kalerkantho



যে বার্তা দিয়ে গেলেন তামিম

মাসুদ পারভেজ, দুবাই থেকে   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



যে বার্তা দিয়ে গেলেন তামিম

এশিয়া কাপ আর খেলতে পারবেন না বলে যখন ভীষণ ব্যথিত এই ওপেনার, সেই সময়েই কিনা তাঁর কাছে আসছে দুবাইতে টি-টেন লিগে খেলার প্রস্তাব। গতবার এই নতুন ফরম্যাটের ক্রিকেটের প্রথম আসরে খেলেছেন পাখতুনসের হয়ে। এবারের প্রস্তাব অবশ্য ভিন্ন শিবিরের কাছ থেকে, ‘বেঙ্গল টাইগার্স নামের দল মালিক খেলতে বলছেন আমাকে। কিন্তু আমি তো খেলতেই পারব না।’

একটু পরপরই তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ আসছিল আর পাল্টা জবাবও দিয়ে চলছিলেন তামিম ইকবাল। এশিয়া কাপ আর খেলতে পারবেন না বলে যখন ভীষণ ব্যথিত এই ওপেনার, সেই সময়েই কিনা তাঁর কাছে আসছে দুবাইতে টি-টেন লিগে খেলার প্রস্তাব। গতবার এই নতুন ফরম্যাটের ক্রিকেটের প্রথম আসরে খেলেছেন পাখতুনসের হয়ে। এবারের প্রস্তাব অবশ্য ভিন্ন শিবিরের কাছ থেকে, ‘বেঙ্গল টাইগার্স নামের দল মালিক খেলতে বলছেন আমাকে। কিন্তু আমি তো খেলতেই পারব না।’

পারার কথাও নয়। কারণ কবজির চোটে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়া তামিমকে সুস্থ হয়ে ফিরলেই জাতীয় দলের ভীষণ ব্যস্ততায় নিজেকে সঁপে দিতে হবে। অক্টোবর-নভেম্বরের জিম্বাবুয়ে সিরিজ মিস করারই সম্ভাবনা বেশি। তবে এর পরই দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ চলবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অবধি। আর টি-টেন ক্রিকেটের দ্বিতীয় আসরের সূচি নির্ধারিত হয়ে আছে ২৩ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কাজেই এবার অন্তত এই আসরে খেলার সুযোগ নেই কোনো। তাই আপাতত ওই দল মালিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতেই সব কিছু সীমাবদ্ধ রাখতে হলো তামিমকে।

যিনি কাল সকালেই ঘুরে এসেছেন দুবাইয়ের আল জাহরা হাসপাতাল। চোট পাওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যে আবার তাঁর কবজির চোটের অবস্থা মূল্যায়ন করার কথা ছিল। সেটি করতেই বাংলাদেশ দলের ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহনকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে। সেখানে কবজির স্ক্যান করানো হলো আবার। সেটির রিপোর্ট নিয়ে দেখা করেছেন দুবাইতেই জমিয়ে বসা এক জার্মান অস্থি বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও। সেখান থেকে আরো বড় কোনো দুঃসংবাদ আসেনি বলেই জানা গেছে। দল খুব করে জানতে চাইছিল আসলে অস্ত্রোপচার লাগবে কি না। জার্মান বিশেষজ্ঞ তেমন কিছুর প্রয়োজন নেই বলে জানানোর পরও আরো নিশ্চিত হতে তামিমের স্ক্যান রিপোর্ট কাল পাঠানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়াতেও। কারণ জার্মান বিশেষজ্ঞের খ্যাতি থাকলেও এর আগে ক্রিকেটারদের ইনজুরি নিয়ে কাজ করেননি।

সে জন্যই অস্ট্রেলিয়ান ডাক্তারের কাছ থেকে অন্য কোনো সুপারিশ আসে কি না, সেই অপেক্ষাও আছে বাংলাদেশ শিবিরের। যাঁরা ভারত ছাড়া সব দলই একই হোটেলে থাকার পরও তামিমের ছিটকে পড়ার ব্যাপারটি গোপন করার কৌশল বেছে নিয়েছিল। যদিও আরো আগেই সব উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার পর কাল অবশেষে খালেদ মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে বললেন এই কথা, ‘তামিমকে চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।’ যে কারণে তামিমও আর দলের সঙ্গে থাকছেন না। শুরুতে ভেবেছিলেন স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে এসে কয়েকটি দিন দুবাইতেই পার করে যাবেন। তবে এখন সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে আজই দেশে ফিরে যাচ্ছেন চোটগ্রস্ত ওপেনার।

যাওয়ার আগে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ভাঙা কবজি নিয়ে এক হাতে ব্যাটিং করতে নামার বীরত্বে দলের জন্য দিয়ে যাচ্ছেন নতুন এক বার্তাও। যে বার্তা বিশেষ করে দলের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য ভীষণ অনুপ্রেরণারও। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন নজির অসংখ্য যে ছোটখাটো চোটের কথা বলে ম্যাচ খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। আবার গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে দেশের ইতিহাসের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকেও ইনজুরির কথা বলে সরে পড়ার ঘটনা আছে এক সাবেক ফাস্ট বোলারের। সেই সময় থেকেই ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদও নিশ্চিতভাবেই এ রকম অসংখ্য ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও।

এই যুগে এসে ফেলে আসা দিনগুলো ভোলার মতোই উদাহরণ তাঁর সামনে। যেটি দেশে ফিরে যাওয়ার আগে রেখে গেলেন তামিম। খেলারই কথা নয় যেখানে, সেখানে এক হাতে নেমে যাওয়ার বীরত্ব দলের তরুণদের মাঝে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করেন মাহমুদ, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো দেশের জন্য খেলা। খুব ভালো লেগেছে, যেভাবে তামিম দেশের জন্য খেলতে নেমেছিল। প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্যই এটি একটি বিশাল বার্তা। আসলে আপনি যখন খেলবেন, তখন দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। আমার মনে হয় আমাদের তরুণ ক্রিকেটাররা এটা অনুসরণ করবে। চোট-আঘাতের ভয় জয় করে খেলার সাহসও পাবে।’

নিজের বেদনার মাঝেও সেই সাহসই ছড়িয়ে দিয়ে গেলেন তামিম।



মন্তব্য