kalerkantho


শুরু হচ্ছে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই

এবার কিছু একটা ওদের করতেই হবে

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এবার কিছু একটা ওদের করতেই হবে

সাকিব আল হাসানের বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের চোটের জন্য একজন বিকল্প দলের সঙ্গে রাখার চিন্তা থেকেই এশিয়া কাপের বাংলাদেশ স্কোয়াড ১৫ থেকে ১৬ জনের হয়েছে।

সুবাদে মমিনুল হকও চলে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। অবশ্য ব্যাটিংয়ের তিন নম্বরে সাকিবের বিকল্প হিসেবে আরেকজনের নামও উঠে আসতে যাচ্ছিল। কিন্তু দলসংশ্লিষ্ট একজন অঙ্কুরেই সেই সম্ভাবনা বিনাশ করেছিলেন, ‘বিকল্প যদি হয় সৌম্য, তাহলে দল ১৫ জনেরই থাকুক।’

তারকাদের আলো ঝলমলে জীবনের অন্ধকার দিক এটাই যে এখানে নিষ্ঠুরতাও আছে। লম্বা সময় ফর্মে না থাকলে সাফল্যের সোনালি সময়ও সেই কোন কালের কীর্তি বলে মনে হতে শুরু করে! অথচ তাঁর অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংসে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবিয়েছিল বাংলাদেশ মাত্র সাড়ে তিন বছর আগেই। হারে শুরু করা বাংলাদেশ টানা দুই ম্যাচে সৌম্যর অপরাজিত ৮৮ ও ৯০ রানের ইনিংসে ভর দিয়েই প্রবলভাবে ফিরে এসে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

সৌম্যর গত বেশ কিছুদিনের পারফরম্যান্স অবশ্য নিজের সেই সময়টি হারিয়ে খোঁজার। আয়ারল্যান্ড সফরে ‘এ’ দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অল্পবিস্তর রান করলেও ওয়ানডে ভাবনায় আপাতত তিনি ‘দূরের জন’ই। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টানা তিন ম্যাচের ব্যর্থতায় সৌম্যর চেয়েও দূরে চলে গেছেন এনামুল হকও। পুরো ওয়ানডে সিরিজে তাঁকে খেলানোর বিষয়ে দলের মধ্যে ভিন্ন মত থাকলেও একটি বাজি ধরে দেখতে চেয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত দলকে চাঙ্গা করে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক সেই বাজিতে হেরেছিলেন। তার ওপর ২-১-এ জেতা সেই সিরিজে যখন সিনিয়ররা পারফরম্যান্সের ফুল ফুটিয়েছেন, তখন তরুণরা ছিলেন ব্যাকবেঞ্চার।

এবার যখন এশিয়া কাপ, তখন পেছন থেকে তাঁদের সামনের বেঞ্চে আসার তাগিদটা সবচেয়ে বেশি দিচ্ছেন মাশরাফিই। গতকাল বিকেলে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ছয় অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলন সেরে আইসিসির একাডেমি মাঠে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার অনুশীলনে যোগ দেওয়া মাশরাফি এক ফাঁকে এসে বলে গেলেন সেটিই, ‘সব সময় তো আসলে চার-পাঁচজনের পারফরম্যান্স দিয়ে এই ধরনের টুর্নামেন্ট জেতা যাবে না। দল হিসেবে ভালো করার জন্যও খুব দরকারি হলো তরুণদের এগিয়ে আসা। এখন পর্যন্ত যত ম্যাচ জিতেছি, দল হিসেবেই জিতেছি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজেও জিতেছেন তবে সেটি পুরো দলের নয়। মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদ উল্লাহ, এই পাঁচজনেরই অবদান তরুণদের ব্যর্থতা আরো বড় করে ফুটিয়ে তুলেছিল। এশিয়া কাপে সেটিরই অবসান চান ম্যানেজার খালেদ মাহমুদও, ‘পাঁচজন সিনিয়রকে নিয়ে অনেক অভিজ্ঞ দল আমাদের। ওদের দিকেই তাকিয়ে থাকি। তবে ওদের দিকে তাকালেই হবে না। তরুণদের কাছ থেকেও দরকার পারফরম্যান্স।’ বাংলাদেশ দলের এই সাবেক অধিনায়ক আরো বলছিলেন, ‘খালি সাকিব, তামিম, রিয়াদ, মুশফিক ও মাশরাফিদের দিকে তাকিয়ে থাকলেই হবে না। তরুণদের এগিয়ে আসাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ এখন। বিচ্ছিন্নভাবে মিরাজ টেস্টে কিংবা মুস্তাফিজ ওয়ানডেতে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স করেছে। সে রকম আরো বেশি হতে হবে।’

উইকেট মাত্র তিনটি পেলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে অফস্পিনার মিরাজের ইকোনমি রেট ছিল ঈর্ষণীয় (৪.০৬)। নতুন বলে তাঁর মিতব্যয়িতা ম্যাচের ছন্দ ধরতে দারুণ সহায়কও হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। তবে ব্যাটিংয়ে তরুণরা দিতে পারেননি আস্থার প্রতিদান। ব্যর্থতায় ছিটকে পড়া এনামুলের জায়গায় আজ তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেন করতে নামছেন যিনি, সেই লিটন কুমার দাশ ফ্লোরিডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩২ বলে ৬১ রানের ঝড় তুললেও ওয়ানডেতে এখনো পরীক্ষিত নন। ১২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৬ রানের, গড় মাত্র ১৫!

এশিয়া কাপ তাই নিজেকে প্রমাণের মঞ্চও হয়ে উঠছে লিটনের জন্য। শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ সাব্বির রহমানেরও দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। তাঁর জায়গায় সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ মিঠুনেরও এবার বড় পরীক্ষা। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ম্যাচই খেলা মোসাদ্দেক হোসেনের কাছেও রানের দাবি নিত্য বেড়ে চলেছে। অবশ্য শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে বাঁ হাতির আধিক্য থাকায় তাঁর অফস্পিনও কাজে লাগাতে পারে দল। সব মিলিয়ে এই তরুণদের কাছে পারফরম্যান্সের আশায় আপাতত ভরসা রাখতেই হচ্ছে অধিনায়ককে, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে ওরা ভালো করবে এবার। এখন তো বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই তিন-চার বছর করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয়ে গেছে। আমাদের পাঁচজনকে বাদ দিলে কারো কারো আট বছরও খেলা হয়ে গেছে। ওদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপের সঙ্গে তো ওদের অবশ্যই মানিয়ে নেওয়ার কথা।’

আন্তর্জাতিক ম্যাচের উত্তাপ সয়েও একের পর এক ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলা সৌম্যও যখন নিজেকে হারিয়ে খোঁজেন, তখন তরুণদের কাছে আশার বিপরীতে থাকে অনিশ্চয়তাও। এবার সেটি মুছে দেওয়ার জন্য এশিয়া কাপকে আদর্শ মঞ্চ ভাবতেই আগ্রহী মাশরাফি, ‘এশিয়া কাপের মর্যাদাই তো আলাদা। নামই তো এশিয়া কাপ। তো এখানে চাপ থাকবেই। কিন্তু অন্যভাবে ভাবলে এটি আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এবং ওরা দেশের জন্য খেলতে নামছে।’

এই অনুপ্রেরণাই কি এবার তরুণদের কিছু একটা করার জন্য যথেষ্ট নয়?

 



মন্তব্য