kalerkantho


জয় মাঠে ফেলে আসার হতাশা বাংলাদেশের

১৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



জয় মাঠে ফেলে আসার হতাশা বাংলাদেশের

জিতেছে হকিতে : প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে গতকাল ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছে ৪-০ গোলে। গোল করেছেন আশরাফুল, সারওয়ার, খোরশেদ ও আরশাদ। আজ দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ ভারত।

 

ধুঁকতে থাকা ফুটবলে আসতে পারত প্রাণের স্পন্দন। র‍্যাংকিংয়ে ৭২ ধাপ ওপরে থাকা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ এগিয়ে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত। পুরনো রোগ ফিরে এলো তখনই। শেষ বেলায় গোল খাওয়ার বদনাম পিছু ছাড়ল না এশিয়ান গেমসেও। এগিয়ে থেকেও ১-১ গোলের সমতায় মাঠ ছাড়ল জেমি ডের দল।

 

র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে এমন সুযোগ নষ্টের জন্য হতাশ বাংলাদেশি কোচ জেমি ডে। তবে জামাল ভূইয়া, আশরাফুলদের লড়াইয়ে সন্তুষ্ট তিনি, ‘আমরা ভালো খেলেছি র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা একটি দলের বিপক্ষে। জিততেও পারতাম। কিন্তু ম্যাচ শেষ হলো ড্রতে। এটা হতাশার। ছেলেরা লড়াই করেও পারল না। তবে লড়াই করার এই মানসিকতাটা সন্তুষ্টির।’

বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছিল ৫২ মিনিটে মাহবুবুর রহমান সুফিলের গোলে। সেটা ধরেও রাখে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু ৭৯ মিনিটে খেয়ে বসে এক গোল। ম্যাচের একেবারে শেষদিকে থাইল্যান্ডের আরো একটি প্রচেষ্টা নষ্ট হয় পোস্টে লেগে। এগিয়ে থেকেও জিততে না পারার দায়টা নিচ্ছেন গোলদাতা মাহবুবুর। এশিয়ান গেমসের মতো বড় টুর্নামেন্টে গোল করেও ভাসতে পারছেন না উচ্ছ্বাসে। কারণ বিরতির আগে দুটি সহজ গোল নষ্ট করেছেন তিনি। হতাশা লুকালেন না তাই, ‘লাওসের সঙ্গেও আমি এক গোল করেছি। গোল করলাম এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে। কিন্তু বেশি পোড়াচ্ছে গোল মিস করায়। আমি দুটি গোল করতে পারলে দল জিতত। পরে সুযোগ পেলে সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’

গতকাল জিততে পারলে খুলে যেত নকআউটের দরজা। ড্রর পরও অবশ্য বন্ধ হয়নি সেটা। কারণ অপর ম্যাচে কাতারকে বিধ্বস্ত করেছে উজবেকিস্তান। তাদের পয়েন্ট ৬। থাইল্যান্ডের ২। বাংলাদেশ ও কাতারের সমান ১। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতে গেলে রানার্স-আপ হয়েও যেতে পারে নকআউটে। রানার্স-আপ না হলেও সেরা তৃতীয় দল হয়েও সুযোগ আসতে পারে নকআউট খেলার।

২০১৫ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে থাইল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাসটা ছিল বলে শুরুতে গুটিয়ে থাকেনি বাংলাদেশ। ‘এবারও জিততে পারি’—ছিল সেই আত্মবিশ্বাস। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বিধ্বস্ত হওয়ার রেশ কাটিয়ে ইতিবাচক ফুটবল খেলছিল জেমি ডের শিষ্যরা। বিরতির আগে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করলেও বাংলাদেশকে ৫২ মিনিটে আরাধ্য গোলটা এনে দেন মাহবুবুর রহমান সুফিল।

পোস্টের বাইরে থেকে লম্বা থ্রো নিয়েছিলেন বিশ্বনাথ ঘোষ। বক্সে সেটা ব্যাকহেড করেন তপু বর্মন। গোলরক্ষক পরাস্ত তাতে। জটলায় হেড নিতে লাফিয়ে ওঠেন সাদ উদ্দিন। কখনো কখনো সব বল মাথায় না আসা সৌভাগ্যের। সেই সৌভাগ্যেই সেটা লাগেনি সাদের মাথায়। ফাঁকায় পেয়ে যান মাহবুবুর। তাঁর পায়ের ছোঁয়ায় বল জালে। বিরতির আগে দু-দুটি সহজ সুযোগ মিস করা মাহবুবুর ছুটলেন জার্সি ধরে। কাঁধ থেকে নামল যেন বোঝার পাহাড়। তাঁর পেছনে দলের অন্যরাও। র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকলেও থাইল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২৩ দল যে ভয় পাওয়ার মতো নয় ভালোই বোঝাচ্ছিল বাংলাদেশ।

বিরতির সময়ই মামুনুল ইসলাম আফসোস করে বলছিলেন, ‘দুই গোলে এগিয়ে থাকতে পারতাম। কপাল খারাপ, কী আর বলতে পারি।’ সিনিয়র খেলোয়াড় বলেই হয়তো সরাসরি কাউকে দোষ দিলেন না তিনি। কিন্তু ২ গোলে এগিয়ে যাওয়ার বদলে গোলশূন্যভাবে মাঠ ছাড়ার দায়টা মাহবুবুর রহমান সুফিলের। ম্যাচের একেবারে শুরুতে সোনালি সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সাদ উদ্দিনের পাসে বল পেয়েছিলেন ভালো পজিশনে। গোলরক্ষকের সামনে ওয়ান টু ওয়ান। জোরালো শট নিলে সামনে থাকা গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতেই পারতেন। দূরে থাকা থাই ডিফেন্ডাররাও শঙ্কা করছিলেন গোলের। কিন্তু করলেনটা কি? দুর্বল শটে মারলেন গোলরক্ষকের গায়ে, বল গেল বাইরে।

সেই মাহবুবুর রহমান সুফিলই প্লেটে সাজিয়ে দেওয়া খাবার আরো একবার ফেলে দিলেন ৩৬ মিনিটে। ডি বক্সে বিপ্লুু আহমেদের বুদ্ধিদীপ্ত ক্রস পেয়েছিলেন ফাঁকায়। পোস্ট দেখছিলেন স্পষ্ট। পারলেন না সঠিক নিশানায় বল রাখতে। আলসেমিতে পেয়ে বসেছিল কিনা কে জানে? দুর্বল শট তুলে দিলেন ডিফেন্ডারদের পায়ে।

থাইল্যান্ডের যুবারাও সুযোগ পেয়েছিল একাধিক। কখনো সেগুলো নষ্ট হয়েছে ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায়, কখনো গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামের কৃতিত্বে। ২৯ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন থাই ১০ নম্বর বুরান ছাইওয়াত। পারেননি লক্ষ্য ভেদ করতে। ৬৫ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শট সামফাওদি চেনরোপের। স্নায়ুর চাপ না হারিয়ে সেটা গ্রিপবন্দি করেন আশরাফুল ইসলাম। ৭৪ মিনিটে প্রতিআক্রমণ থেকে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট কানিতশ্রীবুমফেনের। ঝাঁপিয়ে ঠেকান আশরাফুল। গোল খাওয়ার পর আক্রমণের ধার বাড়ায় তারা। বাংলাদেশ এ সময় নেতিবাচক ফুটবলে ঠেকানোর কৌশল নিয়েছিল। বুমেরাং সেটাই। ৭৯ মিনিটে সমতা ফেরান চাইদেদ সুপাচাই। বুরান ছাইওয়াতের ক্রস থেকে নেওয়া শটে বুক ভাঙে বাংলাদেশের। ম্যাচের একেবারে শেষদিকে থাইল্যান্ডের একটি প্রচেষ্টা নষ্ট হয় পোস্টে লেগে। নইলে জেতা ম্যাচ হেরেও আসতে পারত বাংলাদেশ।

পশ্চিম জাভার পাকান সারি স্টেডিয়ামের একটা কোণে জনা দশেক থাই তরুণ ড্রাম বাজিয়ে চলছিল শুরু থেকে। স্লোগান তুলছিল ‘উই আর ফাইনালিস্ট’। এত বিশাল স্টেডিয়ামের মধ্যমণি বলতে তারাই। কারণ দর্শকই এসেছিলেন মাত্র ১২০ জন! সেই থাই দর্শকরাও ম্যাচ শেষে বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিল বারকয়েক ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ বলে। প্রতিপক্ষ দর্শকদের কাছ থেকে এমন অভিবাদনটাই যা পাওনা বাংলাদেশের।



মন্তব্য