kalerkantho


লোভরেনদের অগ্নিপরীক্ষা

১৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



লোভরেনদের অগ্নিপরীক্ষা

ফ্রান্সের ডিফেন্ডিংটা খুব চোখে পড়েছে, বিশেষ করে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্স নিয়ে ততটা আলোচনা হয়নি, ফ্রান্সের তুলনায় তেমন তারকাও কেউ নেই তাদের রক্ষণভাগে। ফাইনাল নিশ্চিত করে দেওয়া লোভরেন তাই নিজেই ঘোষণা দেন, ‘আমি বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার।’ লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলার পর বিশ্বকাপেরও ফাইনালে উঠে এমন ঘোষণা দিতেই পারেন এই ক্রোয়াট।

তবে ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্স আসলেই যে দলের বড় শক্তি, তা সাদা চোখে ধরা না পড়লেও তথ্য-উপাত্তে সেই প্রমাণ আছে। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্লিয়ারেন্স তাদের, সবচেয়ে বেশি ট্যাকলও। দানিয়েল সুবাসিচের ১২টি সেভ যোগ করলে সংখ্যাটা ২৭২, এই বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত যা সর্বোচ্চ। গত অক্টোবরে টটেনহামের মাঠে গিয়ে ৪-১-এ হেরেছিল লিভারপুল। ১৫ মিনিটের মধ্যে ২ গোল হজমের পরপরই লোভরেনকে তুলে নিয়েছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। সেই লোভরেন আর এবারের বিশ্বকাপের লোভরেনে কতটা তফাত তা তো বোঝা গেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেই। পুরো ম্যাচে হ্যারি কেইন একবারই মাত্র সুযোগ পেয়েছিলেন। বাকিটা সময় কড়া পাহারার মধ্যেই কাটাতে হয়েছে তাঁকে। লিভারপুলের ডিফেন্সে ভার্জিল ফন ডাইক যোগ হওয়ায় সেন্টার ব্যাক পজিশনে দারুণ জুটি গড়েছেন লোভরেনের সঙ্গে। অলরেডদের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে উঠে আসায়ও তাঁদের বড় ভূমিকা। জাতীয় দলে লোভরেনের জুটি বেসিকতাসে খেলা ভিদার সঙ্গে। এখানেও দারুণ করছেন তাঁরা। দুই উইংব্যাক সিমে ভ্রাসাইকো ও ইভান স্ট্রিনিচ।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই সামর্থ্যের জানান দিয়ে আসছে ক্রোয়েশিয়ার এই রক্ষণভাগ। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারানোয় তাঁদেরও বড় কৃতিত্ব। ফ্রান্সের বিপক্ষেও ৩ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্স মেসি অ্যান্ড কোংকে কোনো সুযোগই দেয়নি। প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়াকেও হারিয়েছে তারা ২-০তে। পুরো গ্রুপ পর্বে একমাত্র গোল হজম করে তারা শেষ ম্যাচে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে। আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় সেই ম্যাচে ডিফেন্সে নিয়মিতদের সবাই-ই আবার ছিলেন বিশ্রামে। গ্রুপ পর্বের এই পারফরম্যান্সের আত্মবিশ্বাসই সঙ্গী করে এগিয়েছে তারা পুরো টুর্নামেন্টে। শেষ ষোলোতে ডেনমার্কের বিপক্ষেও ১ গোলের বেশি হজম করেনি তারা। কোয়ার্টার ফাইনালেই প্রথম একাধিক গোল হজম, সেটা স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে। সেমিফাইনালে আবারও তারা তাদের দৃঢ়তা প্রমাণ করেছে।

জ্লাতকো দালিচ মূল ডিফেন্ডারদের সুরক্ষায় মার্সেলো ব্রোজোভিচকে খেলাচ্ছেন হোল্ডিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়াটদের সবচেয়ে পরিশ্রমী খেলোয়াড় তিনিই। ব্রোজোভিচ থাকায় যেমন ডিফেন্সে নির্ভরতা, তেমনি আক্রমণেও কিছুটা স্বাধীনতা পান মডরিচ ও রাকিটিচরা। ব্যাকলাইন যাঁরা সামলাচ্ছেন তাঁদের থেকে আবার আক্রমণেও সুফল পাচ্ছেন দালিচ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই যেমন পেরিসিচের ম্যাচে সমতা ফেরানো গোলটি ভ্রাসাইকোর ক্রস থেকে। তার আগের ম্যাচে রাশিয়ার বিপক্ষে ভিদা করেছেন গুরুত্বপূর্ণ আরেক গোল। ক্রোয়াট রূপকথা তাই শুধু দুর্ধর্ষ মিডফিল্ডের ওপরই রচিত হচ্ছে না, তাতে ডিফেন্স লাইনের ভূমিকাও অনেক। তবে আজ ফ্রান্সের বিপক্ষেই তাদের আসল পরীক্ষা। ফিফা



মন্তব্য