kalerkantho



উদ্বোধনী জুটিতে বিশ্বরেকর্ড

ফখর জামানের ডাবল সেঞ্চুরি

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ফখর জামানের ডাবল সেঞ্চুরি

ব্যাটিং, ব্যাটিং আর ব্যাটিং! ফখর জামান ও ইমাম-উল-হক মনের আনন্দে ব্যাট করছিলেন বুলাওয়েতে। জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে করে বসলেন বিশ্বরেকর্ডও। পাকিস্তানি দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে গড়েন ৩০৪ রানের জুটি। ওয়ানডে ইতিহাসে দুই ওপেনার ৩০০ করতে পারেনি আর কখনো। ফখর-ইমামের ইতিহাস গড়া জুটিতে রেকর্ডের পাতাগুলো ওলটপালট হয়েছে অনেক। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান থামে ১ উইকেটে ৩৯৯ রানে। ওয়ানডেতে এটা নিজেদের সর্বোচ্চ ইনিংস তাদের। প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তিও গড়েছেন ফখর জামান। ইতিহাস গড়া ম্যাচটি পাকিস্তান জিতেছে ২৪৪ রানে। জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে যায় ১৫৫-তে। এটা পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম তিনটি সহজে জিতেছে সরফরাজ আহমেদের দল। সর্বশেষ তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে অল আউট করেছিল ৬৭ রানে। গতকাল চতুর্থ ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা করতে চাইলেন সরফরাজ। ফখর ও ইমাম সেই সুযোগ দিলেন কোথায়? দুজন মিলে ব্যাট করলেন ৪২তম ওভার পর্যন্ত। তাতে পেছনে পড়েছে একের পর এক কীর্তি। প্রথমে পেছনে পড়ে ওয়ানডেতে যেকোনো উইকেট জুটিতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ২৬৩ রানের রেকর্ড। শারজায় ১৯৯৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে আমির সোহেলের সঙ্গে সেই জুটি গড়েছিলেন ইনজামাম-উল-হক। ইনজির ভাতিজা সেটা পেছনে ফেললেন ফখরকে সঙ্গে নিয়ে। এরপর পেছনে পড়ে ওয়ানডে ইতিহাসে আগের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটির ২৮৬ রানের রেকর্ড। শ্রীলঙ্কার উপুল থারাঙ্গা ও সনৎ জয়াসুরিয়া ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিডসে গড়েছিলেন এই রেকর্ড।

১২২ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ১১৩ রান করে ইমাম উল হক ফেরেন ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে। ভাঙে ফখর জামানের সঙ্গে ৩০৪ রানের জুটি। উদ্বোধনী উইকেটে না হলেও ওয়ানডে ইতিহাসে ৩০০ ছাড়ানো জুটি আছে আরো তিনটি। ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলস গড়েছিলেন ৩৭২ রানের জুটি। এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩১ রানের কীর্তি শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিড়ের। একই বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে শচীন টেন্ডুলকারের ৩১৮ তৃতীয় সর্বোচ্চ।

ইমাম আউট হয়ে গেলেও ফখর জামান প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে ওয়ানডেতে পা রাখেন ২০০ রানের মাইলফলকে। এর আগে সাঈদ আনোয়ারের ১৯৪ ছিল পাকিস্তানিদের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৯৯৭ সালে ভারতের বিপক্ষে তাঁর ইনিংসটি ওয়ানডেরই সর্বোচ্চ ছিল বহুদিন। ফখর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১৫৬ বলে ২৪ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় ২১০ রানে। ওয়ানডেতে এটি পঞ্চম ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ৫০ ওভারে ১ উইকেটে ৩৯৯ রানে থামে পাকিস্তান। আসিফ আলীর ২২ বলে ৫ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় হার না মানা ৫০ রানের ইনিংসটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান তাতে। এটা পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১০ সালে করা ৩৮৫ ছিল এত দিনের সেরা। ১ উইকেট হারিয়ে ৩৯৯ রান করতে পারেনি আর কোনো দল। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ১ উইকেটে ৩৬২ ছিল আগের রেকর্ড। ক্রিকইনফো



মন্তব্য