kalerkantho


অলিম্পিকের স্বপ্ন ইন্দোনেশিয়ার

১৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



অলিম্পিকের স্বপ্ন ইন্দোনেশিয়ার

ইন্দোনেশিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা বুলদেনসি ড্যানির স্বপ্ন আরো বড়। দুইবার এশিয়ান গেমসের পর অলিম্পিক আয়োজন করতে চায় এ দ্বীপরাষ্ট্র।

 

জাকার্তা থেকে প্রতিনিধি : গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়াম বা জিবিকের বাইরে চলছে মহড়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফরমারদের প্রস্তুতি। শেষ মুহূর্তে দেয়ালে রং আর ঘষামাজায় ব্যস্ত অনেকে। এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেল জিবিকের প্রেস সেন্টারের। এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ১০ আগস্ট। তবে গতকাল অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) সম্মানসূচক সহসভাপতি উই জিজং প্রধান অতিথি হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে করলেন উদ্বোধন। ইন্দোনেশিয়ার আয়োজনে খুশি সাত-সাতটি এশিয়ান গেমস আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত জিজং, ‘সাতটি এশিয়ান গেমস আয়োজনের সঙ্গে ছিলাম আমি। একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা চলে না। সব গেমসই সেরা। যেমন চীন অনেক জনসংখ্যার দেশ। জনসংখ্যা, অর্থনীতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। প্রতিটি দেশই চেষ্টা করে তাদের সেরাটা দিয়ে আয়োজন করার। ইন্দোনেশিয়াও করছে।’

ইন্দোনেশিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা বুলদেনসি ড্যানির স্বপ্ন আরো বড়। দুইবার এশিয়ান গেমসের পর অলিম্পিক আয়োজন করতে চায় এ দ্বীপরাষ্ট্র। ২০৩২ অলিম্পিক লক্ষ্য তাঁর, ‘সমাপনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি আসবেন। গেমস পর্যবেক্ষণ করতে আইওসির পর্যবেক্ষক এসেছেন এরই মধ্যে। আমরা ২০৩২ অলিম্পিক আয়োজনের পরিকল্পনা করছি। আমাদের এক সহসভাপতি ২০৩০ অলিম্পিক আয়োজনের ব্যাপারে বিবৃতিও দিয়েছেন। এখন শুধু অপেক্ষার পালা।’ গেমসের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজেট ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এ বাজেটের ৮৫ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ার সরকারই দিচ্ছে। বাকি ১৫ শতাংশ এসেছে স্পন্সর থেকে।

শুধু আয়োজন নয়, পদক তালিকায়ও সম্মানজনক অবস্থানে থাকার লক্ষ্য স্বাগতিকদের। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানের জন্য সেরা তিন বা পাঁচে থাকাও সম্ভব নয়। তবে সেরা দশে জায়গা করে নিতে চান বুলদেনসি ড্যানি, ‘পদক তালিকায় আমরা সেরা দশে থাকতে চাই। পেতে চাই ২০টির বেশি পদক। তাহলে সম্ভব দশে উঠে আসা। আমাদের অ্যাথলেটরা কঠোর পরিশ্রম করছে।’ ব্যাডমিন্টনে ইন্দোনেশিয়ার জয়জয়কার। পদক পায় অলিম্পিকেও। ব্যাডমিন্টনের পাশাপাশি উশু, ভারোত্তোলন, অ্যাথলেটিকসে সোনা জেতার প্রত্যাশা তাদের।

প্রেস সেন্টার উদ্বোধনের পর পরিবেশিত হয়েছে জাকার্তার ঐতিহ্যবাহী কামবাং নৃত্য। এরপর ওসিএ এবং এলওসি কর্তারা ঘুরে দেখেন পুরো প্রেস সেন্টার। ওসিএ মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান চার্লস ল স্বাগত বক্তব্যে জানালেন, ‘গেমসে অন্যতম প্রাণ গণমাধ্যম। গণমাধ্যমকে কাজের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিতে আমরা প্রস্তুত। আশা করছি এশিয়ান গেমসের অন্য আসরগুলোর মতো এখানেও কাজের দুর্দান্ত পরিবেশ পাবেন সাংবাদিকরা।’

অন্যান্য এশিয়ান গেমসের চেয়ে এবার ইভেন্ট আর অ্যাথলেট বেশি। তাই সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে রাখলেন ওসিএ সহসভাপতি জিজং, ‘অ্যাপার্টমেন্টগুলোকে গেমস ভিলেজে পরিণত করা হয়েছে। গেমস ভিলেজগুলোর অ্যাপার্টমেন্ট আয়তনে খানিকটা ছোট। প্রেস সেন্টারেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা সবাই মিলে সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সুন্দর গেমস আয়োজন করতে চাই।’

এ জন্য গতকাল হয়ে গেছে টর্চ রিলেও। ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার উল্টোদিকে অর্থাৎ ন্যাশনাল মনুমেন্টালের সামনে এ উপলক্ষে হয়েছে কনসার্ট। প্রাণের ছোঁয়া ছিল তাতে। অংশ নেওয়া ৪৫টি দেশের পতাকা হাতে হাজারো শিক্ষার্থী ছিল রাস্তার দুই পাশে। সেখানে পতপত করে উড়ছিল বাংলাদেশের পতাকাও। এখন আসল টুর্নামেন্টে সেই পতাকার মান রাখার পালা অ্যাথলেটদের।

 



মন্তব্য