kalerkantho


কোর্তোয়া ফিরলেন মাদ্রিদে চেলসিতে কোভাচিচ

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



কোর্তোয়া ফিরলেন মাদ্রিদে চেলসিতে কোভাচিচ

থিবো কোর্তোয়া

৯ আগস্ট—ইউরোপের অন্য লিগের দলগুলোর খেলোয়াড় কেনাবেচা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথাই নেই এই দিনে। তাদের সামনে পুরো মাসই পড়ে আছে বলতে গেলে। কিন্তু কাল প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর দলবদলে পুরো ঝাঁপিয়ে পড়তে মাসখানেকও যে সময় পায়নি তারা। গত মৌসুমেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, এবার লিগ শুরুর আগেই খেলোয়াড় কেনাবেচার এই জানালা তারা বন্ধ করে দেবে।

তাতে আজ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ও লিস্টার সিটির ম্যাচ দিয়ে যখন ২০১৮-১৯ প্রিমিয়ার লিগের বোধন হচ্ছে, তার মানেই আগামী জানুয়ারির আগে আর দলগুলো তাদের শক্তি বাড়াতে পারবে না। শেষ দিনে ম্যানইউকে নিয়েই বেশি আলোচনা। সেই জুলাইয়ে ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ফ্রেদকে দলে ভেড়ানোর পর দলবদলে আর যে তেমন তৎপরতাই নেই হোসে মরিনহোর দলের। তৎপরতা একেবারে নেই বললে ভুল হবে, অনেককেই তারা কিনতে চেয়েছে; কিন্তু কাল শেষ দিনেও সেই খেলোয়াড়দের পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা মৌসুমে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলে নিয়েছে। দিনের শুরুতেই মরিনহো হতাশামাখা মন্তব্য করেছেন, ‘মনে হয় না কাউকে আমরা নিতে পারব।’ সেন্টারব্যাকের জন্যই মূলত ঝাঁপাচ্ছিল রেড ডেভিল। বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম করা হ্যারি ম্যাগুয়ারকে পেতে চেয়ে লিস্টার সিটির কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। টটেনহাম হটস্পারের টবি অল্ডারভিয়েরেল্ড দল ছাড়তে চাইলেও পুরো হিসাব মেলাতে পারেনি মরিনহোর ক্লাব। মাঝখানে বার্সেলোনার ইয়েরি মিনাকে চেয়েও ফিরে এসেছে, কেভিন প্রিন্স বোয়েটেং, ডিয়েগো গোদিনও ছিল তাদের তালিকায়।

ইটালিয়ান কোচ মওরিসিও সারিকে নতুন কোচ করা চেলসি এদিক দিয়ে শেষ মুহূর্তে বাজার গরম করেছে অ্যাথলেতিক বিলবাও থেকে রেকর্ড ৮০ মিলিয়ন ইউরোতে গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগাকে ভিড়িয়ে। থিবো কোর্তোয়াকে তারা রাখতে পারেনি। বিশ্বকাপ শেষে ক্লাবেই ফেরেননি রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়া ইচ্ছার কথা খোলাখুলি জানিয়ে রাখা এই গোলরক্ষক। কাল বার্নাব্যুতে তাঁর ছয় বছরের চুক্তি সইও হয়ে গেছে। জেংক থেকে ২০১১ সালে এই গোলরক্ষককে কিনেছিল চেলসি। পরিণত হতে তাঁকে ধারে পাঠায় অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে। স্পেনের রাজধানী শহরের সেই তিন বছরেই বাধা পড়ে গেছেন এই বেলজিয়ান। আবার তিনি মাদ্রিদে ফিরবেন বলে অনেক দিন ধরেই যে আলোচনাটা চলে আসছিল, অবশেষে তা একটা পরিণতি পেল। ৩৯ মিলিয়ন ইউরোতে রিয়ালে যোগ দিয়ে বলেছেন, ‘আমার শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হলো। রিয়ালই দুনিয়ার সেরা ক্লাব। আমি একজন মাদ্রিদিস্তা। এই জার্সির জন্য সর্বস্বটা দিয়ে লড়ব।’ রিয়াল এই চুক্তির অংশ হিসেবেই মাতেও কোভাচিচকে ধারে ছেড়েছে চেলসির কাছে। এই ক্রোয়েশিয়ান ইন্টার মিলান থেকে তিন বছর হলো রিয়ালে যোগ দিয়েছেন। লস ব্লাংকোদের টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়েরই সঙ্গী তিনি। তাতে আসলে পুরো সত্যটা প্রকাশ পায়নি। কোভাচিচ রিয়াল ক্যারিয়ারে পুরো সময়ই কাটিয়েছেন ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে। বিশ্বকাপ জিতে ফেরার পর আর এভাবে তিনি থাকতে চান না, জোর দিয়েই জানিয়ে দিয়েছিলেন ক্লাব কর্তৃপক্ষকে। ইউলেন লোপেতেগুই না চাইলেও তাঁকে তাই ছাড়তেই হলো। চেলসিতে যোগ দিয়ে ক্রোয়াট মিডফিল্ডার উচ্ছ্বাস গোপন করেননি, ‘অসাধারণ লাগছে আমার। চেলসিতে আসার পেছনে অনেক কারণ ছিল—এই ক্লাব, তাদের সাফল্য, এই শহর এবং প্রিমিয়ার লিগ।’ চেলসি পরিচালক মারিনা গ্রানোভস্কায়া ম্যাচে হুগি মাতেচারেদর বিশ্বাস, প্রিমিয়ার লিগে দারুণ মানিয়ে নেবেন এই ক্রোয়াট মিডফিল্ডার।

কোভাচিচকে চেয়েছিল ম্যানইউও। কিন্তু মরিনহোকে বিব্রত করে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন পর্তুগিজ এই কোচের খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন না। মার্কা, বিবিসি

 



মন্তব্য