kalerkantho


কিশোরদের জন্য মাত্র দুই মাস!

১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



কিশোরদের জন্য মাত্র দুই মাস!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভুটানে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলে দুরন্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। ঠিক একই বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কিশোররা লড়বে দুই মাস বাদে। অক্টোবরে নেপালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ ফুটবল টুর্নামেন্ট। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা সেখানে ভিন্ন। মেয়েদের আলোড়িত ফুটবলের পাশে ছেলেরা ম্রিয়মাণ। কিশোরীদের চোখে যখন শিরোপার স্বপ্ন, তখন কিশোর ফুটবলের লক্ষ্য হয় শুধু লড়ে যাওয়ার।

তবে এ টুর্নামেন্টে দুই মাসের প্রস্তুতি নিয়ে কিছু করাও কঠিন। গত পরশু থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ পুরুষ দল গঠনের। নিলফামারী স্টেডিয়ামে চার দেশি কোচের অধীন বাছাই করা ৩৪ জন খুদে ফুটবলারের প্র্যাকটিস শুরু হয়েছে। বাফুফের দেশি টেকনিক্যাল ডিরেক্টর বি এ জোবায়ের নিপু বলেছেন, ‘গত মাসে আমরা উন্মুক্ত ট্রায়ালের ব্যবস্থা করেছিলাম। সারা দেশ থেকে প্রায় ৫০০ ফুটবলার এসেছিল, তাদের মধ্য থেকে পল স্মলি আর আমি মিলে ৩৪ জনকে বাছাই করেছি। তারা একদম আনকোরা, তৈরি করে নিতে হবে তাদের।’ তৈরির সময় মাত্র দুই মাস! অথচ খুদে খেলোয়াড়দের সে রকম ফুটবল শিক্ষা নেই। তারা শৌখিন ফুটবলার, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাটা তাদের ভালোবাসার জায়গা। তাই খেলাটা ঠিক নিয়মতান্ত্রিকভাবে শেখা হয়নি। অবশ্য শেখার কোনো আয়োজন কিংবা খেলার কোনো বড় মঞ্চও নেই দেশে। ১৪-১৫ বছর বয়সীদের নিয়ে বাফুফেরও কোনো কার্যক্রম নেই, ক্লাবগুলোরও নেই। এমনকি নেই কোনো ফুটবল টুর্নামেন্টও। তাই ভরসা তথাকথিত উন্মুক্ত ট্রায়াল, এরপর কিছুদিন ট্রেনিং করিয়ে ওই ছেলেদের নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়া।

২০১৫ সালে একবারই অনূর্ধ্ব-১৫ দল গঠনের ক্ষেত্রে একটু পরিকল্পনা ছিল। খুদে ফুটবলারদের বাছাই করা হয়েছিল সেইলর জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। এরপর বাছাই করা খেলোয়াড়দের নিয়ে লম্বা সময় ট্রেনিং হয়। তার ফলও মেলে হাতেনাতে, সিলেটে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে। চ্যাম্পিয়ন ফুটবলারদের একাডেমিতে রেখে ফুটবল শেখানোর ঘোষণা দিলেও তা রাখতে পারেননি বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। অথচ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা দলটি গত ডিসেম্বরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই ছিল প্র্যাকটিসে। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেলেছে প্র্যাকটিস ম্যাচ। সুবাদে তাদের অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস সবই বেড়েছে। তার প্রমাণ মিলছে ভুটানে সাফ টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের জালে গোলোৎসবে।

কিন্তু খুব চোখে লাগার ব্যাপার হলো ছেলেদের বয়সভিত্তিক দলগুলোর মেয়েদের মতো দীর্ঘকালীন ট্রেনিংয়ের সুযোগ পায় না। এবার যেমন দুই মাস পাবে, গতবারও ছিল তাই। তাতে ভুটান-শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত জেতা যায়; কিন্তু আটকে যায় নেপাল-ভারতের বিপক্ষে। কারণ তাদের গোড়া শক্ত, ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টে ভারত-নেপাল অনেক বিনিয়োগ করে। এ কাজটা করে না শুধু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তারা পানি ঢালে মাথায় মানে সিনিয়র জাতীয় দলে, যেখানে বেশির ভাগ বিনিয়োগই বিফলে যায়।



মন্তব্য