kalerkantho


চেনা পথ ধরলে মুছবে কান্নার রংও

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চেনা পথ ধরলে মুছবে কান্নার রংও

দুবাই থেকে প্রতিনিধি : এই সফর, সেই সফরে যাওয়ার সময় নিয়মিতই দুবাই হয়ে যেতে হয় তাঁকে। ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার হিসেবে এর আগে একাধিকবারই এখানে কয়েক দিন করে থেকে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও আছে মাশরাফি বিন মর্তুজার। এ কারণেই এখানে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলে যাওয়া সতীর্থদের অনেকের মতো দুবাইয়ের ‘ম্যাপ’ নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা নেই বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের। তাই টিম হোটেল থেকে কাল দুপুরের খাবার খেতে বাইরে যাওয়ার সময় তাঁরাই ভরসা মাশরাফির, ‘কোথায় যাচ্ছি, জানি না। রিয়াদের (মাহমুদ উল্লাহ) সঙ্গে যাচ্ছি।’

সঙ্গী মুশফিকুর রহিমও। অচেনা শহরে বড় কিছুর পিছু ধাওয়া করতে আসা অধিনায়কের দুই বড় অস্ত্রও তাঁরা। আরো দুই মারণাস্ত্র তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান সতীর্থদের ছুটির দিনে অনুশীলনে ঘেমে-নেয়ে তখনো হোটেলে ফেরেননি। এই পঞ্চ পাণ্ডবের দলের জন্য এবারের এশিয়া কাপ যেন কান্নার রং মুছে দেওয়ার অভিযানও। এই আসর সামনে রেখে অনুশীলন শিবির শুরুর দিনই তো মাশরাফি সতীর্থদের বলে দিয়েছেন টুর্নামেন্ট জেতার লক্ষ্যের কথা। যে লক্ষ্য পূরণ হলেও মলিন হয়ে যাবে হতাশার ফ্রেমে বাঁধাই হয়ে থাকা কান্নার ছবিটাও। সেই কান্না ২০১২-র এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে হারার পর।

তা নিয়ে এখনো বহুল চর্চাই বুঝিয়ে দেয় যে কান্নার রংটা রয়ে গেছে। সেটি এবার মুছবে তো? তা নিয়ে তামিম ইকবালকেও কাল একাধিক প্রশ্নের জবাব দিতে হলো। জবাব দিলেনও, তবে যখন কথাবার্তা শেষ এবং বন্ধ টেপ রেকর্ডারও, তখনই এই ওপেনারের কৌতূহলী জিজ্ঞাসা, ‘আচ্ছা, আমরা তো ২০১৬-র এশিয়া কাপ ফাইনালও খেলেছি। কিন্তু দেখছি, তা নিয়ে কেউ তেমন কথা বলছেই না।’ বলছে না কারণ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হওয়া সেই ফাইনাল ২০১২-র মতো অল্পের জন্য স্বপ্নের নাগাল না পাওয়ার গল্প নয়। ভারতের বিপক্ষে আড়াই বছর আগের সেই ফাইনালে ৮ উইকেটের হারে তেমন বীরত্বের গল্পও নেই।

যা আছে ২০১২-র ফাইনালে। অল্পের জন্য শিরোপার চৌকাঠ পেরোনোর পথে হোঁচট খাওয়ার হতাশা শুধু ক্রিকেটারদেরই নয়, কাঁদিয়েছিল পুরো দেশকেই। সেই কান্নার স্মৃতি তামিম ইকবালকেও না তাড়িয়ে পারে না। তবে তিনি আবেগতাড়িত না হয়ে একটু অন্যভাবেই ফিরে দেখতে চাইলেন সাড়ে ছয় বছর আগের সেই আসরটিকে, ‘আমি ওই আসরকে একটু ভিন্নভাবে দেখি। এ জন্যই যে ওটাই ছিল প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্ট, যেখানে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খুব ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলেছিল। ওখান থেকেই শুরু। হয়তো সবাই এখন বলে ২০১৫ থেকে নতুন বাংলাদেশ হিসেবে এই দলের আত্মপ্রকাশ। কিন্তু ২০১২-র এশিয়া কাপ ছিল প্রথম টুর্নামেন্ট যেটি আমাদের এই বিশ্বাস দিয়েছিল আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি। আমি সেই স্মৃতিটাই বেশি মনে রাখি।’

তাই কান্নার রং তামিমকে বিবর্ণও করতে পারে না। ২০১২ সালে দলীয় সাফল্যের মোড়ক এমন মজবুত ছিল যে মলাট উল্টে নিজ কীর্তিতেও ঢুকতে পারেন না তিনি, ‘না আমার নিজের করা চারটি ফিফটির কথা মনে আসে, না ফাইনালে ২ রানে হেরে যাওয়ার কথা মনে আসে। যে দলগুলোকে হারানোর কথা একসময় আমরা চিন্তাও করতে পারতাম না, সেই দলগুলোকে আমরা হারিয়েছি। যে ম্যাচগুলোতে হেরেছি, সেগুলোও খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল। আমার জন্য ২০১২-র এশিয়া কাপ এ জন্যই স্পেশাল।’ অবশ্য বিশেষ সেই আসর নিয়ে কিছু হতাশাও আছে তামিমের। তাঁর কথা শুনলে মনে হবে সেটি খুব স্বাভাবিকও, ‘২০১২-তে আমরা একটা পদক্ষেপ নিয়েছিলাম কিন্তু আমরা ছন্দটা হারিয়ে ফেলি। ওই জায়গায় আমার একটা দুঃখ রয়েই গেছে। ২০১৫ থেকে কিন্তু আমরা এগোচ্ছি। অন্তত পেছাচ্ছি না। কিন্তু ২০১২-র পর আমরা পেছাচ্ছিলাম। ২০১৫-র বিবর্তনটা ২০১২ থেকেই হতে পারত। তাহলে আজকে আমরা হয়তো বা আরেকটু ভালো দল হতে পারতাম।’

আরেকটু ভালো না হোক, দল হিসেবে এই অবস্থাও কম নয় বলেই মনে করেন জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ, ‘এই ফরম্যাটে অন্তত আমরা বেশ সমীহ জাগানো দল। কাজেই ভালো খেললে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দারুণ সম্ভাবনা আছে।’ যদিও তামিম কান্নার রং মুছে দেওয়ার আগাম ছবিটা এখনই আঁকতে চান না। এই যুক্তিতে যে, ‘হাঁটা শুরুর আগেই শেষ পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তা করতে গেলে কাজ খুব কঠিন হয়ে যায়।’ তাই এভাবেই ভাবতে চান, ‘আমি এমন একজন যে কিনা কখনোই খুব বেশি সামনের কথা ভাবে না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম দুটো ম্যাচ। জয়ে শুরু করতে পারলে অনেক কিছুই ঠিকমতো হতে থাকবে।’

ঠিকমতো হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও। জয়েই ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সাফল্যের সেই সিরিজেও বাংলাদেশ শিবির এশিয়া কাপের আগে ডুব দিচ্ছে বারবার। মাহমুদের কথায় সেটি আরো স্পষ্ট, ‘শিরোপা জেতার সামর্থ্য আছে আমাদের। না থাকলে এই কথাই উঠত না। আমি মনে করি শিরোপা জেতার আসল সময় এখন আমাদের। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকেও আমরা খুব ভালো স্মৃতি নিয়ে এসেছি।’

এসেছেন কখন, যখন দল টেস্ট সিরিজের হারে ছিল বিপর্যস্ত। সেই দলই রাতারাতি বদলে গিয়েছিল ওয়ানডে সিরিজ খেলতে মাশরাফি যাওয়ার পর। কাজেই দুবাই তাঁর অচেনা হলেও সাফল্যের রসায়ন খুব ভালোই চেনা। সেই চেনা পথ এবারও ধরাতে পারলে মুছবে কান্নার রংও!



মন্তব্য