kalerkantho



বঙ্গবন্ধু কাপের জমকালো ড্র

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বঙ্গবন্ধু কাপের জমকালো ড্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সবাই তাকিয়ে আছে সালাম মুর্শেদীর হাতের দিকে। তিনি কার নাম তোলেন। বাংলাদেশের গ্রুপে তৃতীয় এবং শেষ দল কারা? লাওসের নামটি তোলার সঙ্গে সঙ্গে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ল লা মেরিডিয়ানের হলঘরে। স্বস্তি শক্তিশালী তাজিকিস্তানকে এড়ানোর এবং ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালে ওঠার তুলনামূলক সহজ পথ খুলে যাওয়ার। দেশে হবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, স্বাগতিকরা অন্তত সেমিফাইনাল না খেললে টুর্নামেন্ট মাঠে মারা যায়। আপাতদৃষ্টে সেই শঙ্কা কম আর এই স্বস্তি নিয়েই শুরু হলো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের পঞ্চম আসরের শুভ মহরত।

মাঠের লড়াই ১ অক্টোবর থেকে। এর এক মাস আগে কাল টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠান এক দফা ‘শুভ বার্তা’ দিয়ে গেছে বাংলাদেশের জন্য। ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিকদের সঙ্গী হয়েছে র্যাংকিংয়ে ১১৫ নম্বরে থাকা ফিলিপাইন ও ১৭৮ নম্বর দল লাওস। এর চেয়ে সহজ গ্রুপ আর হতে পারত না। এখান থেকে দুটি দল উঠবে সেমিফাইনালে। ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে ফিলিস্তিন, নেপাল ও তাজিকিস্তান। গত দুই আসরেও সেমিতে খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে দারুণ লড়াই করে তারা ২-৩ গোলে ফাইনাল হারে মালয়েশিয়ার অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে। পরের বছর অবশ্য সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় বাহরাইনের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে হেরে। সেই ধারায় এবারও সেমিফাইনালের পথটা আপাত সহজই দেখাচ্ছে। সুবাদে টুর্নামেন্টের স্বত্ব কেনা কে স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী ফাহাদ করিমও খুশি, ‘টুর্নামেন্ট জমজমাট হওয়ার মূল উপাদানই হলো আমাদের জাতীয় দল। তাদের খেলা গ্যালারি মাতাবে, দেশে সাড়া ফেলবে—এই তো আমাদের চাওয়া। আস্তে আস্তে গুছিয়ে উঠছে বাংলাদেশ দল, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে তাদের ভালো খেলা দেখব আশা করি।’

কে স্পোর্টস প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের স্বত্ব নিয়েছে। কাজী সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ফুটবল ফেডারেশন এর আগে দু-দুবার এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেও দু-টাকা আয় করতে পারেনি। এই প্রথম আয় হবে তাদের এক কোটি টাকা কে স্পোর্টস থেকে। পুরো টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে এই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কম্পানির খরচ হবে প্রায় আট কোটি টাকা। ‘লাভ-ক্ষতি কী হবে পরের ব্যাপার। সব জায়গায় আসলে ব্যবসা করা যায় না। জাতির পিতার নামে এই টুর্নামেন্ট, এটা অনেক ভালোভাবে করা যায়। আমরা চাইছি বিশ্বের জনপ্রিয় খেলাটিকে এ দেশেও দারুণ আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতে। একটু চেষ্টা থাকলে গুণ-মান বাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবল টুর্নামেন্টেও রূপ দেওয়া যায়’—সুন্দর ও সুচারু আয়োজন করে দুর্দান্ত এক টুর্নামেন্ট উপহার দিতে চান ফাহাদ করিম। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের গর্ব, ‘এএফসি-ফিফার ব্যস্ত সূচির কারণে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু আমরা এখনো ধরে রেখেছি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার ও উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় ড্র অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে এই টুর্নামেন্টের সাফল্য কামনা করেন। ফুটবলের উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে অনূর্ধ্ব-১৭ বছর বয়সীদের নিয়ে ৪৮৪ উপজেলায় বঙ্গবন্ধু কাপ আয়োজনের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী, ‘কিশোরদের এই টুর্নামেন্ট নতুন ফুটবলার তৈরিতে সাহায্য করবে।’ সংসদীয় উপকমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ আহসান রাসেল আগামী সাফ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ দিয়ে ফুটবলের ঘুরে দাঁড়ানো প্রত্যাশা করেন। তাঁদের বক্তৃতার পরই হয় ছয় দলের ড্র অনুষ্ঠান। এর পরই নাচে-গানে তুলে ধরা হয় ছয় দেশের সংস্কৃতি।

১ অক্টোবর থেকে মাঠে হবে তাদের ফুটবল সংস্কৃতির প্রকাশ। সিলেটে গ্রুপ পর্বের খেলার পর দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল হবে ঢাকায়। নীলফামারীতে দর্শক যে নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে আয়োজকদের। সেখানে ম্যাচ ফেলার নতুন চিন্তা শুরু হয়েছে, তবে সেটা এখনো গুঞ্জন হয়ে আছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এটাই, ফাইনাল হবে ১২ অক্টোবর, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে।

 



মন্তব্য