kalerkantho



রোমাঞ্চকর জয় লিভারপুলের

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রোমাঞ্চকর জয় লিভারপুলের

চ্যাম্পিয়নস লিগে মৌসুমের প্রথম রাতটা উদ্ভাসিত লিওনেল মেসির আলোয়। শুরুতেই হ্যাটট্রিক আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির। তাঁর হ্যাটট্রিকে নেদারল্যান্ডসের পিএসভি আইন্দহোফেনকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বার্সেলোনা। স্যামুয়েল উমতিতি লাল কার্ড দেখলেও দাপট ছিল কাতালানদের। একই রাতে নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় লিভারপুলের। টটেনহামের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও নাটকীয় ২-১ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মিলান। শুরুতে গোল হজম করে ২-১ ব্যবধানের জয় ডিয়েগো সিমিওনের অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদেরও।

ন্যু ক্যাম্পে ৭৫ শতাংশ বলের দখল রেখে বার্সেলোনা পোস্টে শট নিয়েছিল ২১টি। লক্ষ্যে ছিল এর ৯টি। দাপুটে এমন পারফরম্যান্সেও বিরতির আগে গোল শুধু একটি। ৩১ মিনিটে ২২ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রিকিক এগিয়ে দেন কাতালানদের। ৫২ মিনিটে লুই সুয়ারেসের কাটব্যাক ফাঁকায় পেয়েও উড়িয়ে মারেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো। ৬৭ মিনিটে লুই সুয়ারেসের শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ৭৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। কৌতিনিয়োর পাস পেয়ে পিএসভির দুই খেলোয়াড়ের ভেতর দিয়ে বল নিয়ে বের হয়ে কাটান একজনকে। এরপর আগুনে শটে বল জালে। পরের গল্পটা মেসির।

৭৭ মিনিটে ইভান রাকিটিচের কাছ থেকে বল পেয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন মেসি। ৭৯ মিনিটে লোসানোকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্যামুয়েল উমতিতি। ১০ জন নিয়েও ৮৭ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মেসি। সুয়ারেসের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে তৃতীয় গোল বার্সা অধিনায়কের। এটা চ্যাম্পিয়নস লিগে অষ্টম হ্যাটট্রিক তাঁর, যা টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সাত হ্যাটট্রিক নিয়ে পেছনে পড়লেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ শেষে মেসির প্রশংসায় বার্সা কোচ এরনেস্তো ভালভার্দে জানালেন, ‘আমাদের যে কারো বেলায় ফ্রিকিক গোলটা অস্বাভাবিক হতো। কিন্তু মেসি এটা রুটিন বানিয়ে ফেলেছে।’

অ্যানফিল্ডে সব আকর্ষণ ছিল মো সালাহ ও নেইমারকে ঘিরে। কিন্তু লিভারপুল, পিএসজির ম্যাচে একপ্রকার নিষ্প্রভ ছিলেন দুজন। ৩০ মিনিটে অ্যান্ড্রু রবার্টসনের ক্রসে ড্যানিয়েল স্টারিজের হেডে এগিয়ে যায় লিভারপুল। ৩৬ মিনিটে  উইনালডুমকে পিএসজির ডিফেন্ডার হুয়ান বের্নাত ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জেমস মিলনার। ৪০ মিনিটে এক গোল ফেরান থমাস মুনিয়ের। ৫৮ মিনিটে মো সালাহ বল জালে জড়ালেও এর আগে আরিওনাল স্টারিজের ফাউলে গোল হয়নি সেটা। ৮৩ মিনিটে মো সালাহর ভুলে বল পেয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় এগিয়ে যান নেইমার। এক ডিফেন্ডার বাধা দিলেও সেই বল এমবাপ্পে পেয়ে জড়ান জালে। তখন মনে হচ্ছিল ২-২ সমতায় শেষ হতে যাচ্ছে ম্যাচ। কিন্তু ইনজুরি টাইমে অসাধারণ ফিনিশিংয়ে লিভারপুলকে ৩-২ ব্যবধানের জয় এনে দেন রবার্তো ফিরমিনো। অথচ চোখের ইনজুরির জন্য মাঠেই নামার কথা ছিল না তাঁর। তাই গোলের পর উদ্যাপনটা করেন চোখে হাত রেখে! এই গোলের সময়ই ক্ষোভে বেঞ্চে থাকা মো সালাহর বোতল ছুড়ে মারাটা তৈরি করেছে বিতর্কের।

ইন্টার মিলানের মাঠে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের ৫৩ মিনিটের গোলে এগিয়ে যায় টটেনহাম। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত আর গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। টটেনহামও রক্ষণে খেলোয়াড় বাড়িয়ে কাটিয়ে দিতে চেয়েছিল বাকি সময়টা। কিন্তু ম্যাচ শেষের পাঁচ মিনিট আগে সমতা ফেরান মাউরো ইকার্দি। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে মাতিয়াস ভেসিনোর লক্ষ্যভেদে নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার। অপর ম্যাচে স্যামুয়েল গ্রানদিসির ১৮ মিনিটের গোলে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েছিল মোনাকো। তবে ৩১ মিনিটে ডিয়েগো কস্তা ও বিরতির ঠিক আগে হোসে হিমেনেসের লক্ষ্যভেদে ২-১ গোলের জয় অ্যাতলেতিকোরই। এএফপি

 



মন্তব্য