kalerkantho


বড়দের সাফ মাতাচ্ছে ভারতের তরুণরা

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বড়দের সাফ মাতাচ্ছে ভারতের তরুণরা

অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি পাকিস্তান-ভারত। এই ম্যাচের ঝাঁজ সব সময় আলাদা, সুবাদে এই বঙ্গেও আছে তার অনেক দর্শক। ক্রিকেটে দুই দলই উনিশ-বিশ, লড়াইটা তাই জমে ভালো। সেখানে বারুদের গন্ধ মিশিয়ে দিলে ম্যাচটা আর মাঠে থাকে না, রাজনীতির পাঁকে পড়ে দুই দেশের খেলাটি হয়ে যায় ক্রিকেট-কূটনীতি। ফুটবলে সেই সমান-সমান জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দল। এই অঞ্চলের সবাইকে ছাড়িয়ে উল্লম্ফন দিচ্ছে ভারতীয় ফুটবল আর পাকিস্তান ফুটবল নানা সমস্যায় জেরবার।

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশের বিদায়ে জনতার আকর্ষণ হারিয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। রয়ে গেছে ফাইনাল ও শিরোপার আকর্ষণ, এটা নিখাদ ফুটবল ভক্তের জন্য। তারা চাইবে সুন্দর ফুটবল আর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিয়ে শিরোপার অঙ্ক মেলাতে।

এটা হয়তো আমজনতাকে খুব ছুঁয়ে যাবে না। তাদের কাছে এ এক আজব টুর্নামেন্ট। টসে জিতে মালদ্বীপ সেমিফাইনালে ওঠার পর ওই জনতাই প্রশ্ন তোলেন, ‘একটা দল কোনো ম্যাচ না জিতে, কোনো গোল না করে সেমিফাইনালে উঠে যাবে, এ কেমন নিয়ম? আরেক দল দুই ম্যাচ জিতেও বাদ পড়বে!’ এর কোনো জুতসই জবাব নেই। যুক্তি যেখানে অকাট্য নয় ভাগ্য সেখানে মুখ্য হয়। সেমিফাইনালের কপাল নিয়ে শুরু করেনি বলেই পারল না স্বাগতিকরা। স্রেফ দুর্ভাগা তারা ছিটকে গেছে প্রথম দুটি ম্যাচ জিতেও। আর যাদের ছিটকে যাওয়া উচিত সেই মালদ্বীপ খেলবে সেমিফাইনালে। ভাগ্যের কী গুণাগুণ! ম্যাচ জেতেনি, গোল দেয়নি আবার টসে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে!

এই ভাগ্য তাদের শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাবে, কে জানে। তবে গ্রুপের দুই ম্যাচে মালদ্বীপ সেমিফাইনালে ওঠার খেলা খেলেনি। তারা ভালো দল, ভালো খেলে ম্যাচ জেতে—এই সামগ্রিক ধারণাগুলো এখনো প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি এই আসরে। গোলের বড় অস্ত্র আলী আশফাক নেই। খেলা তৈরির মানুষ মোহাম্মদ উমাইরকেও দলে নেননি কোচ। তাতে দলের ঝাঁজটাও কমে গেছে অনেকখানি। তাদের হয়ে খেলে গেছে ভাগ্য। সে সেমিফাইনালের নেপালের বিপক্ষে খেলে দিলে অন্য কথা। নইলে নেপাল দুর্দান্ত খেলছে এই টুর্নামেন্টে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তারা একচেটিয়া খেলেছে। তাদের ‘বল প্লেয়ার’ বেশি, তাই ‘বিল্ডআপ’ ফুটবলও সুন্দর খেলে রোহিত-বিমলরা। সুবাদে নেপালের দিকেই ঝুঁকে আছে সেমিফাইনালটি।

অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি পাকিস্তান-ভারত। এই ম্যাচের ঝাঁজ সব সময় আলাদা, সুবাদে এই বঙ্গেও আছে তার অনেক দর্শক। ক্রিকেটে দুই দলই উনিশ-বিশ, লড়াইটা তাই জমে ভালো। সেখানে বারুদের গন্ধ মিশিয়ে দিলে ম্যাচটা আর মাঠে থাকে না, রাজনীতির পাঁকে পড়ে দুই দেশের খেলাটি হয়ে যায় ক্রিকেট-কূটনীতি। ফুটবলে সেই সমান-সমান জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দল। এই অঞ্চলের সবাইকে ছাড়িয়ে উল্লম্ফন দিচ্ছে ভারতীয় ফুটবল আর পাকিস্তান ফুটবল নানা সমস্যায় জেরবার। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কবলে ছিল কিছুদিন, সঙ্গে নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে তিন বছর খেলার বাইরে ছিল পাকিস্তান সিনিয়র দল। সেই দলের সেমিফাইনালে ওঠা বিশাল খবর। তাদের শক্তির বড় উত্স প্রবাসী পাকিস্তানিরা। জেস রহমান, হাসান বশিরের মতো দলের অনেক সদস্য ইউরোপে থাকেন। সুবাদে সেখানে খেলা এবং বেড়ে ওঠা। পাকিস্তানের ঘরোয়া ফুটবল তেমন সুসংগঠিত না হলেও এই প্রবাসীরাই ওড়াচ্ছেন পাকিস্তান ফুটবলের ঝাণ্ডা। বাংলাদেশের কাছে হারলেও নেপাল ও ভুটানকে হারিয়ে তারা সেমিফাইনালে। ব্রাজিলীয় ফুটবল কোচ যোশে অ্যান্তেনিও নেগোইরোর কৌশলে তারা রক্ষণেও প্রাচীর গড়ে কাউন্টার অ্যাটাকে খেলার চেষ্টা করবে।

কিন্তু ভারত খেলতে চাইবে ‘কন্ট্রোল’ ফুটবল। টুর্নামেন্টে তারাই একমাত্র জুনিয়র দল (অনূর্ধ্ব-২৩) এবং দুটি ম্যাচ জিতেছে দারুণ দাপটের সঙ্গে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২-০ গোলে জয়ের পরও তাদের ইংলিশ কোচ কনস্ট্যানটাইনের মুখে ছিল অতৃপ্তি। গোলের সুযোগ নষ্ট করার অতৃপ্তি, ‘আমরা ম্যাচটি আরো ভালোভাবে শেষ করতে পারতাম। অনেক সুযোগ আমরা নষ্ট করেছি। এটা সত্য যে আমাদের দলটি তরুণ, তাদের কাছ থেকে সব সময় ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করা যায় না। প্রতিটি ম্যাচ তাদের জন্য শেখার।’ নামে অনূর্ধ্ব-২৩ হলেও এই দলে ১৯ বছর বয়সী খেলোয়াড় আছে বেশি কিছু। এরা তাদের ভবিষ্যত্, তাদের পেছনে অর্থ খরচ করে বড় টুর্নামেন্ট খেলিয়ে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলছে। ঢাকায় আসার আগে তারা সিডনিতে সেরেছে ১৭ দিনের ট্রেনিং ক্যাম্প, প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে অস্ট্রেলীয় লিগের তিনটি প্রতিপক্ষের সঙ্গে। ভয়ডর কেটে যাচ্ছে তাদের। ঢাকায় এসে এই তরুণরা অন্য দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের টেক্কা দিচ্ছে সমান তালে।

এখন পর্যন্ত এই তরুণরাই এগিয়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোল করেছেন দুই ভারতীয় উইঙ্গার আশিক কুরুনিয়ান ও লালিয়ানগুয়ালা চাঙ্গতে। মালদ্বীপের জালে বল পাঠিয়েছেন পূজারি ও মানবীর সিং। এই ম্যাচেই হয়েছে তাঁদের আসল পরীক্ষা। শক্তিশালী মালদ্বীপের বিপক্ষে তরুণ ভারতীয় দলটি কিভাবে মেলে ধরে, সেটাই ছিল দেখার। দেখে ভারতের ইংলিশ কোচ খুশি, ‘তরুণরা ভালো খেলেছে। এর পরও আমাদের দলকে ফেভারিট বলতে পারছি না। তাদের অভিজ্ঞতা কম।’ তরুণদের মাথায় আগেভাগে শিরোপার বোঝা চাপিয়ে দিতে চান না কোচ। কিন্তু মাঠের খেলায় যে তারা নিজেদের ফেভারিট হিসেবে রাঙিয়েছে।



মন্তব্য