kalerkantho



রশিদকে খেলার প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল ইমরুলের

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রশিদকে খেলার প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল ইমরুলের

দুবাই থেকে প্রতিনিধি : খুলনায় বাংলাদেশ লাল আর সবুজ দলের চার দিনের ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষেও তিনি জানতেন না যে পরদিনই এশিয়া কাপে খেলার ডাক আসবে। অথচ ইমরুল কায়েস নাকি দলের বাইরে থেকেও রশিদ খানকে খেলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন।

দলের বাইরে থাকার অখণ্ড অবসরে সম্ভবত ‘নেই কাজ তো খই ভাজ’তে গিয়েই আফগান লেগস্পিনারের বোলিংয়ের ভিডিওতে ডুবেছিলেন। হুট করে এশিয়া কাপে এসেই অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংসে সুপার ফোরের ম্যাচে দলকে পথ দেখানোর ক্ষেত্রে কাজে দিয়েছে সেটিই।

গ্রুপ পর্বের ম্যাচে অন্যরা রশিদকে সামলাতে গিয়ে খাবি খেলেও সুপার ফোরে হলো ব্যতিক্রম। আগের ম্যাচেও গুগলিতে বারবার খেই হারানো মাহমুদ উল্লাহ যেমন এবার পাল্টাআক্রমণ করেছেন রশিদকে, তেমনি ইমরুলও ভালোভাবেই সামলেছেন তাঁকে। যেটি অপ্রত্যাশিতই অনেকটা। কারণ শনিবার সকালে খুলনা থেকে সড়কপথে যশোরে এসে ঢাকার ফ্লাইট ধরা ইমরুল সেদিন রাতেই উঠেছিলেন দুবাইয়ের পথে। শনিবার স্থানীয় সময় প্রায় মধ্যরাতে হোটেলে পৌঁছানোর পরদিন দুপুরেই আবার আবুধাবিতে।

সেখানে ক্যারিয়ারে এই প্রথমবারের মতো ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সফল ইমরুল তাঁর সাফল্যের নেপথ্যে রশিদকে নিয়ে পূর্ব প্রস্তুতিকেই কৃতিত্ব দিলেন, ‘রশিদের বোলিংয়ের কিছু কৌশল আমি অনুসরণ করছিলাম। বিশেষ করে গ্রিপিংয়ের। ভিডিও দেখছিলাম। এই ম্যাচে বোলিংয়ের সময় আমি ওই জিনিসগুলোই দেখছিলাম। হয়তো এ জন্যই আমি আগে থেকে রশিদকে পড়তে পারছিলাম। প্রতিটা বলে ও কী করতে চাচ্ছিল, আমি বুঝতে পারছিলাম।’

গত অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইস্ট লন্ডনে নিজের সবশেষ ওয়ানডে খেলার পর থেকেই বাইরে ইমরুল। এই সময়ে দলে ফেরার কোনো লক্ষণও ছিল না। তবু রশিদকে নিয়ে ডুবে থাকার ফল পেলেন অপ্রত্যাশিতভাবে এসে যাওয়া সুযোগেই, ‘এই কিছুদিন আগেও রশিদের ভিডিও দেখেছি। আগের অনেক ভিডিও দেখেছি। কোন গ্রিপে গুগলি করে, কোন গ্রিপে লেগস্পিন—এই জিনিসগুলো এই ম্যাচে আমি খেয়াল করছিলাম। এসব যখন আপনি আগে থেকে দেখবেন, তখন অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে।’

সহজেই রশিদকে সামলে দিতে পারা ইমরুলের জায়গা অবশ্য ছয় নম্বর কিছুতেই নয়। এর আগে খেলা ৭০ ওয়ানডের ৬১টিতেই ইনিংস ওপেন করেছেন। বাকি ৯টিতে নেমেছিলেন তিন নম্বরে। কখনো ঘরোয়া ক্রিকেটেও এত পরে ব্যাটিং না করা ইমরুলকে নতুন ভূমিকায় নামিয়ে দেওয়াটা তাই সমালোচিতই হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করে দলে ঢোকার জানালা এভাবে খুলে যাওয়াই এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের কাছে বড় মনে হবে স্বাভাবিক।

তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গেল সেই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াই, ‘আমার মনে হয় ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা যখন বড় ইনিংস খেলতে থাকে, তখন তারা সব পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করার মতো উপযুক্ত হয়ে ওঠে। কেননা লম্বা ইনিংস খেলতে হলে ওপেনারদের শুরুতে, মাঝে এবং এমনকি ডেথ ওভারেও ব্যাটিং করতে হয়। এ কারণেই আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় ৬ নম্বরে ব্যাটিং করা কোনো সমস্যাই না।’

পরশু দুবাই থেকে আফগানিস্তান ম্যাচ খেলতে আবুধাবি রওনা হওয়ার আগে হওয়া টিম মিটিংয়েই প্রথম তাঁকে জানানো হয় ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ের কথা। শুনে ভড়কে না যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করলেন, ‘আমি ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। ছয় নম্বরে যে ব্যাটিং করব, এটা আমি জেনেছি ম্যাচের দিন সকালে টিম মিটিংয়ে। আমার কাছে মনে হয়েছে আমি একটি ম্যাচ ও একটি সুযোগ পেয়েছি। সেটি শতভাগ কাজে লাগাতে হবে। ওইভাবেই আমি চেষ্টা করেছি।’

সেই চেষ্টার সাফল্যে আপাতত তাঁর ওপেনিংয়ে ফেরার কোনো সম্ভাবনাও নেই। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদও কালকের পাকিস্তান ম্যাচ সামনে রেখে অপরিবর্তিত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, ‘পাকিস্তান দলেও তো লেগস্পিনার শাদাব খান আছে।’ রশিদকে খেলার জন্য তাঁকে পরে পাঠানোর পরিকল্পনায় হেড কোচ স্টিভ রোডসের যুক্তি ছিল বিপিএলে আফগান লেগস্পিনার আর ইমরুল খেলেছেন একই দলের (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) হয়ে। যদিও ইমরুল জানালেন একই দলে থাকা নয়, নিজে থেকে রশিদের ভিডিও নিয়ে পড়ে থাকাই কাজে দিয়েছে।

এবার সামনে শাদাব খানও আছেন। যদিও ইমরুলের দাবি রশিদের মতো ভয়ংকর পাকিস্তানি লেগস্পিনার নন, ‘শাদাব খানকে আমি আগে একবার খেলেছি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ওর বলে আউটও হয়েছি। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, এখন বিশ্বের ভয়ংকরতম লেগস্পিনার রশিদ। ওকে বোঝা কঠিন। শাদাবও অবশ্যই ভালো বোলার। কিন্তু ওর গ্রিপিং দেখা যায়। বুঝতে পারবেন যে গুগলি না লেগস্পিন করছে।’

অবসরের প্রস্তুতিতে দুর্বোধ্য রশিদকেও পড়ে ফেলার পর এখন শাদাবের অপেক্ষায় ইমরুল!



মন্তব্য