kalerkantho


ফাইনালের লড়াই

ভারত-পাকিস্তান বলে কথা!

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভারত-পাকিস্তান বলে কথা!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভারতের সহকারী কোচ শানমুগাম ভেঙ্কটেশ সংবাদ সম্মেলনে বলে গেলেন, ‘এটা ফাইনালের চেয়েও কঠিন ম্যাচ।’ এই কাঠিন্য এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি যোশে অ্যান্থোনিও নোগিইরো। যখন ‘ফ্ল্যামেঙ্গো-ফ্লুমিনেসে’র ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথের তুলনা দেওয়া হলো তখন ঝাঁজটা টের পেলেন এই ব্রাজিলিয়ান কোচ, ‘কঠিন লড়াই হবে, তবে যেকোনো মূল্যে ফাইনাল খেলতে চাই আমরা।’ ফাইনাল-সেমিফাইনাল যেটাই হোক, পাক-ভারত ম্যাচে সব সময় উত্তেজনার ছিপি খোলা থাকে। যে বেশি গায়ে মাখে তারই নাকি ক্ষতি বেশে। ভেঙ্কটেশ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, ‘আমার এখনো মনে আছে ক্যারিয়ারের প্রথম ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের কথা, ৯৭ সালে গোয়া সাফে। এই ম্যাচে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই হয় বেশি। মানসিকভাবে শক্তিশালী হলেই ভালো পারফরম করা যায়।’ সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সেই মানসিকতার পরীক্ষা নেবে আজ পাকিস্তান। দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।

বারবার একই কাজ করছেন স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন। সাফ শুরুর অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনেও আসেননি ভারতের ইংলিশ কোচ। কাল সেমিফাইনাল-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও তিনি গরহাজির। অন্যরা রাস্তার যানজট ঠেলে এলেও তিনি আসেননি। তাঁকে শাসানো কিংবা শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নেই সাফ কর্তৃপক্ষেরও। এই অঞ্চলে ফুটবলের বড় বাজার ভারত, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলারও সাহস নেই কর্মকর্তাদের। ভারতের ফুটবলও অগ্রসরমাণ, র‌্যাংকিংয়েও আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। সেই দম্ভেই কিনা সিনিয়র দলের সাফ টুর্নামেন্টে এসেছে ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে। বড়দের খেলায় ছোটদের যাচাই করে নিচ্ছে। তবে কোনো চাপ দিচ্ছে না। টুর্নামেন্টের শুরুতে যেমন নিজেদের ফেভারিটের বাইরে রেখেছে, গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপকে হারানোর পরও বলছে একই কথা। ‘ভারত ফেভারিট নয়। এই টুর্নামেন্টে বরং নেপাল ফেভারিট, তারা টেকনিক্যালি অনেক ভালো দল’—বলেছেন ৪০ বছর বয়সী ভারতের সহকারী কোচ।

তবে এখনো পর্যন্ত ভারতের খেলাই সবচেয়ে ভালো। তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো এবং একটা ছন্দে তারা খেলে যায়। পাকিস্তান কোচও ভারতীয় দলের শক্তিকে বেশ সমীহ করেন, ‘তারা খুব সংগঠিত দল। তাদের খেলার একটা স্টাইল আছে। তাদের সঙ্গে ম্যাচটা খেলতে হবে বেশ কৌশলে।’ পাকিস্তানের কৌশল একটাই—রক্ষণ আগলে কাউন্টারে খেলা। পাকিস্তানের রক্ষণভাগকে টপকে গোল করা বড় কঠিন। এরপর কাউন্টারে উঠে খুব দ্রুতগতিতে, ফরোয়ার্ড লাইনে হাসান বশির ও মোহাম্মদ আলীর পায়ে আছে গোলার মতো শট। সেই সুবাদে তারা নেপাল ও ভুটানকে হারিয়ে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের দুয়ার খুলেছে ১৩ বছর পর। এর পরও অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেন দেখছেন প্রথম ফাইনালে খেলার স্বপ্ন, ‘তিন বছর খেলার বাইরে থাকলেও আমরা এখন ভালো খেলছি। এখানে এসেছি একটা বিস্ময় উপহার দিতে। সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব ফাইনালে পৌঁছতে।’ এই পাকিস্তান দলের সাত-আটজনের অভিজ্ঞতা আছে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলার। ‘এটা অন্য রকমের ম্যাচ হবে। ভারত র‌্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকলেও আমরা নিজেদের কৌশলে খেলব। ভালো একটা ম্যাচ উপহার দেব দর্শক-সমর্থকদের’—ভালো ম্যাচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারত অনেক এগিয়ে। ২৩ ম্যাচে ভারত জিতেছে ১৪টি, পাকিস্তান তিনটি, বাকি ছয় ম্যাচ ড্র। ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে এবার পাকিস্তানের দারুণ সুযোগ এগিয়ে যাওয়ার। সেটি জিতলেই প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলবে পাকিস্তান। নইলে বড়দের টুর্নামেন্টে ছোটদের ভারতের আধিপত্যই বজায় থাকবে।



মন্তব্য