kalerkantho



অভিষেকে উজ্জ্বল

গুরুত্বহীন ম্যাচে ‘অলরাউন্ডার’ রশিদের কাছে হার

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গুরুত্বহীন ম্যাচে ‘অলরাউন্ডার’ রশিদের কাছে হার

রান তাড়ায় এমন শুরুর বিপর্যয় সামলে জেতার কার্ডিফ স্মৃতিই কিছুক্ষণের জন্য ফিরে এসেছিল আবুধাবিতে। ফিরে এসেছিল কারণ ৪৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর যে জমে উঠছিল সাকিব আল হাসান ও মাহমুদ উল্লাহর জুটিও। তাঁদের জমে যাওয়া মানেই তো নতুন কোনো কীর্তির ডানা মেলার সম্ভাবনা।

সব ডানা মেলে সে সম্ভাবনা সত্যিও হয়েছিল গত বছর কার্ডিফে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির নিউজিল্যান্ড ম্যাচে। সেখানেও পরিস্থিতি কালকের মতোই ছিল। কিউইদের ২৬৫ রান তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ ৩৩ রানেই খুইয়ে ফেলেছিল ৪ উইকেট। সেখান থেকে দুজনেরই সেঞ্চুরি এবং ২২৪ রানের জুটিতে জিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালও নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ।

প্রায় একই রকম পরিস্থিতি থেকে এবার অবশ্য সে রকম কোনো কিছু হলো না। হলো যে না, তার কারণ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সবচেয়ে ভীতিকর নাম রশিদ খানই। এই লেগস্পিনার সাকিব-মাহমুদের জুটি ৩৬ রানেই ভাঙলেন প্রথমজনকে (৩২) এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে। পরেরজনেরও আরো আগেই ফেরার কথা থাকলেও গুগলিতে নাকাল হতে হতে আরো কিছুক্ষণ টিকলেন, তবে বেশিক্ষণ নয়। সেই গুগলিতেই বোল্ড হয়ে শেষ মাহমুদ উল্লাহ (২৭)। সেই সঙ্গে গুরুত্বহীন হয়ে যাওয়া ম্যাচে শেষ বাংলাদেশের জেতার আশাও।

আজ ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই শেষ গ্রুপ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ১৩৬ রানের বড় ব্যবধানেই হারল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। যে হার সাকিবের বোলিং সাফল্যকে বিসর্জনে পাঠাল যেমন, তেমনি উজ্জ্বল করল অলরাউন্ডার রশিদ খানকেও। তা না বলে উপায় কি! ১৬০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসা আফগানিস্তানের ২০০ পেরোনো নিয়েই যখন শঙ্কা, তখন গুলবাদিন নাইবের (৩৮ বলে অপরাজিত ৪২) সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৯৫ রানের জুটিতে রশিদই তো মুখ্য চরিত্র।

৩২ বলে ৮ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় অপরাজিত ৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে দলকে আড়াই শ পার করে নেওয়া রশিদ পরে পেরেক ঠুকেছেন বোলিংয়েও। দুই ভূমিকায়ই রশিদের চড়ে বসার দিনে সাকিবের বোলিং সাফল্য বিফলে যাওয়ার পুনরাবৃত্তিও হলো। দুই বছর আগে এই সেপ্টেম্বরেই শেষবার ওয়ানডেতে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। মাঝখানে ৩০ ম্যাচের ২৮ ইনিংস পেরিয়ে গেলেও একই সাফল্যের দেখা মিলছিল না এই অলরাউন্ডারের।

অবশেষে দেখা পেলেন এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হলো দুই বছর আগে-পরে তাঁর এই কৃতিত্ব হারের হতাশায় বিলীন করা প্রতিপক্ষ সেই আফগানিস্তানই। ২০১৬-এর সেপ্টেম্বরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিন ওয়ানডের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েও জেতাতে পারেননি বাংলাদেশকে। ২ উইকেটে জিতে আফগানরা সমতা ফিরিয়েছিল সিরিজেও। সেবার শেষ ম্যাচ জিতে সিরিজ পকেটে ভরা বাংলাদেশ এবার এশিয়া কাপ লড়াইয়েও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জ্বলে উঠতে দেখল সাকিবকে। ৪২ রান খরচায় ৪ উইকেট নেওয়া এই অলরাউন্ডারের ব্যাটও বেশিক্ষণ জয়ের আশা ধরে রাখতে পারেনি।

যদিও আজকের ভারত ম্যাচ সামনে রেখে নিজেদের সতেজ রাখার চিন্তাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছিল বাংলাদেশ শিবিরের কাছে। যে জন্য এক সাকিব ছাড়া অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা কাউকে দিয়েই পুরো ১০ ওভার করালেন না। এমনকি দারুণ মিতব্যয়ী বোলিং করার পর অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকে (৮ ওভারে খরচ ২১ রান) দিয়েও নয়। অধিনায়ক নিজে ৮ ওভার করলেও আরেক পেসার রুবেল হোসেনকে দিয়ে করিয়েছেন আরো কম (৬ ওভার)। আজকের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য নিজেদের জ্বালানি জমিয়ে রাখার পরিকল্পনায় ব্যবহার করেছেন অনিয়মিত বোলারদেরও।

উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাশ, মোহাম্মদ মিঠুন ও নাজমুল হোসেন ছাড়া একাদশের বাকি আটজনকেই ব্যবহার করেছেন মাশরাফি। বোলারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহারেই কাজ হয়ে যাচ্ছিল প্রায়। অভিষিক্ত বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার শুরুতে ২ উইকেট তুলে দেওয়ার পর দৃশ্যপটে এলেন সাকিবও। তাতে কাজ হতে হতেও হলো না ব্যাটসম্যান রশিদ খানও পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করায়। শেষ ৫ ওভারে তাই ৫৭ রান তুলল আফগানিস্তানও।

এরপর যথারীতি বোলিংয়েও সেই রশিদ খানই বন্ধ করলেন কার্ডিফ স্মৃতির পাতাও। দুয়ে মিলে তাই এটি বলতেই হচ্ছে যে লেগস্পিনার রশিদই নন, অলরাউন্ডার রশিদেই লেখা হলো বাংলাদেশের বড় হারের ভাগ্য!



মন্তব্য