kalerkantho


বিদায় নিলেন ওয়াজেদ গাজী

ফিরোজ গাজী, যশোর   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিদায় নিলেন ওয়াজেদ গাজী

শেষ কিছুদিন ছিলেন শয্যাশায়ী, সেখান থেকে মাঠে ফেরা হলো না ওয়াজেদ গাজীর। সবার প্রিয় ‘গাজী ভাই’ ৮৫ বছর বয়সে কাল সব মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

বয়স থাবা বসিয়েছিল আগেই। বার কয়েক হাসপাতালে গিয়ে ফের মাঠে ফিরেছিলেন। ২০১২-১৩- এর দিকে তখন বিজেএমসির উপদেষ্টা কোচ তিনি। কিন্তু অমোঘ সময়ের সঙ্গে আর কতদিন লড়া যায়। প্রিয় অঙ্গন ছেড়ে তাই যশোরে একরকম অন্তরালেই চলে গিয়েছিলেন। শেষ কিছুদিন ছিলেন শয্যাশায়ী, সেখান থেকে মাঠে ফেরা হলো না ওয়াজেদ গাজীর। সবার প্রিয় ‘গাজী ভাই’ ৮৫ বছর বয়সে কাল সব মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

বাবার চাকরির সূত্রে তরুণ বয়সে বারাসাতে যান গাজী, ফুটবল খেলে জায়গা করে নিয়েছিলেন কলকাতা মোহামেডান দলেও। দাঙ্গার সময়ে দেশে ফিরে আসেন, বিজিপ্রেস, ওয়ান্ডারার্স, দিলকুশা, ইপিআইডিসি পরে বিজেএমসি হয়ে খেলেন ঢাকা মোহামেডানেও। তবে গত কয়েক প্রজন্ম তাঁকে চেনে কোচ হিসেবেই। সত্তর দশকের শেষ ভাগ থেকে তাঁর কোচিং শুরম্ন। ওয়ান্ডারার্স, ভিক্টোরিয়া, রহমতগঞ্জ, ব্রাদার্স, মুক্তিযোদ্ধা, আরামবাগ, শেখ রাসেলে বছরের বছর কত কত খেলোয়াড়কে যে তিনি তৈরী করেছেন ইয়ত্তা নেই। মাঝাারি মানের দলগুলোতেই বেশিরভাগ দায়িত্ব নিয়েছেন, কারণ খেলোয়াড় তৈরী হয় সেখানেই। সর্বশেষ বিজেএমসির কোচিং উপদেষ্টা ছিলেন।

নিজের খেলোয়াড়ী ক্যারিয়ারেরও বেশির ভাগ সময় গাজী ছিলেন বিজেএমসিতেই। কোচিং ক্যারিয়ার শুরম্ন রহমতগঞ্জ থেকে। ইমতিয়াজ সুলতান জনির মত সাবেক তারকা খেলোয়াড়রাও কোচ হিসেবে তাঁকে পেয়েছেন রহমতগঞ্জে। সেই ১৯৮৭-তে তাঁর অধীনে লিগে তৃতীয় হয় মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘদিন ছিলেন আরামবাগে। ঢাকা লিগে আরামবাগকে শক্ত একটা অবস্থান এনে দেওয়ার কৃতিত্ব তাঁরই। শেখ রাসেলের মত ক্লাবের ফুটবল শীর্ষ পর্যায়ে পরিচয়ও গাজীর হাত ধরে, ২০০৫ সালে ব্রাদার্সের শিরোপা জেতায়ও অবদান তাঁর। জনির মত আশির দশকের অনেক তারকা ফুটবলার থেকে শুরম্ন করে আলফাজ, আমিনুল হয়ে হালের তকলিসরাও তাই গাজীভক্ত। ডাগআউটে সেই আগের ওয়াজেদ গাজীকে দেখা যায়না অনেকদিন। আর দেখতেও পাবে না কেউ। এদেশের ফুটবল ইতিহাসের গোাড়ার একজন মানুষ হারিয়ে গেলেন চিরতরে।

মৃত্যুর সময়ে যশোরের মিশনপাড়ায় নিজের মেয়ের বাড়িতে ছিলেন তিনি। সকাল নয়টায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। বাদযোহর যশোর ঈদগাহ ময়দানে তাঁর জানাযা শেষে কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার আগে সবার শ্রদ্ধা জানানোর জন্য যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁর মরদেহ।



মন্তব্য