kalerkantho



লেবাননও উড়ে গেল বাংলাদেশের কাছে

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



লেবাননও উড়ে গেল বাংলাদেশের কাছে

শেষ পর্যন্ত ৮-০তেই শেষ হয়েছে ম্যাচ। এও প্রত্যাশা ছাড়ানো স্কোরলাইন। কারণ লেবাননও টুর্নামেন্টে প্রায় একই ব্যবধানে হারিয়েছে বাহরাইনকে। তাদেরও এমন বড় মার্জিনে হারানো সম্ভব বাংলাদেশ দল অন্তত ভাবেনি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাজেদার শটটা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে রীতিমতো উদ্যাপন করল লেবাননের ১০ নম্বর ক্রিস্টি মারুফ। দলটা ততক্ষণে বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে ছেলেখেলার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, হজম করে ফেলেছে ৮ গোল। ভরদুপুরের তপ্ত রোদে আর কতক্ষণই বা এমন অসম লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব! তবু বাংলাদেশ যখন স্কোরলাইনটা ১০-০ করার পথে, তাদের সেই চেষ্টা থেকে বিরত রাখাটাও সামান্য কৃতিত্ব। সেই আনন্দেই যেন ক্রিস্টির হাই ফাইভ তার সঙ্গীর সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত ৮-০তেই শেষ হয়েছে ম্যাচ।

এও প্রত্যাশা ছাড়ানো স্কোরলাইন। কারণ লেবাননও টুর্নামেন্টে প্রায় একই ব্যবধানে হারিয়েছে বাহরাইনকে। তাদেরও এমন বড় মার্জিনে হারানো সম্ভব বাংলাদেশ দল অন্তত ভাবেনি। কোচ গোলাম রব্বানীও ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘এই ম্যাচে জয় পেলেই আমি খুশি থাকতাম। সেখানে এমন বড় ব্যবধানের জয়! এর পুরো কৃতিত্ব মেয়েদেরই দিতে হবে।’ তাতে বড় ভাগ সাজেদা, শামসুন্নাহারের। এই দুজনেরই জোড়া গোল। কোচ অন্য ফরোয়ার্ডদের সুযোগ দিতে শামসুন্নাহারকে তুলে নিয়েছিলেন। পুরো ম্যাচ খেলেও অবশ্য হ্যাটট্রিক হয়নি সাজেদার। হতে পারত, শেষের দিকে ক্রিস্টি যদি গোললাইন থেকে ওই সেভটা না করত, আরেকবার তার শট পোস্টে ঢোকার মুখে পা ছুঁইয়ে বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে নিজের দলেরই ইলামনি। ম্যাচের ১৪ মিনিটে সাজেদাই কাল গোলের খাতা খোলে। আগের ম্যাচে আঁখির লং পাসে অসাধারণ গোল করা এই স্ট্রাইকার কাল লেবাননের দুই ডিফেন্ডারের ভুল-বোঝাবুঝিতে বক্সের মুখে বল পেয়ে প্লেসিং শটে তা জালে জড়ায়। দ্বিতীয় গোলটা আত্মঘাতী। যে গোলের আগে বাংলাদেশের মেয়েদের পাসিং ফুটবলের প্রদর্শনী হয়েছে প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে। মারিয়া থেকে মনিকা, আবার মারিয়া, তার থেকে শামসুন্নাহার, এই উইঙ্গারের আলতো করে বাড়ানো বলে পেছন থেকে এসে তহুরার শট করার কথা। তাকে সামলাতে গিয়েই নিজেদের জালে বল ঠেলেছে লেবাননের ডিফেন্ডার। প্রথম ম্যাচে ১০ গোলের জয়ে একেবারে শেষে একটা গোলে পেয়েছিল তহুরা। কাল শুরুতেই নিজের সুযোগটা নষ্ট হতে এই স্ট্রাইকার গোলের জন্য মরিয়া। স্কোরলাইন ৩-০ করা তার গোলটাতে সেই ছাপ। ডান দিক দিয়ে একাই বল নিয়ে ঢুকেই কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ।

বিরতির আগে আরো দুই গোল স্বাগতিকদের। ডান দিক দিয়েই ছোট্ট এক স্প্রিন্টে জায়গা করে নিয়ে রাইট ব্যাক আনাই মোগিনি করেছে ৪-০। সাজেদা বক্সের মাঝামাঝি দুই ডিফেন্ডারকে ফেলে করে পঞ্চমটি। ম্যাচের ভাগ্যে কী আছে জানতে এরপর বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। ব্যবধানটা কততে নিয়ে যায় স্বাগতিকরা সেটাই ছিল দেখার। বিরতির দৃশ্যপটে আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা শামসুন্নাহার। এই ম্যাচেও টানা দুই গোল করে ফেলে সে। প্রথমটাই লেবাননি ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে, পরেরবার আঁখির ক্রসে পা ছুঁইয়ে। মাঝমাঠে মারিয়ার পায়ে যখন বল তখন বাঁ উইং ধরে ওপরে উঠছে আঁখি। মারিয়া তাঁকে বল ছাড়তেই সেখান থেকে চমৎকার ক্রস এবং শামসুন্নাহারের দারুণ ফিনিশিং। এই দলের সামর্থ্যেরই বড় প্রমাণ যে গোলে। পরে শামসুন্নাহারের জায়গায় নামা ইলামনির পাসে আরেক বদলি খেলোয়াড় রোজিনার লক্ষ্যভেদেই ৮-০। এই জয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে ঢাকার এই বাছাই পর্বে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে। দুই জয়ে লেবাননের ৬ পয়েন্ট হলেই তাদের চেয়ে ১৫ গোলে এগিয়ে স্বাগতিকরা। কাল বাহরাইনের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি অন্তত ১৪ গোল করতে হতো ভিয়েতনামকে বাংলাদেশকে ছুঁতে। তারা তা-ই করেছে। বাহরাইনকে ১৪-০তেই হারিয়েছে তারা। শিরোপার পথে এই দলটিকেই এখন মূল বাধা ধরা হচ্ছে স্বাগতিকদের।



মন্তব্য