kalerkantho


ভুটানে বাঁধা দেশের ফুটবল ভাগ্য!

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভুটানে বাঁধা দেশের ফুটবল ভাগ্য!

সেই ম্যাচের স্মৃতি মনে হতেই তপু বর্মণের মন বিষিয়ে যায়, ‘আসলে ওই দিন যে কী হয়েছিল আমাদের। তারা একের পর এক গোল করে গেছে। ঠিক ওই দলটিই আবার খেললে ভুটানের কাছে আমরা হারতাম না। খুব বাজে একটা দিন গেছে।’

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভুটানে বাঁধা বাংলাদেশের ফুটবল ভাগ্য! ২০১৫ সাফ ফুটবল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আলোচনায় সেই ভুটান। সর্বশেষ হলো আজকের ম্যাচ, তাদের হারালেই লাল-সবুজের ফুটবলের শুভ সূচনা হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। 

২০১১ সালে দিল্লি সাফ থেকে শুরু করে ২০১৩ কাঠমাণ্ডু সাফ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো জয় নেই। ছয় ম্যাচে পাঁচ হারের পাশে এক ড্রয়ের সম্বল ছিল। সেই হারের ধারা ২০১৫ কেরালা সাফেও বজায় ছিল, প্রথম ম্যাচ হারে আফগানিস্তান ও  পরের ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে। গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে ভুটান হাজির হয় আশীর্বাদ হয়ে। তাদের ৩-০ গোলে হারিয়ে হারের বৃত্ত ভাঙে বাংলাদেশ। ঠিক পরের বছরই আবার ভুটান আসে নতুন রূপে। থিম্পুতে এশিয়ান কাপের প্রাক-বাছাইয়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে নতুন এক ফুটবল ট্র্যাজেডির মুখোমুখি করিয়ে দেয় বাংলাদেশ ফুটবলকে। সে এক তোলপাড় করা হার। চারদিকে সামালোচানার তীরে বিদ্ধ ফুটবল ফেডারেশন আর ফুটবলাররা। কারণ ওটাই ছিল দেশের ফুটবল ইতিহাসে ভুটানের কাছে প্রথম হার। এএফসি সলিডারিটি কাপে এন্ট্রি করেও তারা বাতিল করে। এরপর ১৭ মাস জাতীয় দল ছিল খেলার বাইরে। অস্ট্রেলিয়ান কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড দেশে বসে ছিলেন অথচ জাতীয় দলের কোনো খেলার আয়োজন করেনি বাফুফে।

সেই ম্যাচের স্মৃতি মনে হতেই তপু বর্মণের মন বিষিয়ে যায়, ‘আসলে ওই দিন যে কী হয়েছিল আমাদের। তারা একের পর এক গোল করে গেছে। ঠিক ওই দলটিই আবার খেললে ভুটানের কাছে আমরা হারতাম না। খুব বাজে একটা দিন গেছে।’ ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ফুটবলের অভিশপ্ত এক দিন। তখনকার কোচ টম সেইন্টফিটেরও দায় দেখেন মামুনুল ইসলাম, ‘আমাদের ভুটানের কাছে তিন গোল খাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। কোচ আমাদের পজিশন এমন এলোমেলো করে দিয়েছিলেন। ওই হারের স্মৃতি মনে পড়লে নিজেরও খুব অসহায় লাগে।’ দেড় বছর পর আজ সেই প্রতিশোধের ম্যাচ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। তাদের হারিয়ে হতে পারে জাতীয় দলের নতুন শুরু। এই মিডফিল্ডারের কাছে প্রতিশোধের চেয়ে বরং দেশের মাঠে সাফে ভালো শুরুর গুরুত্ব অনেক বেশি, ‘প্রতিশোধ বলাটা ঠিক হবে না। তবে কারো কারো মনে যে বাড়তি জেদ কাজ করবে না, সেটা বলি কী করে। আমি চাই এই ম্যাচে দারুণ খেলে একটি জয় ছিনিয়ে নিতে, যেটা আমাদের দর্শকদের আশাবাদী করে তুলবে। শুরুর ম্যাচে দেখাতে চাই আমরা ভালো খেলতে পারি। এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্সটা এখানে দেখাতে পারলেই হয়ে যাবে।’

এশিয়ান গেমসে খেলেছে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। ঢাকায় সেই দলের সঙ্গে দুই-তিনটি যোগ-বিয়োগ হবে। তাতে দলের মূল সুর বদলাবে না, ধারা একটু বাড়বে বৈকি। ওখানে ছিল রক্ষণ এবং প্রতিআক্রমণ-নির্ভর খেলা। সাফে সিনিয়র দলের খেলায় আরেকটু বল পজেশনে রেখে খেলার চিন্তা থাকলেও জেমি ডে কোনোভাবেই আগে গোল খাওয়ার পক্ষপাতী নন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ হারার পর এই ইংলিশ কোচ যেন এশিয়ান গেমসের ফর্মুলায় ফিরে যাচ্ছেন, ‘আগে গোল খেলেই বাড়তি চাপ তৈরি হবে। সেটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। তার চেয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকই ভালো।’ যেভাবেই তারা খেলুক ভুটানকে হারাতেই হবে। এই জয়ই পারে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন শুরু উপহার দিতে।

 

 



মন্তব্য