kalerkantho


গর্বের সঙ্গে আক্ষেপ মিশে মডরিচের

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



গর্বের সঙ্গে আক্ষেপ মিশে মডরিচের

কিলিয়ান এমবাপ্পে, আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান নাকি লুকা মডরিচ, কে জিতবেন গোল্ডেন বল? শিরোপা না জিতলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ক্রোয়েশিয়ান অধিনায়কের। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ, যাতে ছিলেন কার্লোস আলবার্তো পাহেইরা, মার্কো ফন বাস্তেনের মতো সাবেক তারকা ও কোচ—টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে জানালেন এবারের সেরা খেলোয়াড়ের নাম। লুকা মডরিচকেই বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

গত বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। ক্রোয়েশিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দেওয়া মডরিচের কৃতিত্বটা তাঁর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। গোল করে, করিয়ে আর নেতৃত্ব দিয়ে ছোট্ট এই দেশকে এত দূর আনার নেপথ্যে তিনিই। ফাইনালে ভালো খেলেও হারায় হতাশ স্বাভাবিকভাবে। তবে গোল্ডেন বল জিতে গর্বিতও, ‘এ জন্য গর্বিত আমি। সব সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, ওদের সাহায্য ছাড়া এটা সম্ভব ছিল না। বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম আমরা। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে জিততে চেয়েছিলাম বিশ্বকাপ। কিন্তু সেরা দল সব সময় শিরোপা জিতে না।’

বিরতির আগে দাপট ছিল ক্রোয়েশিয়ার। ছন্দপতন ১৮তম মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের ফ্রিকিক মারিও মান্দজুকিচের মাথায় লেগে জড়িয়ে যায় জালে। ইভান পেরিসিচের গোলে সমতা ফিরিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ডি-বক্সে সেই পেরিসিচের হাতে বল লাগায় ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। গ্রিয়েজমানের এই গোলের পর আর পেরে ওঠেনি ক্রোয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত হেরেছে ২-৪ গোলে। রেফারির এমন সিদ্ধান্তে সমালোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে। মডরিচও মানতে পারছেন না পেনাল্টি আর ফাউলের সিদ্ধান্ত, ‘পেনাল্টিটা দেওয়ার পর অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আর যে ফাউলের কারণে ফ্রান্স ফ্রিকিক থেকে গোল পেল সেটাও ফাউল ছিল না। আমরা ভালো খেলেছি আর তাদের একটা পেনাল্টি দিয়েছি। খুব কষ্টের এটা।’

১-৪ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর মারিও মান্দজুকিচ এক গোল ফেরান গোলরক্ষক হুগো লরির ভুলে। এরপর ফরাসি জমাট রক্ষণে আর ফাটল ধরাতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। এর পরও গর্বিত মডরিচ, ‘ফিরে আসা সব সময় সহজ নয়। আমরা চেষ্টা করে গেছি। যেভাবে খেলেছি তাতে গর্ব হওয়া উচিত। দলের সবাই মনে করে ওদের চেয়ে ফাইনালে ভালো দল ছিলাম। কিন্তু ভালো দল সব সময় জেতে না। বীরের মতো লড়াই করেও হারতে হয়েছে দুর্ভাগ্যে। এ জন্যই গোল্ডেন বলের স্বাদটা তেতো আমার কাছে। এর চেয়ে অবশ্যই বিশ্বকাপটা জিততে চেয়েছিলাম বেশি করে।’ সতীর্থ ইভান রাকিটিচও মানতে পারছেন না রেফারির এমন সিদ্ধান্ত। তবে মডরিচকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঠিকই। ফাইনাল শেষে একে অপরের সঙ্গে জার্সিও বদল করেছেন দুজন।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো। নাইকির স্পন্সর করা সবশেষ খেলোয়াড় হিসেবে কীর্তিটা এই ব্রাজিলিয়ানের। এরপর হওয়া সব বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অ্যাডিডাসের স্পন্সর করা তারকার। ২০ বছর পর মডরিচ আবার ফিরিয়ে নিয়ে এলেন নাইকির রাজত্ব। এএফপি



মন্তব্য