kalerkantho


ছক্কা চাই তবে ক্যারিবীয় স্টাইলে নয়

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ছক্কা চাই তবে ক্যারিবীয় স্টাইলে নয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আগের রাতে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) সেন্ট কিটসের হয়ে ১১ বলে দুটি করে বাউন্ডারি আর ছক্কায় অপরাজিত ২৮ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলা মাহমুদ উল্লাহকেই উদাহরণ হিসেবে টানলেন তিনি। টেনে নেইল ম্যাকেঞ্জি বললেন, ‘রিয়াদ কিভাবে টি-টোয়েন্টিতে দলকে জেতাল, সেটি আমরা মাত্রই দেখেছি। কাজেই বাংলাদেশ দলেও বিগ হিটার আছে। সুতরাং আপনি অবশ্যই টেকনিক্যালিও ভালো হিটার হতে পারেন।’

সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং উপদেষ্টা কী বোঝাতে চাইলেন, বুঝলেন তো? মাহমুদ উল্লাহ দেখতে দৈত্যাকার কেউ নন। তাঁর মারা ছক্কা স্টেডিয়ামও পেরোয় না। কিন্তু তাঁর ব্যাট থেকে ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী ছক্কা মারার মতো বিগ শট ঠিকই বেরিয়ে আসে। অর্থাৎ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজের সময় দায়িত্ব নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ব্যাটসম্যান গায়ের জোরে নয়, বরং ক্রিকেটীয় শটের দক্ষতা দিয়েই ম্যাচ পরিস্থিতির চাহিদা মেটানো বিগ হিটে পারদর্শী করে তুলতে চাইছেন তাঁর শিষ্যদের। যেমনটি জ্যামাইকা তালাওয়াসের বিপক্ষে আগের রাতে মাহমুদ উল্লাহ করে দেখিয়েছেন।

তাঁর কাজটি সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দুই ফরম্যাটে তামিম ইকবালদের ব্যাটিং শৈলী বাড়ানোর। সেটি বাড়াতেই তিনি জোর দিচ্ছেন দক্ষতায়, ‘আমি জোর দিচ্ছি স্কিল হিটিংয়ে। আমরা কোনো বিভ্রমে পড়তে চাই না। চাই না সেভাবে বল মারতেও, যেভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানরা মারে। স্কিল হিটিংয়ের মাধ্যমে কাভার বা মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারি মেরেও কিন্তু রান বের করা যায়। ক্রিকেটটা এখন আরো বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে গেছে। কাজেই এখানে বিগ শটে রানের দাবিও বেড়েছে। তার মানে এই নয় যে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানদের মতো স্টেডিয়ামই পার করতে হবে। এমন না যে বল স্টেডিয়াম পার করতে পারলেই আপনি ছয় রানের বেশি পাবেন।’

বাংলাদেশে মাহমুদ উল্লাহর মতো ব্যাটসম্যানরা বিগ হিট করতে পারলেও বল স্টেডিয়াম পার করার মতো কেউ নেই। নেই বলেই এই ব্যাটসম্যানদের স্কিল হিটিংয়ে দক্ষতার চূড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশের জন্য তাই এটিকে সুবিধার দিকই ধরছেন ম্যাকেঞ্জি, ‘টেকনিক্যালি আমরাই সুবিধাজনক অবস্থায় আছি। এই জায়গাটায় আমাদের পক্ষে পার্থক্য গড়ে দেওয়া সম্ভব। ওভারে ৬ রান করে করতে হলে আপনাকে ব্যাটিং করতে হবে একরকম। যেমন এক-দুই করে নেওয়ার পাশাপাশি বাউন্ডারি বের করারও চেষ্টা করতে হবে। তবে ওভারপ্রতি ১২ রানের প্রয়োজন হলে নিশ্চয়ই ব্যাটিংটা একই রকম হলে হবে না। তখন ব্যাটটা আরো জোরে ঘোরাতে হবে এবং বিগ শটও খেলতে হবে। স্কিল দিয়ে সেসব বিগ শট খেলার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে।’ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের শক্তির দিকই ব্যবহার করে ফল পেতে চাইছেন নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করা ম্যাকেঞ্জি, ‘বাংলাদেশ দারুণ ব্যাটিং ইউনিট। এখানে আমাদের শক্তির দিকটিই ব্যবহার করতে হবে বেশি। ছেলেদের ব্যাট স্পিড এবং কবজির মোচড়ে বল ঘোরানোর ক্ষমতাও দারুণ। আমাদের রানিং বিটুইন দ্য উইকেটও ভালো। এটাও ব্যবহার করতে হবে আমাদের। ছেলেদের কবজির কথা বলছিলাম, যেটা অবিশ্বাস্য। যেটি থাকলে যেকোনো গতির বলই আপনি ডানে-বায়ে সামলাতে পারবেন। এগুলো যদি হয় আপনার গেম প্ল্যানের অংশ এবং তা যদি মাঠে প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে সত্যিই বাংলাদেশ দারুণ দল (সীমিত ওভারের ক্রিকেটে) হয়ে উঠতে পারে।’

তেমন ব্যাটিংয়ে উদাহরণ হিসেবে মাহমুদ উল্লাহ বারবারই এসে গেলেন ম্যাকেঞ্জির কথায়, ‘আমাদের রিয়াদ আছে। ব্যাটিং অর্ডারে নিচের দিকে যে কিনা গুড হিটার অব দ্য বল। ওর হিটিংয়ে ব্যাট-বলের মধুর একটা শব্দও হয়। আরো কয়েকজন হিটারও উঠে আসছে। এমন নয় যে ছক্কা মেরে প্রতিদিনই স্টেডিয়াম পার করতে হবে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাট স্পিড কাজে লাগিয়েও কিন্তু আরো বেশি ছক্কা মারা সম্ভব। ওভারে ১২ রানের দরকার হলে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা হয়তো দুটো ছক্কা মারতে চাইবে। আমি চাইব বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তা না করে ক্রিকেটীয় শটেই তিনটি বাউন্ডারি মারুক।’



মন্তব্য