kalerkantho



তাতিয়ে দিয়েছিলেন পগবা দেশম

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



তাতিয়ে দিয়েছিলেন পগবা দেশম

ফাইনালের আগে ও প্রথমার্ধ শেষে, লুঝনিকির ড্রেসিংরুমে কী বলে দলকে তাতিয়েছিলেন পল পগবা আর দিদিয়ের দেশম, তার সবই ‘ফ্রেম বাই ফ্রেম’ তোলা আছে। পগবা উসকে দিয়েছিলেন নিজেদের মাঠে ইউরো ২০১৬-র হারের ক্ষততে খোঁচা দিয়ে, আর দেশম শুনিয়েছিলেন সাবধানবাণী।

 

 

ড্রেসিংরুমের গল্প বেরিয়ে আসছে একে একে। এই একুশ শতকে কোনো গল্পই আর মৌখিক বয়ান নয়, চলচ্চিত্র! মস্কোয় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের আগে ও প্রথমার্ধ শেষে, লুঝনিকির ড্রেসিংরুমে কী বলে দলকে তাতিয়েছিলেন পল পগবা আর দিদিয়ের দেশম, তার সবই ‘ফ্রেম বাই ফ্রেম’ তোলা আছে। পগবা উসকে দিয়েছিলেন নিজেদের মাঠে ইউরো ২০১৬-র হারের ক্ষততে খোঁচা দিয়ে, আর দেশম শুনিয়েছিলেন সাবধানবাণী।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা পগবা ম্যাচ শুরুর আগে দারুণ কিছু শব্দে উদ্দীপ্ত করেছিলেন সতীর্থদের। পগবা বলেছিলেন, ‘বন্ধুরা, আমার বেশি কিছু বলার নেই। আমরা সবাই জানি আমরা কেন এখানে দাঁড়িয়ে; আমরা সবাই জানি আমরা কী চাই। আমরা সবাই জানি কতটা পথ পাড়ি দিয়ে তবেই এখানে আমরা এসেছি।’ ড্রেসিংরুমের মাঝের টেবিলটা ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়ানো সব ফুটবলারের উদ্দেশে পগবা শুনিয়েছিলেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়া থেকে মাত্র ৯০ মিনিট দূরে আছি। ৯০ মিনিট, একটা মাত্র ম্যাচ। আমি জানি না আমরা কে কতটা ম্যাচ খেলেছি জীবনে, তবে এটা বলতে পারি যে এই একটা ম্যাচ আমাদের জীবনকে বদলে দেবে। সব ইতিহাস পাল্টে দেবে।’ ইউরোর ফাইনালে নিজের দেশের দর্শকদের সামনে পর্তুগালের কাছে হেরে যাওয়ার স্মৃতি উসকে দিয়ে পগবা বলেছিলেন, ‘দুটি দল, একটা ট্রফি। আমরা যা ভাবছি, ওরাও তা-ই ভাবছে। আমরা একটা ফাইনাল হেরেছিলাম, অন্তর থেকে জানি সেই অনুভূতিটা কেমন। সেই অনুভূতি এখনো আমাদের মাথায় রয়ে গেছে। আজও অন্য একটা দলকে আমাদের যা প্রাপ্য সেটা ছিনিয়ে নিতে দেব না।’ ইতিহাসে অমর হয়ে থাকার হাতছানি শুনিয়ে পগবা বলেছিলেন, ‘আজকেই আমাদের সুযোগ গোটা ফ্রান্সের মানুষের স্মৃতিতে অমর হয়ে যাওয়ার। তারা হয়তো তাদের নাতি-নাতনিদেরও শোনাবে আমাদের গল্প। তারা চায় আমরা যেন যোদ্ধা হিসেবে মাঠে নামি, লড়াকু সৈনিক হিসেবে পাশে থাকি।’

পগবার শব্দজাদুতেই হোক আর ভাগ্যের খেলায়ই হোক, প্রথমার্ধেই আত্মঘাতী গোল ও পেনাল্টি থেকে দুটি গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসিরা। তবু পরের ৪৫ মিনিটে যেন গাছাড়া ভাব না দেখায় ছেলেরা, সেটাই শুনিয়েছিলেন ১৯৯৮-র বিশ্বকাপজয়ী দেশম, ‘তোমরা দেখেছ ওরা কিভাবে কনুই চালাচ্ছে। ওরা খেলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, এখন ওরা আমাদের আঘাত করবে। কোনোভাবেই বিরক্ত হয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না।’ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা মারিও মান্দজুকিচকে নিয়েও সাবধান থাকতে বলেছিলেন দেশম, ‘সে এখনো ওর মাথা দিয়ে ম্যাচটা জিতিয়ে দিতে পারে। তার আশপাশে সতর্ক থাকতে হবে। থেমে থাকলে চলবে না, সব সময় নড়াচড়ার মধ্যে থাকবে। তাকে ঘেরাও করে রাখতে হবে। শিরোপার কথাটা ভাবো।’ নিজেদের খেলার স্বাভাবিক ছন্দটা ধরে রাখতে বলেছিলেন দেশম, ‘নিজেরাই নিজের কাজটা কঠিন করে ফেলো না। তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেই, আক্রমণাত্মক হবেই। দেখতেই পাচ্ছ ওরা কেমন জান লড়িয়ে দিচ্ছে। সহজভাবে খেলো। যখন তোমাদের কাছে বল থাকবে, যাকে ফাঁকা পাবে তাকে পাস দেবে। একজনের জায়গা আরেকজন নেবে। দ্রুত পাস দেবে, বলটা এমবাপ্পেকে দেবে।’

তেজোদ্দীপ্ত ভাষণে উদ্বুদ্ধ করা পগবা নিজেই গোল করে ক্রোয়েশিয়ার ফেরার স্বপ্ন ভেঙেছেন। ফলেছে দেশমের কথা, চতুর শিয়ালের মতোই গোল করেছেন মান্দজুকিচ আর এমবাপ্পেকে বল দেওয়ার উপদেশটা মেনেছেন দেশমের শিষ্যরা। সব মিলেই তো সম্ভব হলো রুশদেশে ফরাসি বিপ্লব! মার্কা, মেইল



মন্তব্য