। ও পকেট থেকে ক্যাপস্টেন সিগারেটের প্যাকেট বের করে বলে, ‘সিগারেট তো একটা আছে, তুই খাবি নাকি আমি খাব?’ এত ঘনিষ্ঠতা আমাদের। মঞ্জুর বলে, ‘আমার তো খুব ব্যস্ততা, যেতে পারব না। আরেকজনকে বরং দিয়ে দিই। তখন ও আমাকে নিয়ে যায় জেনারেল এরশাদের কাছে। তিনি রাজি হলেন। এই এরশাদ ঢুকলেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে। পরে তো এনএসসির চেয়ারম্যানও হয়েছেন। এনএসসি অ্যাক্ট ১৯৭৬ করে দেশের খেলাধুলার সর্বনাশের পথও তৈরি করেছেন। যাক, সেটি অন্য গল্প। কী যেন বলছিলাম?

প্রশ্ন : আলাদা হকি স্টেডিয়াম তৈরিতে...

মুমিন : হ্যাঁ, এরশাদের সঙ্গে আমার তো খাতির হয়ে গেল। পরে তিনি এনএসসির চেয়ারম্যান হলেন। ইনার স্টেডিয়ামে হকি খেলা দেখে উনি বললেন, ‘ধানক্ষেতে হকি হয় না’। তাঁকে বলি, আমাকে তাহলে আউটার স্টেডিয়ামে মাঠ বরাদ্দ দেন। দিলেন। ওখানে নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি এই চার মাস হকি হতো, বাকিটা সময় ফুটবল। হকির জন্য আলাদা মাঠ দখল করতে হবে এখন। কী করি! এনএসসির সচিব কাজী আনিসকে গিয়ে বলি, ‘মাঠের চারপাশে ইটের গাঁথুনি দেব, আমাকে টাকা দাও।’ ও আমাকে পাঠিয়ে দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর অব স্পোর্টস খান মজলিসের কাছে। তাঁর কাছে ডেভেলপমেন্টের এক লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিল। তা আমাকে দিয়ে দিলেন। আমি হকি মাঠের চারদিকে ছোট্ট করে ইটের দেয়াল তুলে দিলাম। এবার তো আর সেখানে ফুটবল হতে পারবে না।

প্রশ্ন : আর বর্তমান স্টেডিয়ামে হকি গেল কিভাবে?

মুমিন : সেটি আরো অনেক পরে। ১৯৯২-৯৩ সালের দিকে। এটি ছিল অ্যাথলেটিকস স্টেডিয়াম। কিন্তু ৪০০ মিটারের টার্ন হয় না বলে ব্যবহার খুব কম। হকি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট তখন জেনারেল রব; এনএসসির চেয়ারম্যান জেনারেল সাদেক। তাঁদের সঙ্গে আমার খাতির ছিল। আমি তখন হকি ফেডারেশনে নেই। কিন্তু ওদের বলে হকির জন্য আলাদা স্টেডিয়ামের বরাদ্দ নিয়ে দিই। এটি কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

প্রশ্ন : একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে জানতে চাই। বিয়ে করেছেন কবে?

মুমিন : ১৯৬৫ সালে। স্ত্রীর নাম সুলতানা রহমান; এই তো মাস ছয়েক আগে মারা গেল। আমার জন্য ও অনেক স্যাক্রিফাইস করেছে। আমাদের চার ছেলে-মেয়ে। মেহনাজ, তানিম, ফাহিম, আজিম। বড় দুই ছেলে হকি খেলত, ছোটটি বিকেএসপিতে ক্রিকেট খেলত।

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন। জীবন নিয়ে, ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার তৃপ্তি কতটা? কোনো আক্ষেপ রয়েছে কি না?

মুমিন : আমার নাম ‘মুমিন’-এর একটি অর্থ আছে। সেটি জীবনে মেনে চলেছি সব সময়। বড় ভাইয়ের ব্যবসা ছিল মোটর রিপেয়ারিং ওয়ার্কশপ অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টসের। আমি সেখানে যেতাম মাঝেমধ্যে। কখনো লোভী ছিলাম না, ছেলে-মেয়েদের হারাম খাওয়াই নাই। ছেলে-মেয়েদের জন্য বৈষয়িক কিছু করতে পারিনি। একটা রিকশাও কিনতে পারিনি। কিন্তু আমার তৃপ্তি আছে। হকি নিয়ে এক জীবন কাটিয়ে দিয়েছি। ‘বাংলার মাটিতে হকি যুগে যুগে’ নামে বই লিখেছি। এ দেশে হকির শুরুতে সামান্যতম অবদান রাখতে পেরেছি। ওয়ারী ক্লাবের শতবর্ষ পালন করেছি আমার সময়ে। দেশকে সেবা করেছি। এসব কিছুই তো তৃপ্তি। ৮২ বছরের জীবনের পেছনে ফিরে তাকালে এসব মনে করে ভালোই লাগে।



মন্তব্য