kalerkantho


সাম্প্রাসের পাশে বসে গর্বিত জোকোভিচ

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সাম্প্রাসের পাশে বসে গর্বিত জোকোভিচ

বেড়ে উঠেছেন পিট সাম্প্রাসকে দেখে। টেলিভিশনে সাম্প্রাসকে উইম্বলডন জিততে দেখে প্রেমে পড়ে যান টেনিসের। সেই নোভাক জোকোভিচই ভাগ বসালেন প্রিয় তারকার রেকর্ডে। ছেলেদের এককে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪ গ্র্যান্ড স্লাম এখন সাম্প্রাসের মতো এই সার্বিয়ানের। গত পরশু ইউএস ওপেনের ফাইনালে ৬-৩, ৭-৬, ৬-৩ গেমে বিধ্বস্ত করেছেন হুয়ান মার্তিন দেল পোত্রোকে। জোকোভিচের আক্রমণাত্মক টেনিসের জবাব দিতে না পেরে কেঁদেই ফেলেন পোত্রো। এ জন্য এই আর্জেন্টাইনকে সান্ত্বনাও জানান জোকোভিচ।

আদর্শ পিট সাম্প্রাসের রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগটা নষ্ট করতে চাননি জোকোভিচ। দাপটে ফাইনাল জিতে রেকর্ড ১৪তম গ্র্যান্ড স্লাম জেতায় ভীষণ খুশি তিনি। নিজের আদর্শ সাম্প্রাসের পাশে বসতে পেরে গর্বিতও এই সার্বিয়ান, ‘সাম্প্রাস আমার শৈশবের নায়ক। তাঁর মতোই হতে চেয়েছি আমি। সাম্প্রাসকে টিভিতে দেখেছিলাম সম্ভবত তাঁর প্রথম বা দ্বিতীয় উইম্বলডন জিততে। এরপর প্রেমে পড়ে যাই টেনিসের। স্বপ্ন দেখি তাঁর মতো গ্র্যান্ড স্লাম জেতার। সেই সাম্প্রাসের সমান ১৪ গ্র্যান্ড স্লাম এখন আমার। ভাবতেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি।’

চোটের জন্য টানা ৫৪ সপ্তাহ কোনো শিরোপা জেতা হয়নি জোকোভিচের। সঙ্গে যোগ হয়েছিল পারিবারিক ঝামেলা আর মানসিক অবসাদ। কষ্টের সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন জোকোভিচ। জিতেছেন এ বছরের উইম্বলডন। এরপর দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ হয়েছে সিনসিনাটি মাস্টার্স জিতে। সেটা ছিল ইউএস ওপেনের প্রস্তুতি। নিজের সেরাটা খেলে দাপটে পৌঁছান ফাইনালে। দেল পোত্রোর সঙ্গে ফাইনালের আগে ব্যবধান ছিল ১৪-৪। শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখে ফাইনালেও জিতলেন সরাসরি সেটে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলতে দ্বিতীয় সেটটা টাইব্রেকারে যাওয়া। সেখানে একটা ম্যারাথন গেম শেষ হয়েছে ২০ মিনিটে। ডিউস হয়েছে আটবার। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেটটাই টাইব্রেকারে জেতেন ৭/৪ ব্যবধানে। এরপর মজাই করলেন জোকোভিচ, ‘দর্শকরা ওলে, ওলে, ওলে বলে তাতাচ্ছিল পোত্রোকে। আমার ডাকনাম আবার নোলে! ওলে শুনে উল্টো উজ্জীবিত হয়েছি আমি!’

সর্বকালের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪ গ্র্যান্ড স্লাম এখন জোকোভিচের। সামনে শুধু ১৭ গ্র্যান্ড স্লাম জেতা রাফায়েল নাদাল ও ২০ মেজরের মালিক রজার ফেদেরার। জোকোভিচের যা ছন্দ তাতে অসম্ভব নয় ফেদেরারের ২০ গ্র্যান্ড স্লামের কীর্তি ছোঁয়া? এ নিয়ে জোকোভিচ জানাচ্ছেন, ‘১০ বছর আগে হয়তো বলতাম ফেদেরার, নাদালের যুগে টেনিস খেলাটা আমার জন্য দুর্ভাগ্যের। ওরা কিংবদন্তি। কিন্তু এখন আমি গর্বিত। ফেদেরার, নাদালের মতো তারকার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে আমার নাম। এটা সম্মানের।’ উইম্বলডন জিতে র‌্যাংকিংয়ে ছয় নম্বরে উঠে এসেছিলেন জোকোভিচ। ইউএস ওপেন জেতার পর উঠে এলেন তিন নম্বরে। র‌্যাংকিংয়ের সামনে নাদাল ও ফেদেরার। অর্থাৎ আবারও ফিরে এলো ‘বিগ থ্রি’ যুগ।

জোকোভিচ এড়িয়ে গেলেও দেল পোত্রো কিন্তু ২০ গ্র্যান্ড স্লাম জেতার ভালো সম্ভাবনা দেখছেন এই সার্বিয়ানের। তাঁর বয়স ৩১ বছর। ইনজুরি ও মানসিক অবসাদ কাটিয়ে ফিরেছেন সেরা ছন্দে। ফেদেরারের ২০ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করাটা জোকোভিচের জন্য কঠিন হবে না বলেই বিশ্বাস পোত্রোর, ‘এই বছরই দুটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছে জোকোভিচ। প্রতি বছর এটা সম্ভব নয়। তার পরও যে ছন্দে খেলছে আমি মনে করি ফেদেরারের ২০ গ্র্যান্ড স্লামের রেকর্ড কেউ স্পর্শ করতে পারলে সেটা পারবে জোকোভিচ। ফাইনালে দাঁড়াতেই দিল না আমাকে। এতটা খারাপ খেলব ভাবিনি আমি।’ এএফপি



মন্তব্য