kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

দেশের পতাকা নিয়ে বিদায় বলতে পারা সৌভাগ্যের

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দেশের পতাকা নিয়ে বিদায় বলতে পারা সৌভাগ্যের

টানা চার চারটি এশিয়ান গেমস খেলেছেন মামুনুর রহমান চয়ন। অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন জাতীয় হকি দল থেকে। বিদায় বেলায় বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ান খেলোয়াড়রা তাঁকে দিয়েছেন গার্ড অব অনার। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বললেন হকি ক্যারিয়ারের গল্প। সেখানে ছিলেন কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিও

 

প্রশ্ন : চার চারটা এশিয়ান গেমস পর থামলেন অবশেষে!

মামুনুর রহমান চয়ন : এটাই বাস্তবতা। একটা সময় তো থামতেই হতো। বিদায় বেলায় বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক তুলে দিলেন বিশেষ স্মারক। সতীর্থদের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ান খেলোয়াড়রা দিলেন গার্ড অব অনার। সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি।

প্রশ্ন : সমাপনী অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা থাকছে আপনার হাতে। এটা তো গর্বের।

চয়ন : এত দিন ধরে খেলছি, কখনো ভাবিনি এই সম্মান দেওয়া হবে আমাকে। আমি গর্বিত। বাংলাদেশের জার্সিতে আর খেলব না, তবে বিদায়টা বলতে পারছি দেশের পতাকা হাতে নিয়ে।

প্রশ্ন : আপনার বয়স মাত্র ৩০ বছর। বাংলাদেশের হকির যা অবস্থা তাতে তো খেলতে পারতেন আরো কিছুদিন?

চয়ন : আমার বন্ধু মুশফিকুর রহিমও ফোনে একই কথা বলেছে। কিন্তু আমার ছেলে বড় হচ্ছে। গত তিন বছরে সব মিলিয়ে পাঁচ-ছয় মাসও থাকতে পারিনি ওর সঙ্গে। আসলে ছেলেকে সময় দিতেই জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়ছি। পরিবারের সবার সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে চাই এখন থেকে। সবাইকে বলে দিয়েছি কোনো অনুরোধ এলেও ফিরব না আর। 

প্রশ্ন : ঘরোয়া হকিও কি খেলবেন না?

চয়ন : আমি নৌবাহিনীতে চাকরি করি। নৌবাহিনী যেকোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিলে আমিও খেলব। জাতীয় দলে থাকব না বলে ঘরোয়া হকি খেলা হবে না এমন কথা নেই।

প্রশ্ন : দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে পেছন ফিরে দেখলে সেরা প্রাপ্তি বলবেন কোনটা?

চয়ন : অবশ্যই চীনকে হারানো। ওরা অনেক বড় দল। চারটি এশিয়ান গেমসের মধ্যে এবারই প্রথম ষষ্ঠ হলাম আমরা। এখন সরাসরি খেলব আগামী এশিয়ান গেমসে, বাছাইয়ে অংশ নিতে হবে না। এগুলোই প্রাপ্তি। তবে ভালো লাগত যদি শেষ ম্যাচটি জিততে পারতাম। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৩-৪ গোল খেলেও ভালো ফল বলতাম। ৭ গোল খাওয়াটা বেশি হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : আর অপ্রাপ্তি?

চয়ন : আমার কোনো অপ্রাপ্তি নেই। ক্যারিয়ার নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। বাংলাদেশ হকির অনেক কিছু দেখেছি। এখন হকি যে অবস্থায় আছে এটা নিয়ে হতাশার কিছু নেই। আমি যখন শুরু করি তখন শুধু বাংলাদেশ রক্ষণ আগলে খেলত। এখন আমরা আক্রমণ করি। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও আক্রমণ করেছি কয়েকটি। এটা গর্বের।

 



মন্তব্য