kalerkantho


প্রত্যাশার চাপে চিঁড়াচ্যাপটা তরুণরা!

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রত্যাশার চাপে চিঁড়াচ্যাপটা তরুণরা!

হাস্যকর এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার অনেক সুযোগও তো পেয়েছিল বাংলাদেশ। আর গোল করার মূল দায়িত্বটা তো ছিল সাদ, সুফিলদেরই। কেন পারলেন না তাঁরা? সুফিল নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা খুঁজে পান না, তবে টানা তৃতীয় ম্যাচে একই তালে খেলাটা যে চ্যালেঞ্জ ছিল সেটা মানেন, ‘হয়তোবা আগের দুই ম্যাচের মতো একই ছন্দে খেলতে পারিনি আমরা। এক দিন পর পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলা সহজ কথা নয়।’

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাহবুবুর রহমান সুফিল কাল সকালেই ঢাকা ছেড়ে গেছেন। সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলে বসে টিভিতে দেখছিলেন ভারত-মালদ্বীপের ম্যাচটি। ভারত ২ গোলে লিড নিতেই টিভি বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। এদিন আরেক গোল দিলেই যে এই গ্রুপ থেকে মাত্র একটি ড্র নিয়েই সেমিফাইনালে নাম লেখাবে শ্রীলঙ্কা। দেশকে ৬ পয়েন্ট এনে দিয়ে কাল বাড়িতে বসে তা সহ্য করেন কী করে বাংলাদেশ দলের এই ফরোয়ার্ড!

তবে ভাগ্য বদলের চাবিটা ছিল সুফিলদের হাতেই। হাস্যকর এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার অনেক সুযোগও তো পেয়েছিল বাংলাদেশ। আর গোল করার মূল দায়িত্বটা তো ছিল সাদ, সুফিলদেরই। কেন পারলেন না তাঁরা? সুফিল নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা খুঁজে পান না, তবে টানা তৃতীয় ম্যাচে একই তালে খেলাটা যে চ্যালেঞ্জ ছিল সেটা মানেন, ‘হয়তোবা আগের দুই ম্যাচের মতো একই ছন্দে খেলতে পারিনি আমরা। এক দিন পর পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলা সহজ কথা নয়।’ এই সুফিলরা সাফের আগেও এশিয়ান গেমসে প্রতিটা ম্যাচে লড়েছে শেষ মিনিট পর্যন্ত। শেষ মিনিটে গোল করে কাতারকে হারিয়েছে তারা। এমনকি যে কোরিয়া তাদের তিন গোল দিয়েছিল, শেষ মিনিটে তাদেরও এক গোল ফিরিয়ে দিয়ে এসেছেন তাঁরা। শারীরিক ক্লান্তির কথা তাই ঠিক মানাও যায় না। কিন্তু মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়লে, ভরা গ্যালারির প্রত্যাশার চাপে পড়লে? দলের সহকারী কোচ মাহবুব হোসেন রক্সির ধারণা তেমনই, ‘এশিয়ান গেমসে আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। শুধু প্রাপ্তির আশায় ছুটেছি, উপভোগ করেছি। কিন্তু পরশু গ্যালারি ভরা দর্শকের প্রত্যাশার সামনে পারফরম করা, তাও এক গোলে পিছিয়ে পড়ে—সত্যি কঠিন ছিল। ওমন বাজে একটা গোল হজমের পর মানসিকভাবেও ধাক্কা খায় খেলোয়াড়রা। সেই গোল শোধ দিতে না পারলে সাফ থেকে ছিটকে যাওয়ার যে চাপ তাতেই যেন আরো উদ্যমহীন হয়ে পড়েছিল দলটা।’

২০০৩ সাফ ফুটবলের অধিনায়ক রজনী কান্ত বর্মণের কাছেও এছাড়া আর কোনো ব্যাখ্যা নেই, ‘১ পয়েন্ট পেলে যেখানে আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাই, সেখানে এই বিদায় মেনে নেওয়াটা সত্যি কঠিন। এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরা উচিত ছিল। সময়ও ছিল। পারল না যে তার জন্য আমার মনে হয় অনভিজ্ঞতাই বড় কারণ। এমন ভরা গ্যালারির সামনে পারফরম করাটা সহজ নয়। ২০০৩ সালে আমরা যারা খেলেছি তারা সবাই ছিলাম ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিষ্ঠিত তারকা। সেই তুলনায় এই দলটা তো তরুণ। চাপ সামলে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের নেই।’ সেই দলের স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন দলটির আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার সামর্থ্য নিয়ে, ‘দলটা ডিফেন্সে ভালো করেছে। ফিটনেস ঠিক ছিল। কাউন্টার অ্যাটাকেও তারা কার্যকারিতা দেখিয়েছে। কিন্তু সত্যি বলতে মিডফিল্ড বা ফরোয়ার্ড লাইনে কোনো সৃজনশীলতা ছিল না। আমাদের মিডফিল্ড মানেই ডিফেন্সিভ, অ্যাটাক মানেই কাউন্টার। কিন্তু বল খেলে সুযোগ তৈরি করারও যে ব্যাপার আছে দলের তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল বলেই মনে হয়নি।’

সাফজয়ী দলের গোলরক্ষক আমিনুল হক আবার ক্ষুব্ধ গোলরক্ষক শহীদুল আলমকে নিয়ে। তাঁর ভুল করা নিয়ে নয়, বরং তাঁর দলে থাকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, ‘যে এশিয়ান গেমসে এত ভালো পারফরম করে এলো, সেই ইনফর্ম রানাকে রেখে শহীদুলকে কেন কোচ খেলাচ্ছিল তা খুব অদ্ভুত লেগেছে আমার কাছে। সোহেল তৈরিই ছিল না এই আসরের জন্য।’ শহীদুল নীলফামারীতে যে একই রকম ভুল করেছিলেন তা নিয়ে অবশ্য তেমন উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়নি কাউকে, কারণ কেউ ভাবতেই পারেননি সাফে রানার বদলে আবাহনীর এই গোলরক্ষকই খেলবেন। সাফের শুরু থেকেই দলে আবাহনীর খেলোয়াড়ের আধিক্য এবং দলের ম্যানেজার হিসেবে আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুর থাকা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরশু আবাহনী গোলরক্ষকের ওই গোল আর বাংলাদেশের বিদায়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আলোচনাই তুঙ্গে যে দল নির্বাচনে ক্লাব ম্যানেজাররা প্রভাব রাখেন কি না। সাবেক গোলরক্ষক আমিনুলও তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আলফাজ বলেছেন ক্লাব দলের ম্যানেজারদের জাতীয় দলের ম্যানেজার করার এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। খেলোয়াড়দের মধ্যেও যে তা নিয়ে অসন্তোষ নেই তা নয়। দলেরই একজন কাল নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অনেক আশা ছিল, কিন্তু পূরণ হলো না। এভাবেই সব হয়ে আসছে, আর এভাবেই হবে।’ অর্থাৎ অসন্তোষের ইঙ্গিত স্পষ্ট। সাফের শিক্ষা তাই অনেক। এসব কিছু উতরে যাওয়ার চ্যালেঞ্জই এখন বাংলাদেশের সামনে। আসন্ন বঙ্গবন্ধু গোলকাপ হতে পারে তার মঞ্চ। কালই ছুটিতে দেশে ফিরে যাওয়া জেমি ডে’র নতুন পরীক্ষাও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ।

 



মন্তব্য