kalerkantho


তারুণ্যের ভারত নাকি চাপে থাকা মালদ্বীপ?

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



তারুণ্যের ভারত নাকি চাপে থাকা মালদ্বীপ?

ছবি : মীর ফরিদ

এক ম্যাচ পেরিয়েই শিরোপা! যেকোনো টুর্নামেন্টে এই ম্যাচটাকে ঘিরেই থাকে যাবতীয় আকর্ষণ। শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচের চাপ কি নিতে পারবে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দল? ৯ বছর আগেও মঞ্চ ছিল ঠিক একই রকম, ফাইনালে মালদ্বীপ আর ভারত অনূর্ধ্ব-২৩। বয়সের ব্যবধানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ওই যুব দল উড়িয়েছিল শিরোপার রংমশাল। ৯ বছর পর ভারতীয় যুব দলের ঐতিহ্য বনাম সেগেরেটের মালদ্বীপ।

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুর্বিষহ গ্রুপ পর্বের পর সেমিফাইনাল জিতে মালদ্বীপের কোচের চাপ এক দফা কমেছে। মিডিয়া বিদ্রোহও খানিকটা কমেছে। কিন্তু ফাইনালে তাঁর নতুন চাপ, ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে মালদ্বীপ হেরে গেলে আবার যাই যাই অবস্থা হবে পিটার সেগেরেটের। সেই ভয় নেই স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনের। বড়দের লড়াইয়ে ছোটদের নিয়ে এসে কখনো ফেভারিট দাবিও করেননি। যুব দল হারলে হবে অভিজ্ঞতার সঞ্চয়ের টুর্নামেন্ট আর জিতলে হবে ‘শাইনিং ফুটবলের’ নতুন গল্প। এই যুব দলের সঙ্গে মালদ্বীপের সিনিয়র দলের সাফ শিরোপার লড়াই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু হবে আজ সন্ধ্যা ৭টায়।

৯ বছর পর মালদ্বীপের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠাও কিন্তু বড় অর্জন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এই ঢাকাতেই ফাইনাল খেলে তারা এবং শিরোপা জেতে ভারত। এরপর হঠাৎ কী হলো! ইউরোপিয়ান আফগানদের দলে ভিড়িয়ে আফগানিস্তান হয়ে গেল মহা শক্তিধর। লঘু হয়ে যায় মালদ্বীপের দাপট। ২০১১ সাল থেকে টানা তিন ফাইনাল খেলে ভারত ও আফগানিস্তান। ঠিকুজি বদল করে আফগানিস্তান সেন্ট্রাল এশিয়ায় নাম লেখালে মালদ্বীপ আবার ফণা তোলে। সেটাই মালদ্বীপের জার্মান কোচ পিটার সেগেরেটের গর্ব, ‘শেষ মাসে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। ৯ বছর পর ফাইনালে উঠেছি, এটা দারুণ সাফল্য।’ গ্রুপে দুই ম্যাচে গোলহীন থাকার পর তারা সেমিফাইনালে ৩-০ গোলে হারিয়েছে নেপালকে। পুরো টুর্নামেন্টে এই একটি ম্যাচই তাদের দিয়েছে অনেক কিছু—গোল, আত্মবিশ্বাস, চাপমুক্তি এবং ফাইনালের প্রেরণা।

কিন্তু এই ভারতের কাছে গ্রুপে ০-২ গোলে হেরেছে মালদ্বীপ। তাই মালদ্বীপের কাছে এটা মোটেও সহজ ফাইনাল নয়, ‘ম্যাচটি কঠিন হবে। কারণ ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দল অনেক শক্তিশালী, তারা ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে। কিছুদিন আগে ভারতের আরেকটি তরুণ দল আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে। মালদ্বীপের দলটি সেমি পেশাদার, তারা আট ঘণ্টা অন্য কাজ করার পর ফুটবল খেলে। মালদ্বীপ ফুটবলের এটা বড় সমস্যা।’ ভারতীয় ফুটবলে এখন সেই সমস্যা নেই। সমস্যাসংকুল পথ মাড়িয়ে তারা ঢুকে গেছে চমৎকার এক অবকাঠামোয়। আই লিগ, আইএসএল আর বিভিন্ন একাডেমির সুবাদে প্রতিভার ঘাটতি নেই তাদের ফুটবলে। বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দলে পৌঁছানোর সুন্দর সাঁকোও তৈরি হয়ে গেছে। তাই কনস্ট্যানটাইনের কাছে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সাফল্যের চেয়ে ফোকাসটা জরুরি, ‘এই টুর্নামেন্টে এসেছি আমরা তরুণদের অভিজ্ঞতা দিতে, এক্সপোজার দিতে। এখানে তারা শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের সিনিয়র ফুটবলারদের সঙ্গে খেলেছে এবং শিখেছে। এটাই হলো উন্নতির পথ। এখনই তাদের ইরান কিংবা চীনের বিপক্ষে নামিয়ে দিলে তারা কিছুই খেলতে পারবে না। তাদের জন্য সাফ বড় এক অভিজ্ঞতার মঞ্চ। তারা তৈরি না হলে আমি ছেত্রী, সন্দেশ কিংবা জেজের বিকল্প কোত্থেকে পাব।’ অর্থাৎ এঁরাই ভারতীয় ফুটবলে আগামীর তারকা।

এই খুদে তারকারা দারুণ খেলে ফাইনালে উঠেছে। এই অগ্রগতিতে বেশ সন্তুষ্ট ভারতের ইংলিশ কোচ, ‘প্রায় সাড়ে ছয় সপ্তাহ ছেলেরা একসঙ্গে ছিল, প্র্যাকটিস করেছে। পরিশ্রমের সুফল পেয়েছে তারা এই টুর্নামেন্টে। তাদের খেলায় আমি খুব খুশি। আগের মতোই আমি বলছি, এখানে আমরা হারতে আসিনি। আশা করি, তারা সেরার মতো খেলেই ফাইনালে উঠেছে।’ এক ম্যাচ পেরিয়েই শিরোপা! যেকোনো টুর্নামেন্টে এই ম্যাচটাকে ঘিরেই থাকে যাবতীয় আকর্ষণ। শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচের চাপ কি নিতে পারবে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দল? ৯ বছর আগেও মঞ্চ ছিল ঠিক একই রকম, ফাইনালে মালদ্বীপ আর ভারত অনূর্ধ্ব-২৩। বয়সের ব্যবধানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ওই যুব দল উড়িয়েছিল শিরোপার রংমশাল। ৯ বছর পর ভারতীয় যুব দলের ঐতিহ্য বনাম সেগেরেটের মালদ্বীপ।

 



মন্তব্য