kalerkantho


মরুর দেশে

নাটাই-সুতা অন্য কোথাও

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রাইভেট লিগ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করলেন তিনি। এ ধরনের আসর যে দুর্নীতিবাজদের খুব আকৃষ্ট করে, আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের (আকসু) জেনারেল ম্যানেজার অ্যালেক্স মার্শাল বলছিলেন তাও। দুবাইয়ের স্পোর্টস সিটিতে আইসিসির সদর দপ্তরের সেমিনারকক্ষে বসে ওই কথা বলার পর ঘণ্টা তিনেকও না পেরোতেই বেরিয়ে পড়ল তেমনই এক খবর।

এই এশিয়া কাপ চলার সময়ই আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শারজায় শুরু হতে যাওয়া আফগান প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ শেহজাদকে। আফগান এই ওপেনার অবশ্য দ্রুতই সেটি জানিয়েছেন আকসুকে। তবে ক্রিকেট দুর্নীতিই শুধু নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে কাল আলোচিত হলো আরো অনেক কিছুই।

সেই আলোচনায় আমন্ত্রিত অতিথি এশিয়া কাপ কাভার করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসা বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা। তাঁদের জন্যই আয়োজিত ‘মিডিয়া ইভেন্ট ডে’তে সাংবাদিকদের আইসিসি কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশও। বহুদিন হয় আইসিসির প্রধান কার্যালয় চলে এসেছে মরুর শহরে। সেটিই ঘুরতে ঘুরতে পাকিস্তানের জং পত্রিকার সাংবাদিক মাজিদ ভাট্টি বলছিলেন, ‘লর্ডসে দুই কক্ষের কার্যালয় ছিল আইসিসির। সেখান থেকে আজ কী সুরম্য অট্টালিকাই না দাঁড়িয়ে গেছে সংস্থাটির।’ 

সেই ভবনের একেকটি কক্ষের নামকরণ বিখ্যাত একেকজন ক্রিকেটারের নামে। কাজেই ঘুরতে ঘুরতে ডন ব্র্যাডম্যান কিংবা ডাব্লিউ জি গ্রেসের নাম বিভিন্ন কক্ষে খোদিত দেখার ব্যাপারটি প্রত্যাশিতই ছিল। তবে যে সেমিনারকক্ষে সকাল থেকে একের পর এক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছিলেন মার্শাল কিংবা আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার (ক্রিকেট) জিওফ অ্যালারডাইস, সেখানে একটি অপ্রত্যাশিত জিনিসও নজর এড়াল না কারো।

আইসিসির আগের সব সভাপতির বাঁধাই করা ছবি সেখানে, কিন্তু নেই বাংলাদেশের আ হ ম মুস্তফা কামালের ছবি। সেটি নিয়ে জিজ্ঞাসা ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির আইসিসির মিডিয়া ম্যানেজার সামিউল হাসান, ‘মিস্টার কামাল তো সংস্থার প্রধান ছিলেন না। এখানে শুধু তাঁদের ছবিই আছে, যাঁরা আইসিসির প্রধান ছিলেন। এখন যেমন জহির আব্বাসের ছবিও নেই।’

মুস্তফা কামালকে আইসিসির প্রেসিডেন্ট করার সময় গঠনতন্ত্র সংশোধন করে তাঁর ওপরে একটি চেয়ারম্যান পদও সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই পদে বসা ভারতের এন শ্রীনিবাসনই ছিলেন আইসিসির দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। এ কারণেই সদর দপ্তরের সেমিনারকক্ষে কামাল নেই, আছেন শ্রীনিবাসন। তাঁর সময়ে ক্রিকেটে ভারতীয় আগ্রাসন প্রকাশ্য হয়ে গিয়েছিল আরো। এখনো যে সেটি খুব আড়াল হয়েছে, তা নয়। আড়াল হলে তো সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করতে এসে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে বসা আইসিসির বিদায়ী প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন ওরকম কথা বলতেন না!

কী কথা বলেছেন? প্রশ্ন ছিল ২০২৮ সালের অলিম্পিকে ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি কতটা হলো। রিচার্ডসনের জবাবটা শুরু হলো এই কথায়, ‘সে জন্য আমাদের আগে বিসিসিআইকে রাজি করাতে হবে।’ যা শুনে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছা অযৌক্তিক নয় যে মরুর দেশ থেকে আইসিসি পরিচালিত হলেও নাটাই-সুতার লাগাম আসলে ভারতেই!



মন্তব্য