kalerkantho


রাজার দাপট মহারাজের

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



রাজার দাপট মহারাজের

পিচ দেখেই রঙ্গনা হেরাথ বলেছিলেন, ‘স্পিনারদের উদ্যান’। সেই উদ্যানে ফুল ফোটালেন কেশব মহারাজ। কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে নিলেন ৮ উইকেট। কেশব মহারাজের তো বটেই, শ্রীলঙ্কার মাটিতে কোনো সফরকারী স্পিনার পাননি এত বেশি উইকেট। তাঁর দাপটে কলম্বো টেস্টের প্রথম দিন ৯ উইকেটে ২৭৭ রানে শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম টেস্ট হারায় সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ এখন দক্ষিণ আফ্রিকার।

দিনের শুরুটা ছিল শ্রীলঙ্কার। দুই ওপেনার দানুশকা গুনাথিকালা ও দিমুথ করুণারত্নে গড়েন ১১৬ রানের জুটি। দুই বছর পর উদ্বোধনী জুটিতে এটাই প্রথম সেঞ্চুরি ছাড়ানো ইনিংস লঙ্কানদের। বড় সংগ্রহের ভিতই গড়ে দিয়েছিলেন দুজন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর বদলে যায় ছবিটা। কেশব মহারাজের ঘূর্ণিতে দিশাহারা শ্রীলঙ্কা। শুরুটা করেন করুণারত্নেকে উইকেটের পেছনে কুইন্টন ডি ককের ক্যাচ বানিয়ে। ৫৩ রান করেছিলেন তিনি। অন্য ওপেনার গুনাথিকালা রাবাদাকে ক্যাচ দেন ৫৭ করে। দুই ওপেনার ফেরার পর থেকেই যাওয়া-আসার মিছিল। কিছুটা দৃঢ়তা দেখান ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। দুই ওপেনার ছাড়া ফিফটি করেন শুধু তিনিই। একটা প্রান্ত আগলে রেখে ৮ বাউন্ডারিতে খেলেন সর্বোচ্চ ৬০ রানের ইনিংস। তিনিও এলবিডাব্লিউ কেশবের বলে।

রোশেন সিলভা ছাড়া শ্রীলঙ্কার বাকি ৮ উইকেটই কেশব মহারাজের। তাঁর ১১৬ রানে ৮ উইকেট শ্রীলঙ্কার মাটিতে সফরকারী কোনো স্পিনারের সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে গল টেস্টে পাকিস্তানি স্পিনার ইয়াসির শাহর ৭৬ রানে ৭ উইকেট ছিল এত দিনের সেরা। টেস্টে প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কেশবের এই পারফরম্যান্সও সেরা। ২০১১ সালে মার্চেন্ট ডি লেঙ্গের ৮১ রানে ৭ উইকেট ছিল এত দিনের রেকর্ড। ১৯৫৭ সালে হিউ টেফিল্ডের ১১৩ রানে ৯ উইকেট প্রোটিয়াদের সেরা। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে কেশবের ১১৬ রানে ৮ উইকেট তৃতীয় সেরা প্রোটিয়া বোলারদের। ১৯৯৬ সালে ভারতের বিপক্ষে ৬৪ রানে ৮ উইকেট তাদের সেরা। ১৯৯৫ সালে অ্যালান ডোনাল্ড জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭১ রানে নেন ৮ উইকেট। অথচ টেস্টটা প্রোটিয়ারা খেলছে মাত্র একজন স্পিনার নিয়ে। শ্রীলঙ্কার সেখানে তিন স্পিনার। একজনে কাজ হলে তিনজনের দরকারটা কী?

গলে প্রথম টেস্ট জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। এএফপি



মন্তব্য