kalerkantho


প্রীতি ম্যাচ

শেষবেলার গোলে শেষ হাসি ব্রাজিলের

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



শেষবেলার গোলে শেষ হাসি ব্রাজিলের

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মানেই উত্তেজনার বারুদ। লাতিন শিল্পের অনন্যসুন্দর প্রদর্শনী। ছন্দময় সেই ফুটবলের অবশ্য দেখা মিলল না জেদ্দায়। পুরো ম্যাচে দুই দল লক্ষ্যে শট রাখতে পেরেছে মাত্র চারটি! মেসি, আগুয়েরো, হিগুয়েইনহীন নতুন আর্জেন্টিনা প্রায় রুখে দিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। কিন্তু শেষবেলার গোলে শেষ হাসি ব্রাজিলের। ৯৩তম মিনিটে নেইমারের কর্নার থেকে মিরান্দার হেডে সেলেসাওরা মাঠ ছাড়ে ১-০ গোলের জয়ে। তাতে নেওয়া হলো অস্ট্রেলিয়ায় সবশেষ দেখায় ০-১ গোলে হারের প্রতিশোধও। ‘সুপার ক্লাসিকো’ জিতে ম্যাচ শেষে শিরোপা নিয়ে আনন্দে ভাসলেন নেইমার, কৌতিনিয়ো, ফিরমিনিয়োরা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, সৌদি আরব ও ইরাককে নিয়ে আয়োজিত চার দলের প্রীতি টুর্নামেন্টের সেরার স্বীকৃতি এটা।

বলের দখল ব্রাজিলের ৬৩ ও আর্জেন্টিনার ছিল ৩৭ শতাংশ। পোস্টে শট ব্রাজিলের ১২ আর আর্জেন্টিনার ১১টি। পাউলো দিবালা, মাউরো ইকার্দিদের চেয়ে ব্রাজিল অবশ্য গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বেশি। ৩৫ ফাউল আর ৭ হলুদ কার্ডের ম্যাচে এ জন্য সন্তুষ্ট কোচ তিতে, ‘আর্জেন্টিনা সুযোগ তৈরি করেছিল, জেতারও চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তুলনায় ব্রাজিল ভালো দল ছিল, এই গোলটা দলীয় পারফরম্যান্সের পুরস্কার।’ ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটের বদলে তিতে গোলের প্রত্যাশা করেছিলেন আরো আগে, ‘গোলটা অন্য সময় হতে পারত, কিন্তু হলো শেষবেলায়। পুরো ম্যাচে মনোযোগ ধরে রেখেছিল দল। কর্নার থেকে আসা গোলটা আমাদের চেষ্টারই ফল।’

বিশ্বকাপের পর ১০ জনের বেশি নতুন খেলোয়াড় সুযোগ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ভারপ্রাপ্ত কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। এই নতুনদের নিয়ে ব্রাজিলের কাছে হারলেও গোছানো রক্ষণে পাল্লা দিয়ে লড়াই করায় খুশি তিনি, ‘ফল যা-ই আসুক সেটা পরের কথা, এর মানে এই নয় যে এভাবে হারটা কষ্ট দেয় না। খেলোয়াড়রা যা করে দেখিয়েছে সেটা অবিশ্বাস্য। দল হয়ে খেলেছে ওরা, যাদের আরো বেশি কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আছে। সত্যিই উত্তেজনাবোধ করছি আমি।’

ম্যাচে নামার সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ড গড়েন ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক নেইমার। সেলেসাওদের হয়ে এটা ছিল তাঁর ৯৩তম ম্যাচ। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ৯২ ম্যাচ খেলা পেলে, রিভেলিনো ও কাকাকে। সবচেয়ে বেশি ১৪২ ম্যাচ খেলা কাফুর চেয়ে অনেকখানিই পিছিয়ে তিনি। এমন ম্যাচে জয়সূচক গোলের অ্যাসিস্টটা বিশেষ কিছু হওয়ার কথা নেইমারের।

গোলরক্ষক আলিসনের ভুলে ২২তম মিনিটে গোল খেতে পারত ব্রাজিল। সতীর্থের ব্যাকপাস ছোট ডি বক্সে বিপদমুক্ত করতে দেরি করায় বলে শট নেওয়ার কাছে চলে এসেছিলেন আনহেল কোররেয়া। সে যাত্রায় কোনো রকমে বাঁচে তারা। ২৮ মিনিটে কাসেমিরোর বাড়ানো বলে মিরান্দার শট গোলরক্ষক সের্হিয়ো রোমেরোকে ফাঁকি দিয়ে জড়াতে যাচ্ছিল জালে। গোললাইন থেকে সেটা ফেরান নিকোলাস ওতামেন্দি। পরের মিনিটে অল্পের জন্য পাউলো দিবালার ফ্রিকিক যায় বাইরে দিয়ে। বিরতির আগে পাউলো সারাবিয়ার হ্যান্ডবলে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রিকিক পায় ব্রাজিল। নেইমার সেটা নষ্ট করেন আর্জেন্টাইন দেয়ালে মেরে।

বিরতির কিছুক্ষণ পর কয়েক মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার তিন আর ব্রাজিলের দুজন দেখেন হলুদ কার্ড। এর অন্যতম নেইমারও। ৭০ মিনিটে নেইমারের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রিকিক থেকে নেওয়া আর্থার মেলোর জোরালো ভলি কোনো রকমে ঠেকান গোলরক্ষক রোমেরো। ৮৪ মিনিটে কাসেমিরোর ফ্রিকিক একজনের গায়ে লেগে জালে জড়ায়নি অল্পের জন্য। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে রিচার্লিসনের শট ঠেকাতে গিয়ে উল্টো জালে জড়িয়ে দিচ্ছিলেন ওতামেন্দি। আর্জেন্টিনা বেঁচে যায় সেই যাত্রা। তবে ৯৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল। নেইমারের কর্নার থেকে আসা বল ফাঁকায় থাকা মিরান্দার দুর্দান্ত হেডারে জড়ায় জালে। ৩৪ বছর বয়সে দলের জয়ের নায়ক হতে পেরে খুশি ইন্টার মিলানের এই ডিফেন্ডার, ‘আমার বয়স হলেও দেখিয়েছি এখনো এই জার্সি পরে দেওয়ার আছে অনেক কিছু। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করতে পারাটা সব সময়ই আনন্দের।’ এএফপি

পেলেকে ছাড়িয়ে নেইমার

সেলেসাওদের হয়ে এটা ছিল নেইমারের ৯৩তম ম্যাচ। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ৯২ ম্যাচ খেলা পেলে, রিভেলিনো ও কাকাকে। সবচেয়ে বেশি ১৪২ ম্যাচ খেলা কাফুর চেয়ে অনেকখানিই পিছিয়ে তিনি। এমন ম্যাচে জয়সূচক গোলের অ্যাসিস্টটা বিশেষ কিছু হওয়ার কথা নেইমারের।



মন্তব্য