kalerkantho


সন্তুষ্ট রোডস উচ্ছ্বাসে ভাসতে চান না

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



সন্তুষ্ট রোডস উচ্ছ্বাসে ভাসতে চান না

ছবি : মীর ফরিদ

গতকাল সকালে ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে ভেসে গেলেনও, ‘টেস্ট সিরিজটি কঠিন ছিল। আমাদের বেশ ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে ছেলেরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে আমি সত্যিই ভীষণ গর্বিত। ওয়ানডে সিরিজ জেতার আশা আমাদের আগে থেকেই ছিল। সেই আশা পূরণ করতে পারাও ছিল দারুণ ব্যাপার। তবে বলতেই হচ্ছে যে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি এসেছে বিস্ময় হয়েই।’

 

 

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচের প্রথম সকালটি তাঁর জন্য রীতিমতো বিভীষিকাময়ই ছিল। অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম সেশনেই সাকিব আল হাসানের দলের ৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়াটা স্টিভ রোডসকে ভয় পাইয়ে দিয়ে থাকলেও সেটিই স্বাভাবিক ছিল বলে মনে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান। গতকাল সকালে দল দেশে ফেরার পর বিকেলেই স্থানীয় এক পাঁচতারা হোটেলে কোচের সঙ্গে বৈঠক করে সে কথাই শোনালেন তিনি, ‘নতুন কোচ যাওয়ার পরই যদি ও রকম একটা টেস্ট ম্যাচ হয়, ভয় পাওয়ারই কথা।’

প্রথম সকালেই ভীতিকর অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া শিষ্যরাই অবশ্য সেই ভয় জয় করে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে গর্বিত হওয়ার মতো অনুভবও দিয়েছেন দলের ইংলিশ কোচকে। টেস্ট সিরিজ যেভাবে গিয়েছে, তাতে অন্তত সফর শেষে দুটি ট্রফি নিয়ে ফেরার আশা করার উপায় ছিল না। সেই সঙ্গে টি-টোয়েন্টির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ফরম্যাটের সিরিজ জয় তো ছিল দূরতম কল্পনাই। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজের পর সেটিও পকেটে পুরে ফিরতে পারাটা অভাবনীয়ই। ব্যর্থতা দিয়ে শুরু সফর তাই শেষ হয়েছে সাফল্যের রংচংয়ে মোড়ক পরেই। রোডসের তাই উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ারই কথা। গতকাল সকালে ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে ভেসে গেলেনও, ‘টেস্ট সিরিজটি কঠিন ছিল। আমাদের বেশ ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে ছেলেরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে আমি সত্যিই ভীষণ গর্বিত। ওয়ানডে সিরিজ জেতার আশা আমাদের আগে থেকেই ছিল। সেই আশা পূরণ করতে পারাও ছিল দারুণ ব্যাপার। তবে বলতেই হচ্ছে যে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি এসেছে বিস্ময় হয়েই। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ম্যাচে আমরা অসাধারণ খেলেছি। বিশেষ শেষ ম্যাচে যে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে লিটন, তাতে আমি ওর ওপর ভীষণ খুশি। আর দু-দুটি ট্রফি নিয়ে ফিরতে পেরে আনন্দিত আমি নিজেও।’

দুটি ট্রফি জয়ের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাটে দুই অধিনায়কও বড় ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করেন রোডস। সেই সঙ্গে নিজ দলের বোলারদের প্রশংসায়ও হয়েছেন পঞ্চমুখ, ‘ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে দুই অধিনায়কই বোলারদের ব্যবহার করেছে দারুণভাবে। দারুণ কিছু স্পিনারও আছে আমাদের। সেই সঙ্গে আমাদের পেস বোলিংও ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।’ সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পেসাররা কার্যকারিতা দেখালেও একই বিভাগে টেস্ট ম্যাচে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অদূর ভবিষ্যতে সেটিও বদলানোর তাগিদ অনুভব করছেন রোডস। সে জন্য নির্ধারণ করেছেন করণীয়ও, ‘এখন টেস্ট ম্যাচের জন্য কিছু দ্রুতগতির লম্বা পেসার খুঁজে বের করতে হবে আমাদের।’ সে চাহিদার কথা কাল বিসিবি সভাপতিকেও বলেছেন রোডস। তবে আপাতত যে চাহিদা অনুযায়ী জোগান পাওয়া যাবে না, তাও নাজমুলের মুখ থেকে শুনেছেন রোডস, ‘তিনি টেস্ট ম্যাচের জন্য দ্রুতগতির লম্বা বোলার চান। কিন্তু আমাদের তো ও রকম নেই। রাহি (আবু জায়েদ) ও রনির (আবু হায়দার) সঙ্গে আরো তিনটি নাম আমরা বলেছি যে দিতে পারব। তবে ওরা যে খুব জোরে বল করে, তা নয়। এটাই বাস্তবতা।’

বাস্তবতা এটিও যে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও টেস্টে ক্যারিবীয়দের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। সে কথাও ভুলে যাচ্ছেন না ইংলিশ হেড কোচ। তবে তিনি অ্যান্টিগার বিপর্যয়ের পেছনে টস হারাকেও একটি কারণ বলে মনে করছেন, ‘প্রথম টেস্টে টসটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সিমিং উইকেটে বাউন্স আর সুইংও ছিল। (কেমার) রোচ, (শ্যানন) গ্যাব্রিয়েল ও কামিন্সকে নিয়ে গড়া ক্যারিবীয় পেস আক্রমণ ডিউক বলটা খুব ভালোভাবে ব্যবহারও করেছে। অ্যান্টিগায় বেশির ভাগ দলের ব্যাটিংই ধুঁকত।’ তাই বলে এত খারাপ ব্যাটিংও যে প্রত্যাশিত ছিল না, সেটিও বুঝিয়ে দিতে ভোলেননি রোডস, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ের দৈন্যদশা টেস্টে ফুটে উঠেছে। এই ফরম্যাটের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে হলে আমাদের আরো জমাট হতে হবে। তবে আমাদের দারুণ সব ক্রিকেটার আছে। এখন শুধু দেশের বাইরে খেলতে গেলে কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে আরো দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।’ এবার সেই মানিয়ে নিতে না পারা রোডসের শুরুতে বিভীষিকা উপহার দিলেও দুটি ট্রফি জয়ে তা পুষিয়ে গেছে অনেকটাই। সেটিই আপাতত উপভোগ করতে চান তিনি, ‘আমরা উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে চাই না। তবে সন্তুষ্ট তো অবশ্যই। ওয়ানডে সিরিজটা তো আমরা জিততে পারতাম ৩-০-তেও।’



মন্তব্য