kalerkantho



চীনকে বার্তা দিয়ে রাখল জাপান

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাকার্তা থেকে প্রতিনিধি : একই পতাকার নিচে দুই কোরিয়া। এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ ছিল এটা। দুই কোরিয়ার খেলোয়াড়রা মিলে অংশও নিয়েছিলেন কয়েকটি ইভেন্টে। ১৬ জনের কেনোয়িং দল সোনা জিতে চমকেও দেয় সবাইকে। এরপর সবার চোখ খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরার অনুষ্ঠানে। দুই দলের একই পতাকা তৈরি করা হলেও একই জাতীয় সংগীত যে নেই। দক্ষিণ নাকি উত্তর, বাজবে কোন দেশের জাতীয় সংগীত? কোনো ঝামেলায় যায়নি দুই দল। আগে থেকে ঠিক করা ছিল পদক জিতলে বাজানো হবে জনপ্রিয় ফোক গান ‘আরিরাং’। হলোও সেটা। মুগ্ধ উপস্থিত সব দর্শক।

১৮তম এশিয়ান গেমসে এমন মুগ্ধ করা পারফরম্যান্স অবশ্য ছিল না দক্ষিণ কোরিয়ার। চীনের পর পদক তালিকার দ্বিতীয় স্থানটা ধরাই ছিল তাদের। গত আসরে ৭৯ আর ২০১০ এশিয়াডে জিতেছিল ৭৬ সোনা। এবার ৪৯ সোনা জিতে নেমে গেছে তিনে। যথারীতি ১৩২ সোনা জিতে রাজত্ব চীনের। তবে দুই বছর পর টোকিও অলিম্পিক লক্ষ্য করে জাকার্তা আসা জাপান কড়া বার্তাই দিয়ে রেখেছে চীনকে। ৭৫ সোনা জিতে ১৯৯৪ সালের পর এবারই প্রথম দুইয়ে উঠে এসেছে জাপান। ১০০০ সোনা ও ৩০০০ পদকের মাইলফলকেও পা রেখেছে তারা। ২০১৪ ইনচিয়ন এশিয়ান গেমসে জাপানের সোনা ছিল ৪৭টি, ২০১০ গুয়াংজুতে ৪৮, ২০০৬ দোহায় ৫০, ২০০২ বুসানে ৪৪, ১৯৯৮ ব্যাংককে ৫২টি। অলিম্পিক কমিটির প্রধান ইয়াসুহিরো ইয়ামসহিতার লক্ষ্য এশিয়ান গেমসে ভালো করে টোকিও অলিম্পিকে ৩০ সোনা জেতা। তাঁরই দুর্দান্ত প্রদর্শনী জাকার্তা পালেমবাংয়ে।

এশিয়ান গেমসের ইতিহাসেই ৭৫ সোনা তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১৯৬৬ সালে জেতা ৭৮ সোনা তাদের সর্বোচ্চ। সাঁতারে সর্বোচ্চ ১৯ সোনার পাশাপাশি তারা প্রথমবার সোনা জিতেছে ছেলেদের হকিতে। মেয়েদের হকির সোনাও তাদের। সাঁতারে ছয় সোনাসহ রেকর্ড আট পদক জেতা জাপানেরই ইকি রিকাকো হয়েছেন ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ বা সেরা খেলোয়াড়। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে যৌথ সর্বোচ্চ পদক জেতার কীর্তি এটাই। ১৯৮২ সালে গো জিন ম্যানও জিতেছিলেন আট পদক, এর সাতটি অবশ্য সোনা। অলিম্পিক কমিটির প্রধান টমাস বাখ গতকাল রিকাকোর হাতে তুলে দেন ৫০ হাজার ডলারের চেক।

চীন যথারীতি ধরে রেখেছে দাপট। ১৩২ সোনা জিতে টানা ১০ বছর শীর্ষে তারা। মুকুট না হারালেও সোনা কমেছে কয়েকটি। ২০১০ গুয়াংজুতে ১৯৯ আর গতবার ইনচিয়নে তারা জিতেছিল ১৫১ সোনা। সেটাই কমে এবার ১৩২-এ। নিজেদের ইভেন্টগুলোতে অবশ্য পদক হারায়নি চীন। ডাইভিংয়ের ১০ সোনার প্রতিটি আর টেবিল টেনিসের পাঁচটিই সোনা তাদের।

ইন্দোনেশিয়ার উত্থানটাও চমকের। নিজেদের ইতিহাসে রেকর্ড ৩১ সোনাসহ ৯৮টি পদক তাদের। জাকার্তা পালেমবাংয়ে নতুন খেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল কয়েকটি। ইন্দোনেশিয়ার ২০টি সোনা এসেছে নতুন খেলাগুলো থেকেই। এর ১৪টি আবার পেনাক সিলাতে।

৩২ বছর পর বাংলাদেশ এবার পদক পায়নি কোনো ইভেন্টে। বাংলাদেশের মতো দুর্ভাগা আরো সাত দেশ। সব মিলিয়ে আটটি দল এবার দেশে ফিরেছে পদকের মুখ না দেখে।

 

 

 



মন্তব্য