kalerkantho


জয়ে ‘শুরু’ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জয়ে ‘শুরু’ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার

দুই দলেই ব্যাপক পরিবর্তন। বিশ্বকাপ-বিপর্যয়ের পর যা খুবই প্রত্যাশিত। তবু রাশিয়া-পরবর্তী প্রথম ম্যাচ জিততে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কারোই বেগ পেতে হয়নি খুব একটা। সেলেসাওরা ২-০ গোলে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। আর গুয়াতেমালার বিপক্ষে লিওনেল মেসিহীন আলবিসেলেস্তেদের জয় ৩-০ ব্যবধানে।

হোক না প্রীতি ম্যাচ, হোক না প্রতিপক্ষ দুর্বল—তবু এমন জয় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে নিঃসন্দেহে।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ছিল ব্রাজিলের ম্যাচ। তাতে এগিয়ে যেতে মোটে ১১ মিনিট লাগে আদেনর বাক্কি তিতের দলের। দগলাস কস্তার দারুণ গতি ও ড্রিবলিংয়ে দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্রের লেফট ব্যাক। এরপর তাঁর দারুণ ক্রসে ঠিক জায়গায় পৌঁছে গিয়ে বলে পা ছুঁইয়ে রবের্তো ফিরমিনোর গোল। তাতে আনন্দের পাশাপাশি ব্রাজিল সমর্থকদের বুক চিরে এক চিলতে দীর্ঘশ্বাস না বেরিয়ে পারে না। এই ফিরমিনোকে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে বিশ্বকাপের পাঁচ ম্যাচেই যে তিতে মূল একাদশে খেলান গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে। বিশ্বকাপে যিনি করতে পারেননি কোনো গোল।

ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোল বিরতির ঠিক আগে আগে। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি এরিয়ায় ফাবিনহোকে করা ফাউলে পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা; যা থেকে বল জালে পাঠাতে ভুল হয়নি নেইমারের। স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় দফায় পথচলার শুরুটা তাই গোলেই হয় তাঁর। ৯১তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে যা নেইমারের ৫৮তম গোল। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলে স্বস্তির জয়েই ম্যাচ শেষ করে তিতের দল।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হারের পর এটিই ছিল ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ। রাশিয়ার দুঃস্বপ্ন ভোলায় এই জয়ের গুরুত্ব দেখছেন ব্রাজিল কোচ তিতে, ‘বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার কষ্ট ও হতাশা কাটিয়ে ওঠার পথে রয়েছি আমরা। এর আবেগীয় দিক রয়েছে। আমাদের তরুণ ফুটবলারদের আরো বেশি সুযোগ দিতে হবে। ফিরমিনো, কস্তা, ফ্রেদদের আরো সুযোগ দেব। ওরা আজ মাঠে যেমন খেলেছে, তা আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। পরের ম্যাচে অন্য তরুণরাও সুযোগ পাবে।’ রাশিয়ায় ফাউলের শিকার হয়ে নেইমারের ‘অতি নাটকীয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন ছিল অনেক। এই ম্যাচেও এই ফরোয়ার্ডের ওপর নজর ছিল তাই আলাদা করে। তাঁর পরিণতিবোধে সাহায্য করার কথা বলেছেন কোচ তিতে, তবে তা নেইমারের স্বকীয়তা কেড়ে না নিয়ে, ‘নেইমারের ওপর আপনারা চোখ রাখতে পারেন। আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। চেষ্টা করব, ওর আচরণ ও মনোভাব যেন আরো পরিণত হয় ক্রমশ। তবে তা যেন কিছুতেই ওর সাহসিকতা, ফাইনাল থার্ডে ড্রিবলিংয়ের সামর্থ্য কেড়ে নিয়ে নয়।’ এর কারণও বলেন তিনি, ‘কারণ তা কেবল নেইমার না, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদেরই ব্র্যান্ড। খেয়াল করে দেখবেন, কৌতিনিয়ো বল পেয়ে ড্রিবলিং করে ভেতরে ঢোকে। উইলিয়ান, কস্তা, এভারতন—সবাই। এসব করতে আমি মানা করব না, তবে অবশ্যই কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপার তো থাকবেই। নেইমারের আচরণ ও মনোভাবেই ওর অবস্থা বোঝা যাবে। আপনারা তা অনুসরণ করতে পারেন।’

ব্রাজিল দলে ব্যাপক পরিবর্তনের মাঝেও দলের সেরা তারকা নেইমার রয়েছেন। আর্জেন্টিনায় নেই মেসি। বিশ্বকাপ শেষে হোর্হে সাম্পাওলির বিদায়ের পর নতুন স্থায়ী কোচও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে রয়েছেন লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনা অবশ্য প্রথম ম্যাচে দুর্বল গুয়াতেমালার বিপক্ষে সহজ জয়ই পেয়েছে। ৩-০ গোলে।

আর্জেন্টিনার তিনটি গোলই প্রথমার্ধে। ২৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গনসালো মার্তিনেস করেন প্রথম গোল। এরপর ৩৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জিওভানি লো সেলসোর দুর্দান্ত ভলি এবং বিরতির ঠিক আগে আগে ডিয়েগো সিমিওনের ছেলে জিওভান্নি সিমিওনের গোলে সহজ জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। প্রথম ও শেষ গোলদাতার মতো এ ম্যাচ অভিষেক হয়েছে ১১ জনের। কোচ স্কালোনির ম্যাচ শেষে তাই মজার প্রতিক্রিয়া, ‘আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে আমার অভিষেকটাই সবচেয়ে অগুরুত্বপূর্ণ। যে ছেলেগুলো জাতীয় দলের জার্সি পরে খেলা শুরু করল, তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই জার্সির মূল্য ওরা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে। ওরাই আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ।’

বিশ্বকাপ-বিপর্যয়ের পর সে ভবিষ্যতের দিকেই তো তাকিয়ে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলও। ওই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মধ্যে প্রীতি ম্যাচে লুইস সুয়ারেসের জোড়া গোলে উরুগুয়ে ৪-১ গোলে হারায় মেক্সিকোকে। ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে কলম্বিয়ার জয় ২-১ গোলে। আর ইকুয়েডর ২-০ গোলে হারায় জ্যামাইকাকে। সবগুলো প্রীতি ম্যাচই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এএফপি, গোল ডটকম

 



মন্তব্য