kalerkantho


সাফল্য আসে খেলোয়াড়দের হাত ধরেই

১৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সাফল্য আসে খেলোয়াড়দের হাত ধরেই

একজনের মুকুটে বিশ্বজয়ের পালক আছে, অন্যজনের দল এবারই প্রথম উঠে এসেছে ফাইনালে। কাকতালীয়ভাবে দুজনের ফুটবল আনন্দ মিলে আছে ইতিহাসের এক বাঁকে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফ্রান্স জিতেছিল দিদিয়ের দেশমের নেতৃত্বে। সেবারই প্রথম সেমিফাইনালে খেলেছিল ক্রোয়েশিয়া, যে কৃতিত্ব টপকে এবার শিরোপা থেকে এক ম্যাচ দূরে তারা। ক্রোয়াট কোচ জ্লাতকো দালিচ সেই স্বপ্নের কথাই গতকাল বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে। অধিনায়ক এবং কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ের ইচ্ছা তো থাকবেই দেশমের। ফাইনালের দুই কোচের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন নোমান মোহাম্মদ

 

প্রশ্ন : দুই বছর ধরে এই বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হচ্ছিলেন। রাশিয়ায় দল নিয়ে আছেন ছয় সপ্তাহ ধরে। এই ফাইনালের জন্য তৈরি হচ্ছেন কিভাবে?

দিদিয়ের দেশম : প্রথমত বলতে চাই, এমন ম্যাচের অংশ হতে পারাটা খুব আনন্দের। ফুটবল সংশ্লিষ্ট একজনের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। আমরা এই ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে তিনটি শব্দের ওপর—স্থিরতা, আত্মবিশ্বাস ও মনোযোগ। এই তিন শব্দের ওপর জোর দিয়ে আমরা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ফাইনালের স্তুতি নিচ্ছি।

প্রশ্ন : ১৯ বছরের তরুণ কিলিয়ান এমবাপ্পে দারুণ খেলছেন বিশ্বকাপে। কোচ হিসেবে আপনার কাছ থেকে আলাদা কোনো গুরুত্ব তিনি পাচ্ছেন কি না?

দেশম : হ্যাঁ, কিলিয়ানের বয়স সত্যি কম। কিন্তু ও যে দারুণ প্রতিভাবান, সেটি এরই মধ্যে দেখিয়েছে। আমি ওকে আলাদাভাবে দেখি না। আলাদা করে দেখি না। কিলিয়ান খুব বুদ্ধিমান। ও জানে, কী চায়। সেভাবেই কাজ করে। দলের সবার প্রতি আমার আচরণ সব সময় একই রকম থাকে; সব সময় যে তা ভালো—এমন দাবি করছি না। তবে অন্যদের প্রতি যেমন আচরণ করি, কিলিয়ানের প্রতিও তাই।

প্রশ্ন : ২০১৬ ইউরোর ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হেরেছিল ফ্রান্স। ক্রোয়েশিয়ার তুলনায় আপনার দল অনেক তরুণ।

দেশম : দুই বছর আগের ফ্রান্স দলের চেয়ে এই ফ্রান্স আলাদা। ১৪ জন নতুন খেলোয়াড় এসেছে; তারা ইউরোর পর একটু একটু করে মিশেছে দলের সঙ্গে। তাদের অভিজ্ঞতা কম; কিন্তু সামর্থ্যের কমতি নেই। ক্রোয়েশিয়া দলে আবার অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক। ওরা অনেক দিন ধরে জাতীয় দলে খেলছে একসঙ্গে। কিন্তু এই বিশ্বকাপে এমন ম্যাচে আগেও খেলতে হয়েছে যেখানে প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে অভিজ্ঞ। আমাদের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদের। আমাদের দলে তরুণ খেলোয়াড় অনেক বলেই তা হয়েছে।

প্রশ্ন : ২০ বছর আগে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। এবার কোচ হিসেবে দলকে মাঠে নামাবেন। দুটির পার্থক্য কী?

দেশম : আমি সব সময় বলি, মাঠের সাফল্য নির্ভর করে খেলোয়াড়দের ওপর। কারণ মাঠে নেমে খেলে ওরাই। কোচের ব্যাপার আলাদা। তাঁকে পরিকল্পনা করতে হয়; মানসিকতা নিয়ে ভাবতে হয়। কিন্তু আমি সব সময় বিশ্বাস করি, সাফল্য আসে খেলোয়াড়দের হাত ধরেই।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপ ফাইনালে ঠিক আগে আগে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোন জিনিসটি গুরুত্বপূর্ণ?

দেশম : অনেক কিছু। দেখুন, প্রত্যেক ম্যাচের প্রেক্ষাপট আলাদা। ইউরো ফাইনালে আমাদের বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। এবারের প্রস্তুতিতে সেটিরও ভূমিকা থাকবে। আমি যা দেখি, যা অনুভব করি—কোচ হিসেবে তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে চাই। আমাদের দলে অ্যানালিস্ট রয়েছে। ওরা ক্রোয়েশিয়ার ছয়টি ম্যাচের বিশ্লেষণ করছে। ভিডিও-ছবি সব দেখেই আমরা ফাইনালের প্রস্তুতি নেব।

প্রশ্ন : ইউরোর সেমিফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর আপনার দল আনন্দে ভেসে গিয়েছিল। এবার সেই পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর জন্য কী করেছেন?

দেশম : আমরা আনন্দে ভেসে যাচ্ছি না। তবে ফাইনালে ওঠার তৃপ্তি তো রয়েছেই। আমাদের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনাল সবচেয়ে বড় ম্যাচ। এখানে ছোট ছোট বিষয় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। সব কোচ সব সময় বলেন যেকোনো পরিস্থিতিতে ধীরস্থির থাকতে; আবেগে ভেসে না যেতে। তবু মাঝেমধ্যে অযৌক্তিক কিছু হয়ে যায়। ফুটবলের ব্যাপারটা এমনই। বল কখনো পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়; আবার কখনো ভেতরে ঢুকে যায়। আমরা চেষ্টা করব আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ফাইনাল খেলতে।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে ফ্রান্স এরই মধ্যে খেলেছে লিওনেল মেসি ও এডেন হ্যাজার্ডের বিপক্ষে। কাল ফাইনালে খেলবে লুকা মডরিচের বিপক্ষে। এই ক্রোয়াটের বিপক্ষে পরিকল্পনা করা সহজ কি না, যেহেতু তিনি মাঠে মেসি-হ্যাজার্ডের মতো সচল নন?

দেশম : আমি দুঃখিত, আপনার কথার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না বলে। আপনি যেভাবে মডরিচকে দেখেন, আমি সেভাবে দেখছি না। মাঠে ও ভীষণ সচল। মেসি-হ্যাজার্ডের মতো করে ওকে দেখলে হবে না। দেখতে হবে সামগ্রিকতা দিয়ে। ওই দুজন ফরোয়ার্ড; গোল করেন তাই। মডরিচও কিন্তু গোল করতে পারে; অ্যাসিস্ট করতে পারে। যদিও স্ট্রাইকার নয়, মিডফিল্ডার। যদিও অফেন্সিভ মিডফিল্ডার নয়।

ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া

ম্যাচ  ৫   ৫

জয়  ৩   ০

ড্র   ২   ২

হার  ০   ৩

গোল ৯   ৩

 

► ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া এ পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। ফ্রান্স তিনবার জিতেছে। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

► ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ফ্রান্স সপ্তম স্থানে। ক্রোয়েশিয়া রয়েছে বিশতম স্থানে।

► বিশ্বকাপে ফ্রান্স খেলেছে ১৪ বার, ক্রোয়েশিয়া খেলেছে চারবার।

► বিশ্বকাপে দল দুটি একবার মুখোমুখি হয়েছে। একমাত্র ম্যাচে ফ্রান্স ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল।

► বিশ্বকাপে ফ্রান্স একবার শিরোপা জিতেছে। ক্রোয়েশিয়ার সেরা সাফল্য তৃতীয় স্থান।

► সেমিফাইনালে ফ্রান্স বেলজিয়ামকে এবং ক্রোয়েশিয়া ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে।



মন্তব্য