kalerkantho


ধারে-ভারে সেরা তিন

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ধারে-ভারে সেরা তিন

ধারে-ভারে কিংসকেই এবার এগিয়ে রাখা হচ্ছে সবচেয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচে রাসেলের কঠিন চ্যালেঞ্জ উতরে গেছে তারা দলের গভীরতা দিয়েই। দলে বিশ্বকাপে খেলা ডেনিয়েল কলিনড্রেস আছেন, নতুন যোগ হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্কোস ভিনিসিয়াস।

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গতবার শিরোপা লড়াইয়ের হিসাব পাল্টে দিয়েছিল শেখ জামাল ও সাইফ স্পোর্টিং। সাইফ দলবদলের বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। লিগে ক্রমে তারা পথ হারায়। একটা সময় শীর্ষ চারে থেকে এএফসি কাপ নিশ্চিত করাটাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় দলটির। শেখ জামাল এর উল্টো। রহমতগঞ্জ, ফরাশগঞ্জের মতো ছোট ছোট দল থেকে খেলোয়াড় কিনে লিগে শেষ পর্যন্ত তারা রানার্স-আপ। যে তিন বিদেশি ফরোয়ার্ড দলে নিয়েছিল তারা, তাঁরাই মূলত হিসাবটা পাল্টে দেয়।

এবারও শেখ জামাল আছে একই ফর্মুলায়। স্থানীয় সংগ্রহে অখ্যাত সব নাম। সর্বোচ্চ গোলদাতা দুজনের একজন দল ছেড়েছেন। নতুন যোগ হয়েছেন যে দুজন, সেই ঘানাইয়ান ডেভিড টিট্টে ও আর্জেন্টাইন লুসিয়ানো নাকি হাঁটবেন ঐতিহ্য মেনে। ঐতিহ্য বলতে লিগের সর্বশেষ চার মৌসুমের তিনবারই সর্বোচ্চ গোলদাতা যে জামালের। অর্থাৎ এবারও চমকের আশায় তারা। এবারও তাদের ফেভারিট বলাটা কঠিন। সাইফের এই মৌসুমে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। তারা অনেকটা জামালের পথে হেঁটেছে। তারুণ্যনির্ভর একটি দলকে হাইপ্রোফাইল কোচের অধীনে অনুশীলনে রেখেছে লম্বা সময়। বিদেশি সংগ্রহেও হাঁকডাক নেই। রাশিয়ান ডেনিস বোলশাকভ ও কোরিয়ান সিউনগিল পার্ক দলের মূল খেলোয়াড় হবে বলে ধরা হচ্ছে। অর্থাৎ সাইফকেও এবার সরাসরি ফেভারিট বলা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম আবাহনীকে তো নয়ই। গত লিগের অনেকটা সময় শিরোপা সম্ভাবনা জাগিয়েছিল তারা ভালোভাবেই। শেষ কয়েক ম্যাচে পথ হারানো দলটি এবার একেবারেই সাদামাটা। জাতীয় দলের খেলোয়াড় বলতে একমাত্র গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ। বিদেশিদের মধ্যে গতবার জামালে খেলা মামাদু বাহ ও কিরগিজ ডিফেন্ডার ডেনিয়েল ট্যাগো ভরসা।

দেশি-বিদেশি মিলিয়ে শিরোপার মূল দাবিদার এবার বসুন্ধরা কিংস। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী চাইবে তা ধরে রাখতে। এই দুই দলকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে চায় সাইফুল বারীর শেখ রাসেলও।

গত মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা জামাল ছেড়ে আসা রাফায়েল ওদোয়িন নিশ্চিতভাবেই রাসেলকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধতে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার অ্যালেক্স রাফায়েলকেও নিয়েছে দলটি। ফরোয়ার্ড লাইনে তাঁদের বলের জোগান নিশ্চিত করতে উজবেক মিডফিল্ডার আলিশার আজিজভকে নেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলের তরুণ উইঙ্গার বিপলু আহমেদও আক্রমণে বৈচিত্র্য আনবেন নিশ্চিত। সাইফুল বারীর ডিফেন্স বরাবরই মজবুত। রাসেলেও গত মৌসুমের অন্যতম সেরা সেন্টারব্যাক আলিসন উদোকাকে তিনি নিয়ে এসেছেন, সঙ্গে জাতীয় দলের আরেক সেন্টারব্যাক ইয়াসিন খান। রাইট ব্যাক হিসেবে বিশ্বনাথ তো এখন জাতীয় দলেই প্রথম পছন্দ। লেফট ব্যাক ইয়ামিন আহমেদ অভিজ্ঞতা দিয়ে যদি বয়সের ঘাটতি পোষাতে পারেন তবে দলটি যেকোনো আক্রমণভাগকে ভোগাবে, যেমন রাফায়েলরা কঠিন পরীক্ষা নেবেন যেকোনো ডিফেন্সকে। সর্বশেষ বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও দলটি এই শক্তিমত্তা দেখিয়েছে।

ধারে-ভারে কিংসকেই এবার এগিয়ে রাখা হচ্ছে সবচেয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচে রাসেলের কঠিন চ্যালেঞ্জ উতরে গেছে তারা দলের গভীরতা দিয়েই। দলে বিশ্বকাপে খেলা ডেনিয়েল কলিনড্রেস আছেন, নতুন যোগ হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্কোস ভিনিসিয়াস। জাতীয় দলের তিন স্ট্রাইকার আছেন—তৌহিদুল আলম, মাহবুবুর রহমান সুফিল, মতিন মিয়া। তাঁদের কেউ গোল না পেলেও দেখা যাবে দলটিকে আটকে রাখা কঠিন। পরশু রাসেলের বিপক্ষে মাশুক মিয়া যেমন জিতিয়ে দিয়েছেন। দারুণ পরিশ্রমী এই মিডফিল্ডারের কথা বাদই দেওয়া গেল, স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছেন যিনি সেই এক ইমন মাহমুদই হুমকি হয়ে উঠতে পারেন যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য। ডিফেন্সে আফগান মাসি সাইগানির বদলে স্প্যানিশ হোর্হে গোটরকে নেওয়া যে ভুল হয়নি প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেই তিনি এর প্রমাণ দিয়েছেন। তাঁর তুলনায় কিছুটা ধীরগতিরই হবেন মাসি।

সেই মাসিকে দলে ভিড়িয়েছে এবার চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। তবে আকাশি-নীলে জাতীয় দলের দুই নির্ভরযোগ্য সেন্টার ব্যাক তপু বর্মণ ও টুটুল হোসেন। লেফট ব্যাক ওয়ালি ফয়সাল বয়সকে তুড়ি মেরে এখনো নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন। মিডফিল্ডার ইমন বাবুকে হারিয়েছে তারা কিংসের কাছে। সেই শূন্যতা পূরণে অভিজ্ঞ মামুনুল ইসলাম আবার আবাহনীর তাঁবুতে, সঙ্গে জাতীয় দলে খেলা আতিকুর রহমান ফাহাদ আছেন। কোরিয়ান মিনহায়োক কো হয়ে উঠতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ। শেষ মুহূর্তে কেরভেন্স বেলফোর্টকে দলে ভেড়ানোটাও তাদের বাজি জিতিয়ে দিতে পারে। কিংসে সুযোগ না পাওয়া হাইতিয়ান স্ট্রাইকার নীলফামারীতে যেমন পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন মালদ্বীপের নিউ রেডিয়েন্টের বিপক্ষে তাতে মৌসুমজুড়ে তাঁর ওপর চোখ থাকতে বাধ্য।



মন্তব্য