kalerkantho



পেলের সঙ্গে তুলনা চান না এমবাপ্পে

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



পেলের সঙ্গে তুলনা চান না এমবাপ্পে

বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন মাত্র তিন টিনএজার। তিনবারই চ্যাম্পিয়ন তাঁদের দল! ১৯৫৮ বিশ্বকাপে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেন পেলে। ১৯৮২ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিলেন ইতালির ১৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার জিওসেপ্পে বারগোমি। পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ইতালি। এবার ফ্রান্সের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ে চার গোল করে অন্যতম অবদান এমবাপ্পেরও। ’৫৮-র ফাইনালে জোড়া গোল ছিল ১৭ বছর বয়সী পেলের। ৬০ বছর পর দ্বিতীয় টিনএজার হিসেবে এমবাপ্পেও গোল পেলেন ফাইনালে। তাঁকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি পেলে। সেই সঙ্গে করলেন মজাও, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা মাত্র দ্বিতীয় টিনএজার এমবাপ্পে। এই তালিকায় স্বাগতম। এত দিন পর একজন সঙ্গী পেয়ে ভালো লাগছে। এভাবেই আমার রেকর্ডে ভাগ বসাতে থাকলে তুলে রাখা বুটজোড়ার ধুলো হয়তো ঝাড়তে হবে আমাকে!’

ফরাসি মিডিয়ায় পেলের সঙ্গে তুলনা চলে আসছে এমবাপ্পের। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নক আউট ম্যাচের পর সেটা বেড়েছে আরো। এমবাপ্পের গতিতে বিধ্বস্তই হয়েছিল আর্জেন্টিনা। করেছিলেন দুই গোল। আদায়ও করে নেন একটি পেনাল্টি। পেলের পর দ্বিতীয় টিনএজার হিসেবে বিশ্বকাপে জোড়া গোলের কীর্তি করেছিলেন সেদিন। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘এই ছেলেটা আমাকে মনে করিয়েছে তরুণ বয়সের ক্যানিজিয়াকে।’ কিন্তু এমবাপ্পে নিজেকে পেলে, ক্যানিজিয়া বা নিজের দেশের তরুণ থিয়েরি অঁরির সঙ্গে মেলাচ্ছেন না। থাকতে চান নিজের মতোই, ‘পেলে কিংবদন্তি। তিনি ইতিহাস গড়ে গেছেন। আমার মাত্র ক্যারিয়ার শুরু। সব সময় যেভাবে খেলি শুধু সেটা ধরে রাখারই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জয়ের দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন এমবাপ্পে। লুকা মডরিচ নামের এক যোদ্ধার কাছে পেরে ওঠেননি। তবে  ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা আছে যথেষ্ট। এমবাপ্পে ভাবছে না এ নিয়েও, ‘বিশ্বকাপ জয় আমার পক্ষে থাকবে কিন্তু ব্যালন ডি’অর নিয়ে ভাবছি না এখনই।’ গত বিশ্বকাপের সেরা গোলদাতা হামেস রোদ্রিগেসকে দলে ভিড়িয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এমবাপ্পেকেও ঘিরে জোর গুঞ্জন, রিয়ালে যাচ্ছেন তিনি। তবে নিজেই জানালেন পিএসজি না ছাড়ার কথা, ‘পিএসজিতে থাকছি আমি। তাদের হয়ে এগিয়ে যেতে চাই সাফেল্যর পথে। আমার মাত্র শুরু। ইতিহাস লেখার যথেষ্ট সময় আছে সামনে। আমি কঠোর পরিশ্রম করছি। আন্তর্জাতিক ফুটবল অনেক চাপের। কিন্তু আপনি যদি নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখেন আর পাশে থাকে অসাধারণ সব খেলোয়াড় তাহলে সব সম্ভব।’

ফাইনালে পল পগবার গোলের কারিগর ছিলেন এমবাপ্পে। প্রতিআক্রমণ থেকে বল পেয়ে তাঁর বাড়ানো পাসে হয়েছে ফ্রান্সের তৃতীয় গোল। বিশ্বকাপটা হাতের মুঠোয় চলে আসে তাতে। মুঠো গলে বেরিয়ে না যাওয়াটা নিশ্চিত করেন এমবাপ্পেই। ৬৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেন বুলেট শট। ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া সেই শটে কিছু করার ছিল না ক্রোয়াট গোলরক্ষকের। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসে ফ্রান্স। তাঁকে প্রশংসায় ভাসালেন কোচ দিদিয়ের দেশম। শুভ কামনাও জানালেন ফ্রান্সের হয়ে আরো বিশ্বকাপ জেতার, ‘ওর বয়স মাত্র ১৯ বছর। আমি চাইব আরো বিশ্বকাপ জিতুক ও। ১৯৯৮-এ ওর মতোই বয়স ছিল অঁরি আর ক্রেজেগের। ওদের আরো বিশ্বকাপ জেতা উচিত ছিল কিন্তু পারেনি। আশা করব এমবাপ্পে পারবে।’

এমবাপ্পেকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত সতীর্থ আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানও। তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন বিশ্বকাপে চার গোল করা গ্রিয়েজমান, ‘নতুন খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এই সাফল্যে। এমবাপ্পে এর অন্যতম। এই বয়সে দারুণ পরিণত ও। এমবাপ্পে কোথায় থামবে জানি না আমি।’ এএফপি



মন্তব্য