kalerkantho



‘কলিনড্রেস অসাধারণ বিস্ময়কর’

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘কলিনড্রেস অসাধারণ বিস্ময়কর’

মাঠের খেলায় তৃপ্ত করাটাও তাই বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছিল কিংসের। এক ম্যাচে তার সবই পূর্ণতা পেয়েছে। ভরা গ্যালারির দর্শকরাই মাতিয়ে রাখলেন পুরো ম্যাচ, মাঠে তাদের মাতালেন ডেনিয়েল কলিনড্রেস, কেরভেন্স বেলফোর্টের মতো ফুটবলশিল্পীরা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বসুন্ধরা কিংসের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম এক শব্দে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানালেন, ‘সফল’। আয়োজন, মাঠের খেলা, দর্শকের প্রসঙ্গ তুলে এরপর তাঁর পুরো ব্যাখ্যাটা না দিলেও সমস্যা হতো না। সেই প্রমাণ ছিল জ্বলজ্বলে।

ঢাকার বাইরে এ ম্যাচ, যে মাঠে কিনা কিছুদিন আগেই জাতীয় দলের খেলা দেখতে দর্শকের ঢল নেমেছিল। একটা ক্লাব দল হয়ে তাও যারা কিনা প্রিমিয়ার লিগে নতুন, সেই দর্শকদের মাঠে ফেরানোটা ছিল প্রথম চ্যালেঞ্জ। আগেরবার হতাশ হয়ে, ভাঙা বুকে ফিরে গিয়েছিলেন দর্শকরা। তাদের এবার মাঠের খেলায় তৃপ্ত করাটাও তাই বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছিল কিংসের। এক ম্যাচে তার সবই পূর্ণতা পেয়েছে। ভরা গ্যালারির দর্শকরাই মাতিয়ে রাখলেন পুরো ম্যাচ, মাঠে তাদের মাতালেন ডেনিয়েল কলিনড্রেস, কেরভেন্স বেলফোর্টের মতো ফুটবলশিল্পীরা।

কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজনও তাই ভাবতে পারেন। নতুন দল নিয়ে মাত্র দুই সপ্তাহের অনুশীলনে যে পারফরম্যান্স উপহার পেয়েছেন তিনি, তাতে মুগ্ধ এই স্প্যানিশ, ‘৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে জিতেছি বলেই শুধু নয়, আমি খুশি মাঠে খেলোয়াড়রা আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিকঠাকমতো খেলতে পেরেছে বলেই। আমি মুগ্ধই হয়েছি এত অল্পদিনের অনুশীলনের ওদের এত ভালো করতে দেখে।’ বিশ্বকাপে খেলা ডেনিয়েল কলিনড্রেসকে নিয়ে বলতে গিয়েও তাঁর মুগ্ধতা ঝরে পড়ল, ‘এক কথায় অসাধারণ, বিস্ময়কর। তাঁর পারফরম্যান্স দেখাটা বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সৌভাগ্য। আমার মনে হয় সে বোঝাতে পেরেছে বিশ্বকাপের মানটা আসলে কী। আমাদের খেলোয়াড়দের জন্যও একটা উদাহরণ হয়ে থাকল।’ এমন গুরুত্বপূর্ণ একজনকে বাড়তি সুরক্ষা দিতে কোচ তাঁকে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে আনারও অনুমতি দিলেন না, গাড়িতে তুলে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীদের প্রহরার মধ্যে। তবে বেলফোর্ট দারুণ আমুদে। যেমন মাঠের খেলায় তেমনি মাঠের বাইরেও। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইতেই বললেন, ‘অসাধারণ। দারুণ দর্শক। ম্যাচটা আমি খুবই উপভোগ করেছি।’ ব্রুজন নিজেও সন্তুষ্ট এই হাইতিয়ান স্ট্রাইকারের নৈপুণ্যে, ‘বেলফোর্টও আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আজ ও যেভাবে অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলেছে এবং ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছে, তাতে সত্যিই আমি খুশি।’ ভাবনার একটা জায়গা বললেন তিনি শুধু ডিফেন্স নিয়ে। প্রথমার্ধেই ডিফেন্সের ভুলে পেনাল্টি পায় নিউ রেডিয়েন্ট। আলি ফাসির তাতে সুযোগ নষ্ট না করলে তাদের ম্যাচে ফেরার সুযোগ থাকত। দ্বিতীয়ার্ধে ৪-১ হওয়া গোলটিতেও দলের ডিফেন্স অর্গানাইজেশনে ঘাটতি ছিল বলে উল্লেখ করেছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। তবে ক্রমে দলটাকে আরো শক্তিশালী চেহারা উপহার দিতে পারবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।

নিজের সাবেক দলের বিপক্ষে এমন বড় জয়ে ব্যক্তিগত একটু বেদনাও আছে তাঁর, ‘ওদের আমি সেরা অবস্থায় রেখে এসেছিলাম। এভাবে হারতে দেখে খারাপই লাগছে।’ রেডিয়েন্টের নতুন কোচ সোবহান মোহাম্মদ অবশ্য বলেছেন, এটা তাঁদের মূল খেলা নয়, ‘সাফের বিরতির পর মাত্র দুদিন অনুশীলন করেই বাংলাদেশে এসেছি। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কেও আনতে পারিনি। আমার বিশ্বাস আরো ভালো খেলার সামর্থ্য আছে এই দলের।’ কিংসেরও তো এদিন সামর্থ্যের ঝলকটাই শুধু দেখা গেল। লিগে বা তার আগে ফেডারেশন কাপেই হয়তো তাদের শক্তির পূর্ণরূপ দেখবে প্রতিপক্ষ ক্লাবগুলো। তাদের জন্য এই পারফরম্যান্স তাই বড় সতর্কবার্তাই। 



মন্তব্য