kalerkantho



স্বপ্নহীন সাফে আয়োজনই মুখ্য

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



স্বপ্নহীন সাফে আয়োজনই মুখ্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আর ২৪ দিন বাদেই ঢাকায় শুরু হবে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। আয়োজক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, যারা দেশের ফুটবলের চরম অধোগতির সময়ে নিজেদের মাঠে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করার ঝুঁকি নিয়েছে। ঝুঁকি হলো বাংলাদেশের ফুটবল মান, স্বাগতিক ফুটবলারদের পারফরম্যান্সেই তো আলোড়িত হয় টুর্নামেন্ট। সেই প্রত্যাশাকে লঘু করে সাফ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী জোর দিচ্ছেন সুষ্ঠু আয়োজনের ওপর, ‘আমাদের দলের কাছে তো মানুষের প্রত্যাশা থাকবেই। সেটা যেমনই হোক, আমরা চাই একটা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট উপহার দিতে। আয়োজক হিসেবে এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ গত তিন সাফে বাংলাদেশ দল বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে। এবারও জাতীয় ফুটবল দলের ওপর ভরসা রাখা কঠিন। তাই আয়োজনই মুখ্য।  

সাফের অয়োজক কমিটি গতকাল প্রথম সভায় বসে দেখেছে প্রায় সব কাজই বাকি। সাত দলের জন্য হোটেলও ঠিক হয়নি এখনো। ঠিক হয়নি মাঠ এবং ফ্লাড লাইট। ‘টুর্নামেন্ট আয়োজনের অনেক কাজ এখনো বাকি। হোটেল একবার বুকিং দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান থাকায় সেটা বাতিল হয়ে গেছে, এখন নতুন হোটেল দেখা হচ্ছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সাড়ে ছয় লাখ ডলারের মধ্যেই এই টুর্নামেন্ট শেষ করার। এ জন্য খরচের বিভিন্ন খাতে আমাদের নজরদারি করতে হবে’, বলেছেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী। নজরদারি করে খরচ সামাল দেওয়া কঠিন। কারণ দীর্ঘদিনের বদ-অভ্যাসে বাফুফের ভেতরই তৈরি হয়েছে কমিশন বাণিজ্যের চোরাগোপ্তা পকেট। বাফুফে খরচ যা-ই করুক সাফের লক্ষ্য সাড়ে ছয় লাখ ডলারের মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করা। সাফ সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক হেলাল আবার সব খরচের ভার বাফুফেকে দেবেন না, ‘এই টুর্নামেন্টে বড় খরচ হলো দলগুলোর থাকা-খাওয়া। এই খাতে অন্তত তিন লাখ ডলার তো খরচ হবে, সেটা বাফুফেকে দেওয়া হবে। তবে তিন তারকা হোটেলে রেখে পাঁচ তারকার টাকা চাইলেও দিতে পারব না। বাকি অনেক খরচ সাফের তত্ত্বাবধানে সরাসরি হবে।’ আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু এই টুর্নামেন্টের দলগুলোর জন্য সোনারগাঁও হোটেলে বুকিং দেওয়া হয়েছিল প্রথমে। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান পড়ে যাওয়ায় বুকিং বাতিল হয়। বিকল্প হিসেবে ওয়েস্টিন ও পল্টনের একটি হোটেলে দলগুলোকে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। 

খেলার মাঠ এখনো তৈরি হয়নি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ অসমতল, এখানে যে ভালো ফুটবল খেলা যায় না সেটা বলে গেছে এএফসি কাপের বিদেশি দলগুলোও। ড্রেসিং রুমের অবস্থা ভালো নয়, আর ফ্লাড লাইটে নেই পর্যাপ্ত আলো। ‘ফ্লাড লাইটে এখন আছে ৭৩২ লাক্স, আমরা চেয়েছি ১২০০ লাক্স। ড্রেসিং রুমের সংস্কার করে দেবে বলেছে বাফুফে। আগামী ২০ তারিখের মধ্যে হোটেল, মাঠ, ড্রেসিং রুম, ফ্লাড লাইট ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে বাফুফেকে। নইলে কঠিন হয়ে যাবে’, বলেছেন সাফ সেক্রেটারি।



মন্তব্য