kalerkantho


আম্পায়ারকে ‘চোর’ বলে সেরেনার বিদ্রোহ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আম্পায়ারকে ‘চোর’ বলে সেরেনার বিদ্রোহ

ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম জিতে কাঁদছিলেন নাওমি ওসাকা। আবেগে নয় অপমানে। ‘চ্যাম্পিয়ন ওসাকা’ ঘোষণা হতেই দুয়ো দিচ্ছিলেন দর্শকরা। অথচ তাঁর কোনো দোষ নেই। প্রথম জাপানি হিসেবে কোনো গ্র্যান্ড স্লাম জিতে গড়েছেন ইতিহাস। সেই মাহেন্দ্রক্ষণটাই উদ্যাপন করতে পারলেন না সেরেনা উইলিয়ামস ও চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস রামোসের দ্বন্দ্বে। ইউএস ওপেন ফাইনালে দুইবার সেরেনাকে পেনাল্টি দিয়েছেন রামোস। মানতে না পেরে তাঁকে ‘চোর’ ও ‘প্রতারক’ বলে গালি দিতে ছাড়েননি এই কিংবদন্তি। ফিরতে চাননি কোর্টেও! টেনে এনেছেন মেয়েদের অবহেলা করার মতো বিতর্ক। এ নিয়ে বিবৃতি দিতে হয়েছে ডাব্লিউটিএ ও ইউএস ওপেন কর্তৃপক্ষকে। সেরেনার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিলি জিন কিংয়ের মতো তারকারাও।

টাইফুন, বন্যা, ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত জাপানে একরাশ সুবাতাস নিয়ে এলেন নাওমি ওসাকা। প্রথম জাপানি হিসেবে জিতলেন কোনো গ্র্যান্ড স্লাম। গত পরশু ইউএস ওপেনের ‘উত্তপ্ত’ ফাইনালে ২৩ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সেরেনা উইলিয়ামসকে হারিয়েছেন ৬-২, ৬-৪ গেমে। এশিয়ার প্রথম নারী হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছিলেন চীনের লি না। এরপর কীর্তিটা চেরি ফুলের দেশের ওসাকার। ভূমিকম্পবিধ্বস্ত হোক্কাইডো দ্বীপে হতাহতদের দেখতে যাওয়ার পথে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের টুইট, ‘পুরো জাপানকে লড়াইয়ের শক্তি ও প্রেরণা জোগানোর জন্য ধন্যবাদ।’ এই দ্বীপেই থাকেন নাওমির দাদা তেতসুয়া ওসাকার। ৭৩ বছর বয়সী তেতসুয়া নাতনির খেলা দেখে গর্বিত, ‘ওকে জিততে দেখে কেঁদে ফেলেছিলাম। আশা করছি ও ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে জিতবে সোনা।’

নাওমির কীর্তির চেয়ে বেশি আলোচিত সেরেনা উইলিয়ামসের বিদ্রোহ নিয়ে। দ্বিতীয় সেটের দ্বিতীয় গেম থেকে শুরু উত্তেজনার। গ্যালারি থেকে সেরেনাকে তাঁর কোচ পরামর্শ দিচ্ছেন বলে সতর্ক করেন চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস রামোস। পরে তাঁর কোচ প্যাট্রিক মোরাতোগলুও স্বীকার করেন ইশারায় পরামর্শ দেওয়ার কথা। কিন্তু সেরেনা ম্যাচ চলার সময় তাঁর দিকে তাকাননি। আম্পায়ারের অভিযোগ মানতে না পেরে মুখের ওপর বলে বসেন, ‘কখনো প্রতারণা করি না আমি। দরকার হলে হারতেও রাজি।’

এরপর খেলা শুরু হলে সেরেনা আম্পায়ারের কাছে এগিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করতে বলেন ঠিকভাবে। একটা পর্যায়ে এগিয়ে যান ৩-১ গেমে। কিন্তু দুটি ডাবল ফল্ট আর ব্যাকহ্যান্ডের একটি শট নেটে আটকে যাওয়ায় ম্যাচে ফেরেন ওসাকা। মেজাজ হারিয়ে কোর্টে র্যাকেট ছুড়ে মারেন সেরেনা। একই ম্যাচে দ্বিতীয় অপরাধে সেরেনাকে পয়েন্ট পেনাল্টি দেন আম্পায়ার। বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েন সেরেনা। দর্শকরা পাশে ছিলেন তাঁর। আম্পায়ারকে দুয়ো দিচ্ছিলেন তাঁরা। কিছুক্ষণ পর ৩-৪ গেমে পিছিয়ে থাকা সেরেনা মেজাজ হারিয়ে আম্পায়ারকে বলে বসেন, ‘আপনি চোর, প্রতারক। সবার সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। এরপর আমি যে ম্যাচে খেলব সেখানে থাকবেন না আপনি।’

কোর্টেই তখন কাঁদছিলেন সেরেনা। নেমে আসেন দুই ম্যাচ রেফারি। শোনেন দুই পক্ষের কথা। কিন্তু বাকবিতণ্ডার সময় যে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেন সেরেনা, যা মৌখিক নিপীড়নের পর্যায়ে পড়ে। তাতে পয়েন্ট খোয়াতে হয় তাঁকে। চেয়ার আম্পায়ার দেন গেম পেনাল্টি। ওসাকা এগিয়ে যান ৫-৩ গেমে। ম্যাচটিও এসে পড়ে জাপানির মুঠোয়। শেষ পর্যন্ত জিতে যান ৬-৪ গেমে। ট্রফি নেওয়ার সময় দর্শকরা ওসাকাকে দুয়ো দিলেও এগিয়ে এসে সেরেনা শান্ত হতে বলেন তাঁদের, ‘ওসাকা দারুণ খেলেছে। এটা ওর প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম। চলুন, সবাই মিলে মুহূর্তটা ওর জন্য স্মরণীয় করে তুলি।’

এর পরই সেরেনা টেনে আনেন পুরুষ-নারী দ্বন্দ্ব। ছেলেদের ম্যাচ হলে আম্পায়ার এভাবে গেম পেনাল্টি দিতে পারতেন না বলে অভিযোগ তাঁর, ‘ছেলেদের কাছ থেকে সে কখনো ম্যাচ কেড়ে নিতে পারত না, কারণ ছেলেরা ওকে চোর বলে।’ এএফপি



মন্তব্য