kalerkantho


বড় হারে শেষ বাংলাদেশের

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বড় হারে শেষ বাংলাদেশের

এত বড় হারের পরও ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের জন্য গ্যালারি থেকে ভেসে এলো করতালি। উপলক্ষ মামুনুর রহমান চয়ন। গতকালই টানা চতুর্থ এশিয়ান গেমস খেলে আন্তর্জাতিক হকি থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি সতীর্থদের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ান খেলোয়াড়রাও তাঁকে দিয়েছেন গার্ড অব অনার।

 

জাকার্তা থেকে প্রতিনিধি : শেষটা স্মরণীয় করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। হয়েছে উল্টোটা। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ০-৭ গোলের বড় হার দিয়ে শেষ হকির অভিযান। গ্রুপ পর্বে মালয়েশিয়ার বিপক্ষেও একই ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এত বড় হারের পরও ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের জন্য গ্যালারি থেকে ভেসে এলো করতালি। উপলক্ষ মামুনুর রহমান চয়ন। গতকালই টানা চতুর্থ এশিয়ান গেমস খেলে আন্তর্জাতিক হকি থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি সতীর্থদের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ান খেলোয়াড়রাও তাঁকে দিয়েছেন গার্ড অব অনার। হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে স্মারক। পুরনো এই সতীর্থটির জন্যও শেষ ম্যাচে লড়াই করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচের ফলই বলছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন গোবিনাথান কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যরা। তবে ১৯৭৮ সালের পর দ্বিতীয়বার ষষ্ঠ হয়ে সরাসরি খেলবে আগামী এশিয়ান গেমস।

এ ছাড়া গতকাল হকির সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছে জাপান। ফাইনালে টাইব্রেকারে তারা হারিয়েছে স্বাগতিক মালয়েশিয়াকে। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় ৬-৬ গোলের সমতায়। টাইব্রেকারে জাপান ৩-১ গোলে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করে। এশিয়ান গেমস হকিতে এটাই প্রথম সোনা তাদের। ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের জন্য অপেক্ষায় ছিল পুরো এশিয়া। কিন্তু সেই দুদল মুখোমুখি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। রোমাঞ্চকর সে ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে ভারত। তৃতীয় মিনিটে আকাশদ্বীপ সিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় ভারত। ৫০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হারমানপ্রীত সিং। ৫১ মিনিটে মোহাম্মদ আতিকের গোলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরলেও জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।

চারবারের এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেই পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ৩-৩ গোলে ড্র ছিল একটিতে আর এক ম্যাচে হার ২-৩ ব্যবধানে। তবে প্রস্তুতি আর টুর্নামেন্টের মঞ্চ যে এক নয় ভালোভাবেই বোঝাল কোরিয়ানরা। বাংলাদেশ দ্বিতীয় মিনিটে আক্রমণ করেছিল একটা। সেই শেষ। এরপর একেবারে শেষদিকে আরো একটি আক্রমণ। মাঝখানের পুরো সময়টা বাংলাদেশকে নিয়ে খেলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে ছয়টি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল হয়েছে মাত্র দুটি। আরেক গোল পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে। বাকি চারটি ফিল্ড গোল। ১০ মিনিটে কিম জিং হো, ১৫ মিনিটে ইন উ, ২৬ মিনিটে জুন উ, ২৭ ও ৪৪ মিনিটে জ্যাং, ৩৩ মিনিটে ম্যান জে আর ৫৭ মিনিটে শেষ গোলটি লি জুং জুনের। ম্যাচ শেষে বড় হার নিয়ে বাংলাদেশি কোচ গোবিনাথান কৃষ্ণমূর্তির আক্ষেপ, ‘আমরা আরো ভালো খেলতে পারতাম। তবে সবাইকে বুঝতে হবে এশিয়ান গেমসটা অলিম্পিকের বাছাই। এখানে সবাই সেরাটাই খেলে। আমরাও চেষ্টা করেছি। এখন প্রস্তুতি ম্যাচ বাড়িয়ে আর খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলনে রেখে চেষ্টা করতে হবে উন্নতির ধারায় থাকার।’



মন্তব্য