kalerkantho


দেশমের সেরা গ্রিয়েজমান

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



দেশমের সেরা গ্রিয়েজমান

নিজ শহরে : বিশ্বকাপ জয়ের পর গতকাল নিজের শহর ম্যাকনে ফিরেছেন গ্রিয়েজমান। সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী, ফুটফুটে মেয়ে মিয়া আর মা-বাবা। উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে এসেছিলেন স্থানীয় দুই হাজারের বেশি মানুষ। ‘ধন্যবাদ গ্রিয়েজমান, ধন্যবাদ ফ্রান্স’ লেখা একটা ব্যানার টাঙানো ছিল গ্রিয়েজমানের বাড়িতে। গোলের পর নিজের বিখ্যাত উদ্‌যাপন ভঙ্গিটা বাড়ির ব্যালকনিতে করলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সবাই। ছবি : এএফপি

লিওনেল মেসি নয়তো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। গত এক দশকে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এ দুজনই। মেসি, রোনালদো দুজনেরই ব্যালন ডি’অর সমান পাঁচটি করে। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী কোচ দিদিয়ের দেশমের বিশ্বাস, এবার রাজত্ব হারাতে চলেছেন সময়ের সেরা দুই ফুটবলার। দেশমের মতে বছরটা বিশ্বকাপের বলে শিরোপাজয়ী দলের কারো এটা পাওয়া উচিত। হতে পরে সেটা আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান, রফায়েল ভারানে, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা পল পগবার যে কেউ। তবে ‘লেকিপ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রিয়েজমানকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন দেশম, ‘ব্যালন ডি’অরের যোগ্য দাবিদার গ্রিয়েজমান। মেসি, রোনালদো এক দশক ধরে জিতছে এটা। ব্যক্তিগত স্বীকৃতির জন্য পুরস্কারটা দারুণ। আমার মতে এবার গ্রিয়েজমানেরই এটা জেতা উচিত।’

গত ইউরোয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন গ্রিয়েজমান। ফ্রান্সকে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। তার পরও ২০১৬ সালে জেতা হয়নি ব্যালন ডি’অর, হয়েছিলেন তৃতীয়। এবার এমন হতাশ হতে হবে না বলে বিশ্বাস দেশমের। কারণ ফ্রান্স জিতেছে বিশ্বকাপ। চারটি গোল করে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়কও গ্রিয়েজমান। বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্রিয়েজমানের ফ্রি কিক থেকেই ফ্রান্স এগিয়ে যায় মারিও মান্দজুকিচের আত্মঘাতী গোলে। ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরালে এরপর তাঁর পেনাল্টিতে এগিয়ে যায় আবারও। এ জন্যই দেশমের বাজি গ্রিয়েজমান। কোনো কারণে তিনি না পারলে ভারানে, পগবা বা এমবাপ্পেদের যে কারো হাতে ট্রফিটা দেখতে চান দেশম, ‘এটা বিশ্বকাপের বছর। এ বছরে বিশ্বজয়ী দলের যে কারো এটা পাওয়া উচিত। গ্রিয়েজমান অবশ্যই এগিয়ে। আমি মনে করি ভারানে, এমবাপ্পে বা পগবাদের যে কেউ পেতে পারে এটা। ভারানে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে। বিশ্বকাপও জিতেছে। এমবাপ্পে পিএসজিতে দারুণ এক মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে চিনিয়েছে নিজেকে। পগবাও বিশ্বকাপে ছিল অসাধারণ।’

এদিকে বিশ্বকাপ জয়ের পর গতকাল নিজের শহর ম্যাকনে ফিরেছেন গ্রিয়েজমান। সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী, ফুটফুটে মেয়ে মিয়া আর মা-বাবা। উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে এসেছিলেন স্থানীয় দুই হাজারের বেশি মানুষ। ‘ধন্যবাদ গ্রিয়েজমান, ধন্যবাদ ফ্রান্স’ লেখা একটা ব্যানার টাঙানো ছিল গ্রিয়েজমানের বাড়িতে। গোলের পর নিজের বিখ্যাত উদ্‌যাপন ভঙ্গিটা বাড়ির ব্যালকনিতে করলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সবাই। মাইক হাতে বলছিলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। সবাইকে ধন্যবাদ। ভালো খেলার প্রেরণা পাই আপনাদের জন্যই।’

গ্রিয়েজমানও মুখোমুখি হয়েছিলেন ‘লেকিপ’-এর। ইউরোপার ফাইনালে জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপ মাতানোয় ব্যালন ডি’অর জিততে চান কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিলেন এভাবে, ‘আমি সব সময় বিশ্বকাপ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চেয়েছি। চ্যাম্পিয়নস লিগে পারিনি, তবে জিতেছি বিশ্বকাপ। এরপর যদি ব্যালন ডি’অর আসে তাহলে ভালো। না এলেও ক্ষতি নেই। কারণ নিজেকে দলের একজন হিসেবে দেখতে চাই আর বেশি করে চাই জাতীয় দল বা ক্লাবের হয়ে কিছু জিততে। যেমন ধরুন ইউরোতে চেয়েছিলাম সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে। কিন্তু এর বদলে যদি ইউরো জিততাম তাহলে খুশি হতাম আরো বেশি।’ লেকিপ



মন্তব্য