kalerkantho


মুখোমুখি

‘এল ক্লাসিকো’র যৌথশক্তি

১৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘এল ক্লাসিকো’র যৌথশক্তি

ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠটাকে এক কথায় বলা যায় রোনালদো! এ যুগের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো নন, আদি ও অকৃত্রিম ‘দ্য ফেনোমেনন’। কারণ ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের প্রাণ যে তিন ফুটবলার; লুকা মডরিচ, ইভান রাকিটিচ ও মার্সেলো ব্রোজোভিচ যে তিন ক্লাবে খেলেন, সেই তিন ক্লাবেই যে খেলার অভিজ্ঞতা আছে রোনালদোর! বার্সেলোনার রাকিটিচ, রিয়াল মাদ্রিদের মডরিচ আর ইন্টার মিলানের ব্রোজোভিচ; মূলত এই তিনজনই ক্রোয়াট মধ্যমাঠের তিন ইঞ্জিন।

আক্রমণ ও রক্ষণের সেতু হচ্ছে মাঝমাঠ। গোটা খেলায় মাঝমাঠের দখল যাদের, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফল তাদের অনুকূলেই। তবে এই বিশ্বকাপে অবশ্য ‘বলের দখল’ পরিণত হয়েছে প্রাগৈতিহাসিক কৌশলে। গোটা ম্যাচেই বলের দখল রেখেও গোল করতে না পারার ব্যর্থতায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির  মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হারই যার বড় প্রমাণ। ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের এই ত্রয়ী অবশ্য বলের দখল ধরে রাখার ব্যাপারে খুব একটা মনোযোগী নন, বরং বলটা আক্রমণভাগে পৌঁছে দিতেই তাঁদের বেশির ভাগ তৎপরতা। সেই সঙ্গে আক্রমণে ও রক্ষণে সহায়ক শক্তি হিসেবেও কাজ করছেন মাঝমাঠের ফুটবলাররা।

প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ক্রোয়াটদের বলের দখল ছিল ৫৪ শতাংশ। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেটা ৪২ শতাংশ হলেও ক্রোয়াটরা গোল দিয়েছিল তিনটি, আর আর্জেন্টিনা গোটা ম্যাচে বলার মতো গোলের সুযোগই পায়নি। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে বল দখলের হার ছিল ৫৯ শতাংশ, ডেনমার্কের বিপক্ষে ৫৪ শতাংশ, রাশিয়ার বিপক্ষে ৬২ শতাংশ আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৪ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, বলের দখল খুব বেশি সময় নিজেদের পায়ে রাখার চাইতে দ্রুত আক্রমণে উঠে গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টাই বেশি ক্রোয়াটদের। মডরিচ ছয় ম্যাচে দৌড়েছেন ৬৩ কিলোমিটার, রাকিটিচ ৬২.৮ কিলোমিটার আর ব্রোজোভিচ ৪৮.৪ কিলোমিটার। মডরিচের গোলসংখ্যা ২, অ্যাসিস্ট ১টি আর পাস ৪৪৩টি আর গোলমুখী প্রচেষ্টার সংখ্যা ১০। রাকিটিচের ১টি গোল, গোলমুখী প্রচেষ্টার সংখ্যা ১৪ আর প্রতিপক্ষের বক্সে বাড়ানো বলের সংখ্যা ১১। ব্রোজোভিচেরও গোলমুখী প্রচেষ্টা ৪ বার, ১টি অ্যাসিস্ট, বল রিকভারি ১৯ বার আর ক্লিয়ারেন্স ৫ বার। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, মাঝমাঠটা ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য রাখে ক্রোয়েশিয়া। খটমটে অঙ্কের পরিসংখ্যান না হয় থাক। চোখ ফেরানো যাক বাস্তবতায়। রিয়াল মাদ্রিদ যে টানা তিনবার এবং পাঁচ বছরের ভেতর চারবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল, তাতে প্রতিবারই উয়েফার বর্ষসেরা দলে ছিল মডরিচের নাম। ২০১০ সালের পর উয়েফার বর্ষসেরা মিডফিল্ডারের পুরস্কারটা বন্ধ ছিল বছর সাতেক, ফের চালু হয় ২০১৭ সালে। পুরস্কারটা পেয়েছিলেন মডরিচই। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে যে পুরস্কারটা পেয়েছিলেন জিনেদিন জিদান। আর বার্সেলোনায় মেসি-সুয়ারেসরা কেন বিশ্বকাপে তাঁদের দলের হয়ে ভালো করতে পারছেন না, তার উত্তর হচ্ছে বিশ্বকাপে যে পেছন থেকে রাকিটিচ বলের জোগানটা দেন না!

ব্রোজোভিচের তুলনা করা যায় ইংল্যান্ডের ফ্রাংক ল্যাম্পার্ডের সঙ্গে। পাসিং, রানিং, শুটিং—সব কিছুতেই দক্ষ। বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার ব্রোজোভিচ ইন্টার মিলানে সবশেষ মৌসুমে ৩৩ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল। ডায়নামো জাগরেব থেকে ইন্টার মিলানে আসা ব্রোজোভিচ ইউরো ২০১৬-র বাছাই পর্ব থেকেই রাকিটিচ-মডরিচের সঙ্গে মাঝমাঠের ত্রয়ী হিসেবে খেলছেন। তাই তাঁদের বোঝাপড়াটাও ভালো।

অত কথারই বা কী দরকার? সোজাসুজি শিরোপার হিসাবে গেলেই তো হয়। ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠে আছে পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা, এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝমাঠের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় একসঙ্গে খেলেন ক্রোয়েশিয়ায়। এর চেয়ে ভালো কিছু তো আর হতেই পারে না! ফিফা



মন্তব্য