kalerkantho



আফগান স্পিনভীতি নেই যে কারণে

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আফগান স্পিনভীতি নেই যে কারণে

টি-টোয়েন্টিতে রান তোলার তাড়ায় বিগ শট খেলার চেষ্টা থাকে ব্যাটসম্যানদের। উঁড়িয়ে মারার সে চেষ্টায় থাকে উইকেট হারানোর ঝুঁকিও। ওয়ানডেতে সেই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব বলেই আফগান স্পিনারদের এবার আর চড়ে বসার সম্ভাবনা দেখছেন না স্টিভ রোডস। এই ইংলিশ কোচের মতে, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা একটু অন্যরকম। এই ফরম্যাটে বোলারদের একটু দেখেশুনে খেলার সুযোগ কম। যে কারণে ব্যাটসম্যানরা অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তবে ওয়ানডেতে কিছুটা হলেও বাড়তি সময় পাওয়া যায়। তার মানে প্রতিপড়্গের বোলারদের বুঝে নেওয়ার সুযোগটা থাকে।’

 

১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১০১ রান। উইকেটে তখন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। অর্থাৎ শেষ ৫ ওভার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে জেতার মতো পুঁজি স্কোরবোর্ডে তোলার সুযোগ তখনো আছে। ওই সময়ই বোলিংয়ে ফেরা রশিদ খান ১৬তম ওভারেই সেই আশার সমাধি খুঁড়ে ফেললেন। প্রথম বলেই সাকিবকে তুলে নেওয়ার পর ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম ডেলিভারিতে এই লেগস্পিনারের শিকার তামিম এবং মোসাদ্দেক হোসেনও। গত জুনে ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের চিত্র সেটি।

ওই এক ম্যাচেই নয়, পুরো সিরিজজুড়েই তাঁর লেগস্পিন ও গুগলিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়ে আসা রশিদ আবার তাঁদের সামনে। তবে রশিদ একা নন, দুই অফস্পিনার মুজিব-উর রহমান ও মোহাম্মদ নবী স্পিনত্রয়ীই সেই সিরিজে আতঙ্কের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছিলেন। এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়নশিপ লড়াইয়ে আগামীকাল যখন আবার তাঁদের মুখোমুখি বাংলাদেশ, তখন আফগান স্পিনভীতি নিয়ে আলোচনা ওঠা অস্বাভাবিক নয়। তা উঠলও; কিন্তু শিষ্যদের আগে স্টিভ রোডসই সেই ভীতির ভিত নড়িয়ে দিতে চাইলেন।

পরশু আবুধাবিতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচ গভীর মনোযোগে দেখে এসেছেন। আর গতকাল দুপুরে কথা বলতে বসে যা বললেন, তাতে ভয় এক ফুত্কারে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা, ‘বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে তারা দুর্দান্ত এক ক্রিকেট জাতি হয়ে উঠেছে। সে জন্য ওদের সমীহও করতে হবে। তাই বলে ওদের আমরা অবশ্যই ভয় পাচ্ছি না।’ বিশেষ করে স্পিনভীতি তাড়ানোর ক্ষেত্রে পুরো দলই যে একই মনোভাব

পোষণ করে, সেটি বোঝা গেল সকালে মেহেদী হাসান মিরাজের কথায়, ‘আমাদের যারা ব্যাটসম্যান আছে, তারা স্পিন খুব ভালো খেলে। আশা করি কোনো সমস্যা হবে না। আর ওটা (দেরাদুনের সিরিজ) ছিল টি-টোয়েন্টি। এই ফরম্যাটের সঙ্গে ওয়ানডের পার্থক্য আছে। এটা ৫০ ওভারের খেলা। সিঙ্গেল নিয়ে, স্ট্রাইক বদলে খেলার সুযোগ থাকে। ওই রকম তাড়াহুড়া করা লাগে না।’

টি-টোয়েন্টিতে রান তোলার তাড়ায় বিগ শট খেলার চেষ্টা থাকে ব্যাটসম্যানদের। উড়িয়ে মারার সে চেষ্টায় থাকে উইকেট হারানোর ঝুঁকিও। ওয়ানডেতে সেই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব বলেই আফগান স্পিনারদের এবার আর চড়ে বসার সম্ভাবনা দেখছেন না স্টিভ রোডস। এই ইংলিশ কোচের মতে, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটটা একটু অন্য রকম। এই ফরম্যাটে বোলারদের একটু দেখেশুনে খেলার সুযোগ কম। যে কারণে ব্যাটসম্যানরা অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তবে ওয়ানডেতে কিছুটা হলেও বাড়তি সময় পাওয়া যায়। এর মানে প্রতিপক্ষের বোলারদের বুঝে নেওয়ার সুযোগটা থাকে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে কালকের ম্যাচে তাই দেরাদুনের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনাও দেখছেন না রোডস, ‘আমি তাই আফগান স্পিনারদের নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই। আমার মনে হয় ওদের আমরা বেশ ভালোই সামলাতে পারব। কারণ আমাদের আছে অসাধারণ কয়েকজন ব্যাটসম্যান। তা ছাড়া আমাদের তো প্রতি বলে ছক্কা মারারও দরকার নেই।’

টি-টোয়েন্টির মতো ছক্কার চাহিদা অত নেই বলে এবার আফগান স্পিনভীতিও তাই নেই!

 



মন্তব্য