kalerkantho


মেয়েদের ফাইনালে ওঠার ম্যাচ আজ

১৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মেয়েদের ফাইনালে ওঠার ম্যাচ আজ

বাংলাদেশ আজ সন্ধ্যা ৭টায় স্বাগতিক ভুটানের মুখোমুখি হচ্ছে সেমিফাইনালে। ফুটবলীয় বিশ্লেষণে ভুটান অবশ্যই বাংলাদেশের পেছনে। এই দলটি গত সাত-আট মাস ধরে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। মাঝে মাঝে কিশোরীদের পায়ে গোলার মতো শট চমকে দেয় সবাইকে।

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পাকিস্তানকে উড়িয়ে, নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নদের আজ ফাইনালে ওঠার ম্যাচ। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলের সেমিফাইনাল। সেখানে স্বাগতিকদের দেখে কি একটু হকচকিয়ে গেল বাংলার কিশোরীরা!

বাংলাদেশ আজ সন্ধ্যা ৭টায় স্বাগতিক ভুটানের মুখোমুখি হচ্ছে সেমিফাইনালে। ফুটবলীয় বিশ্লেষণে ভুটান অবশ্যই বাংলাদেশের পেছনে। এই দলটি গত সাত-আট মাস ধরে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। মাঝে মাঝে কিশোরীদের পায়ে গোলার মতো শট চমকে দেয় সবাইকে। এমন ঝলক দেখা যায় না ছেলেদের পায়েও। মুগ্ধ হয়ে দেখতে হয় তাদের বল কন্ট্রোল ও ড্রিবলিং। সুলক্ষণা মহিলা ফুটবল পেয়েছে একটি জাদুকরী প্রজন্ম, তাদের সৃষ্টিশীলতায় নব দিগন্তে নোঙর ফেলছে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল। গত ডিসেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসার আগেও তাদের দুর্দান্ত একটি দারুণ অর্জন আছে। বাছাই পর্ব উতরে এশীয় পরাশক্তিদের সঙ্গে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবলের চূড়ান্ত পর্ব খেলেছে। তাই তাদের ফুটবল মান নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের মনেও সংশয় নেই তার দলের সামর্থ্য নিয়ে, ‘মেয়েরা গত ৯ ম্যাচ একই মানের ফুটবল খেলছে। গত সাফের চার ম্যাচ, এরপর হংকংয়ে দুই ম্যাচ এবং এখানে আগের দুই ম্যাচের কোনোটিই খারাপ খেলেনি। শেষ পর্যন্ত এই ধারাটা যেন ধরে রাখতে পারে, সেটাই প্রত্যাশা করি।’

থিম্পুতে চ্যাম্পিয়নের মতোই শুরু করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। পাকিস্তানকে ১৪-০ গোলে হারানোর পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলে হারিয়েছে নেপালকে। তাতেই যেন বাংলাদেশ কোচের সব দুশ্চিন্তা উড়ে গেছে, ‘শুরুতে অনেক দুশ্চিন্তা ছিল। থিম্পুর উচ্চতা, আবহাওয়ায় তারা স্বাভাবিক খেলাটা ধরে রাখতে পারবে কিনা, সেই ভয়ে ছিলাম। দুই ম্যাচে তারা সব প্রতিকূলতাকে জয় করেছে। ফুটবল খেলতে হলে নতুন জায়গায় নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া শিখে নিতে হয়। সেটা তারা শিখেছে।’ সাত মাস আগে তারা এই টুর্নামেন্ট জেতে ঢাকায়। এবার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেকটা উঁচুতে থিম্পু অভিযান কেমন হবে সে নিয়ে একটু সংশয় ছিল। সেখানে দমের ঘাটতি হবে কি না, কৃত্রিম টার্ফে মানিয়ে নিয়ে নিতে পারবে কি না ইত্যাদি ইত্যাদি। গত দুই ম্যাচে তারা এমন উচ্চমার্গের ফুটবল খেলেছে প্রত্যেক দলের কোচের মুখেই শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রশংসা। বাংলাদেশ কোচও তাই ভুটানকে বড় প্রতিপক্ষ মানছেন না তবে থিম্পুকে ভয় পাচ্ছেন, ‘আশা করি, ভুটানের সঙ্গে ম্যাচেও মারিয়া-শামসুন্নাহাররা স্বাভাবিক ফুটবল খেলবে। প্রতিপক্ষ ভুটানকে নিয়ে সমস্যা নেই। তাদের দর্শক, তাদের মাঠ একটা ব্যাপার। এই চাপের মধ্যে তাদের সেরা খেলাটা বের করে আনতে হবে। এটা অন্য রকম পরীক্ষা।’

বাংলাদেশের কোচ স্বীকার করেন সাত মাস আগের ভুটান আর এই দলের মধ্যে বড় পার্থক্য নেই। খানিকটা উন্নতি করেছে তারা। প্রতিপক্ষের সেই উন্নতি বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ নয়। চাপটা স্বাগতিক হাওয়া-বাতাসের। এর ফলে তাদের খেলা না গুলিয়ে যায়। ভুটানের ম্যাচটি তাই স্বাগতিক চাপ নিঃসরণের ম্যাচ। এমন পরিস্থিতি মেয়েদের জন্য নতুন। তবে ৪ গোল করা শামসুন্নাহার এই চাপকে বড় করে দেখতে চায় না, ‘সব কিছুই নির্ভর করছে খেলার ওপর। আমরা বিশ্বাস করি, ভুটানকে হারানোর ক্ষমতা আমাদের আছে। মাঠের পারফরম্যান্সে সব চাপ-তাপ উড়ে যাবে।’



মন্তব্য