kalerkantho


ক্রোয়েশিয়ায় একটা ভূকম্পন হবেই

১৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ক্রোয়েশিয়ায় একটা ভূকম্পন হবেই

একজনের মুকুটে বিশ্বজয়ের পালক আছে, অন্যজনের দল এবারই প্রথম উঠে এসেছে ফাইনালে। কাকতালীয়ভাবে দুজনের ফুটবল আনন্দ মিলে আছে ইতিহাসের এক বাঁকে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফ্রান্স জিতেছিল দিদিয়ের দেশমের নেতৃত্বে। সেবারই প্রথম সেমিফাইনালে খেলেছিল ক্রোয়েশিয়া, যে কৃতিত্ব টপকে এবার শিরোপা থেকে এক ম্যাচ দূরে তারা। ক্রোয়াট কোচ জ্লাতকো দালিচ সেই স্বপ্নের কথাই গতকাল বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে। অধিনায়ক এবং কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ের ইচ্ছা তো থাকবেই দেশমের। ফাইনালের দুই কোচের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন নোমান মোহাম্মদ

 

প্রশ্ন : ক্রোয়েশিয়া কাল জিতলে যে আনন্দের ভূকম্পন হবে, এ নিয়ে আপনি কী ভাবছেন?

জ্লাতকো দালিচ : এটি আমাদের সবার জন্যই আনন্দের উপলক্ষ। এই মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ায় যে কী হচ্ছে, এর অল্পটাই অনুমান করতে পারছি। গত এক মাস ধরে ক্রোয়াটরা নিজেদের সমস্যাগুলো সরিয়ে রেখে আমাদের অনুসরণ করছে শুধু। তা কাল বিশ্বকাপ ফাইনালে আমরা জিতি বা হারি—ক্রোয়েশিয়ায় একটা ভূকম্পন হবেই। এটি আমাদের আরো শক্তি জোগাচ্ছে। এই সমর্থক এবং দেশে থাকা ক্রোয়াটরা আমাদের অন্যতম প্রেরণা। আশা করছি, কাল ৪০ লাখ ক্রোয়াট রাস্তায় বেরিয়ে এসে উদ্‌যাপন করবে। সেটি ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা যেভাবে উদ্‌যাপন করে, তা-ও হয়তো ছাড়িয়ে যাবে।

প্রশ্ন : টানা তিন ম্যাচে ১২০ মিনিট করে খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। আপনি কী মনে করেন, ফাইনালের আগে বিশ্রাম নেওয়ার যথেষ্ট সময় পেয়েছে দল? কাল দেখলাম পাঁচজন ট্রেনিং করেনি। ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তি কি রয়েছে ক্রোয়েশিয়ার; বিশেষত ফ্রান্স যখন আপনার দলের চেয়ে এক দিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছে?

দালিচ : কাল বিশ্বকাপ ফাইনাল। এই পর্যায়ে আসার জন্য কী পরিমাণ আত্মত্যাগ করতে হয়েছে—তা ফুটবলাররা ভালোভাবেই জানে। ওরা যদি সেখানে খেলার পর্যায়ে না থাকে, তাহলে সেটি বলবে আমাকে। আর প্র্যাকটিস সেশন নিয়ে আলাদা গুরুত্বের কিছু নেই; আমাদের এখন অনুশীলনের কিছু বাকি নেই। বরং ফাইনালের আগে সতেজ হওয়ার জন্য বিশ্রাম প্রয়োজন। দলে ছোটখাটো কিছু ইনজুরি সমস্যা রয়েছে। একই সঙ্গে বেঞ্চেও অসাধারণ সব ফুটবলার বসে আছে, যারা মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে। এই টানা তিন ম্যাচ ১২০ মিনিট খেলার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাই মোটেই উদ্বিগ্ন নই। এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই আমার।

প্রশ্ন : আপনার কোন গুণটি খেলোয়াড়রা সবচেয়ে বেশি সম্মান করে?

দালিচ : আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি সম্মান ও বিশ্বাস। কারণ সাফল্যের এই একটিই পথ। আমি সব সময় খেলোয়াড়দের বন্ধু হিসেবে থাকতে চাই, কারণ সেটিই সাফল্যের একমাত্র পথ। ওরা কোচ হিসেবে আমার ভূমিকাকে সম্মান করে; আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াকে সম্মান করে। বিশ্বকাপে আমরা এসেছি ম্যাচ জয়ের জন্য। কোচে ও খেলোয়াড়দের তাই একে অপরকে সম্মান করতে হয়। এ ছাড়া কোনো সাফল্য সম্ভব নয়। আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক খোলামেলা ও আন্তরিক। এর মাঝে কোনো গোপনীয়তা নেই; কোনো দ্বিধা নেই। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার আগে আমি একটি সিদ্ধান্তও নিই না। জানি না, দীর্ঘ মেয়াদে এটি কেমন কাজ করবে। তবে এভাবে কাজ করায় তা আমাদের একতাবদ্ধ করেছে।

প্রশ্ন : আপনার দলের জন্য এবং ক্লাব ফুটবলেরও যেসব দলে খেলেন মারিও মান্দজুকিচ, সব জায়গায় তিনি স্পেশাল কেন? কী তাঁকে এত মূল্যবান বানিয়েছে?

দালিচ : মারিও অসাধারণ ফুটবলার। ওর ক্যারিয়ার বলছে, যেসব ক্লাবে খেলেছে, সব জায়গায় সর্বস্ব দিয়ে খেলেছে। যখন আমি মারিওকে বললাম, আমাদের দলে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে হবে, ও বলল, ‘কোনো সমস্যা নেই’। যদিও জুভেন্টাসে ও অন্য পজিশনে খেলে। ওই আক্রমণভাগ থেকেই ও প্রথম রক্ষণ শুরু করে। প্রচণ্ড পরিশ্রম করে। আমি খুব আনন্দিত যে মারিও আমাদের হয়ে খেলছে। পৃথিবীর যেকোনো ক্লাব ও জাতীয় দলের জন্য ওর মতো ফুটবলার এক সম্পদ। আশা করছি, কালও মারিও একইভাবে খেলবে।

প্রশ্ন : ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়ার পাঁচ মুখোমুখিতে দুইবার জিতেছে ফ্রান্স; বাকি তিন ম্যাচ ড্র। ক্রোয়েশিয়া জেতেনি কখনো। এই ইতিহাস কাল কিভাবে বদলে দেবেন?

দালিচ : পরিসংখ্যান, ঐতিহ্য, মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল—এসব আমি পাত্তা দিই না। এগুলো থাকেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য। ফাইনালে আমাদের প্রতিপক্ষ কে, তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলব আমরা মুহূর্তটি উপভোগ করার জন্য এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য। ফাইনালে খেলা ক্রোয়েশিয়ার প্রাপ্য। একজন খেলোয়াড় বা কোচের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়ে বড় মুহূর্ত আর কিছু হতে পারে না। আমরা চাই, পুরো বিশ্ব ফাইনালে আমাদের খেলা দেখুক। আমরা নিজেদের সর্বস্ব ঢেলে দেব; ফুটবল উপভোগ করব— এরপর যারা ভালো দল, তারাই না হয় জিতুক। ফাইনালে ফল যাই হোক না কেন, আমি আনন্দিত থাকব; গর্বিত হব। কারণ এটি আমাদের প্রাপ্য। ছেলেরা যেভাবে এই ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে, তাতে ওদের নিয়ে আমি গর্বিত।

ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া

ম্যাচ  ৫   ৫

জয়  ৩   ০

ড্র   ২   ২

হার  ০   ৩

গোল ৯   ৩

 

► ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া এ পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। ফ্রান্স তিনবার জিতেছে। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

► ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ফ্রান্স সপ্তম স্থানে। ক্রোয়েশিয়া রয়েছে বিশতম স্থানে।

► বিশ্বকাপে ফ্রান্স খেলেছে ১৪ বার, ক্রোয়েশিয়া খেলেছে চারবার।

► বিশ্বকাপে দল দুটি একবার মুখোমুখি হয়েছে। একমাত্র ম্যাচে ফ্রান্স ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল।

► বিশ্বকাপে ফ্রান্স একবার শিরোপা জিতেছে। ক্রোয়েশিয়ার সেরা সাফল্য তৃতীয় স্থান।

► সেমিফাইনালে ফ্রান্স বেলজিয়ামকে এবং ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে।



মন্তব্য