kalerkantho



নিষ্ফল লড়াইয়ে সেমিফাইনালেই শেষ

শাহজাহান কবির, কক্সবাজার থেকে   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



নিষ্ফল লড়াইয়ে সেমিফাইনালেই শেষ

ছবি : মীর ফরিদ, কক্সবাজার থেকে

নিম্নচাপে ভারী আবহাওয়া। এর প্রভাব শরীরে-মনে। যে ফুটবলে তা চনমনে হয়ে উঠতে পারে তেমন খেলা হলো কই! বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের হাড়ভাঙা খাটুনি গেল। ৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে সেই গোল শোধ দিতে মরিয়া লড়াই। ফিলিস্তিনিরা অত্যন্ত সতর্ককতায় নাটাইটা রাখল নিজেদের হাতেই। শেষ মুহূর্তে স্বাগতিকদের জালে আরো এক গোল জড়িয়ে শেষ আঘাতটাও করে গেল। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর বিশ্বনাথ তাই মাটিতে, দর্শকদের অভিনন্দনের জবাবেও যেন সাড়া নেই জামাল, তপুদের। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ থেকে অবশেষে বিদায়ই নিল বাংলাদেশ। ঢাকায় আগামীকালের ফাইনাল দুই বিদেশির। স্বাগতিকরা এবার স্রেফ দর্শক।

টুর্নামেন্টের আগে অবশ্য ভাবা যায়নি, ফাইনালে উঠতে না পেরে এমন মুষড়ে পড়বে লাল-সবুজ। সেমিফাইনালটাই ধরা হয়েছিল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য ছুঁয়ে আরো বড় কিছুর পানে হাত বাড়িয়ে শুধু শূন্যতাই মিলল। ফিলিস্তিনিরা বুঝিয়ে দিল তারা ধরাছোঁয়ার নয়। স্কোরলাইনে তার ছাপ নেই তাতে কী। মাঠে একবারের জন্যও নিশ্চয় হারের কথা ভাবেননি ফিলিস্তিন কোচ। শুরুতেই গোল আদায় করে নিয়ে ম্যাচ ধরে খেলার কৌশল নিয়েছিল তাঁর দল। সেখান থেকেই গোলের সুযোগ বের করার জন্য স্বাগতিকদের প্রাণান্ত চেষ্টা। মাঝমাঠে বলের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করলেন ইমন মাহমুদ, মাশুক মিয়া। উইংয়ে বিপলু আহমেদ দীর্ঘদেহী ফিলিস্তিনিদেরও কখনো বিব্রত অবস্থায় ফেলে দিলেন চমত্কার ড্রিবলিংয়ে। কিছু ক্রস গেল বক্সে, সেগুলো কাজে লাগানোর মতো কোনো শট বা হেড হলো না সেখানে। দারুণ কিছু থ্রু ও লং বলে গোলের হাফ চান্স মিলল। মাশুকের লং বলে নাবিব নেওয়াজ শুরুতে মারলেন সাইড নেটে, মাহবুবুর রহমান সুফিলের বাড়ানো বলে পরের শটটাও গেল পোস্টের বাইরে দিয়ে। আবার বিপলুর ডজে সুফিল নিজেই চমত্কার বল পেয়েছিলেন বক্সে, কিন্তু সেই উঁচু বলে দ্রুত রিফ্লেক্সে তাঁকে হারালেন ফিলিস্তিন ডিফেন্ডার। গোল পাওয়ার পর ম্যাচের বাকিটা সময় ডিফেন্সের ওপর আরো দুজন হোল্ডিং মিডফিল্ডার রেখে নিজেদের বিপদের পথ আগে বন্ধ করেছেন নুরেদ্দিন আলি। ম্যাচের শুরুতে যেমন, তেমনি শেষ দিকে আবার তারা ভয়ংকর হয়েছে। গোল শোধের জন্য লড়াই করতে করতে স্বাগতিক দল তখন ক্লান্ত। ফিলিস্তিন কোচ মিডফিল্ড এবং ফরোয়ার্ডেই নতুন তিনজন খেলোয়াড় যোগ করেছেন ততক্ষণে। তাঁদেরই একজন সামেহ মারাবা ব্যবধান বাড়িয়ে নিলেন।

বাংলাদেশ দল আগের মতোই লম্বা থ্রো-ইনে এদিনও কিছু করার সুযোগ খুঁজছিল। কিন্তু ছয় ফুটি ডিফেন্ডারদের বিপক্ষে তাতে সামান্যই সুবিধা পেলেন তপু, নাবিবরা। শেষ দিকে মারাবার গোলটি বরং থ্রো-ইনে। বাংলাদেশের মতোই প্রায় একই কায়দায় দাবাগ ওদোয় হেডে নামিয়ে দিয়েছিলেন, বক্সের ভেতর থেকে সেই বলেই মাপা ভলি মারাবার। শুরুতেই ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার একটা প্রবণতা আছে এই ফিলিস্তিনের। তাজিকদের বিপক্ষে ৩২ সেকেন্ডে তারা গোল করেছে। এদিনও বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে পোক্ত হওয়ার আগেই আঘাত হেনেছে। ভেজা মাঠে টুটুল শুরুতেই পিছলে পড়ে বিপদ ডেকে এনেছিলেন। গোলরক্ষক আশরাফুল সে যাত্রা বাঁচিয়েছেন কর্নারের বিনিময়ে। পরের মুহূর্তেই প্রায় ওয়ান অন ওয়ানে আরেকটি শট ফেরান তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তৃতীয় চেষ্টায় ফিলিস্তিন চলে যায় উইংয়ে, সেখান থেকেই মুসাব বাতাতের ক্রস এবং দূর পোস্টে প্রায় আনমার্কড অবস্থায় দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ বালাহর মাপা হেড জালে। মিনিট কয়েকের মধ্যেই ব্যবধানটা ২-০ হতে পারত, কর্নার থেকে নেওয়া আব্দেল লতিফের হেড ক্রসবারে লেগে না ফিরলে।

এই পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকেই পরে স্বাগতিকদের দীর্ঘ লড়াই শুরু। দর্শকরাও ক্ষণে ক্ষণে সেই লড়াইয়ে উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন। কিন্তু তাতে কী হবে, মানে স্কিলে এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিনিদের শেষ মিনিট পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দল : আশরাফুল, ওয়ালি (রহমত), তপু, বাদশা, বিশ্বনাথ, জামাল, বিপলু (তৌহিদ), ইমন (রবিউল), মাশুক, সুফিল, নাবিব।



মন্তব্য